১২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া ও নিয়মাবলী

রিপোর্টার মোঃ ইব্রাহিম খলিল রুবেল
  • Update Time : ১০:০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৫ Time View

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যরা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জন।
​ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ও সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
​ভোট প্রদানের ধাপ ও নিয়মাবলী
​সংসদ কক্ষে প্রবেশ: নির্ধারিত সময়ে সংসদ কক্ষে প্রবেশ করে ব্যালট পেপার সংগ্রহপূর্বক ভোট প্রদান করতে হবে। ভোটগ্রহণ চলাকালীন পুরো সময় প্রক্রিয়াটি বিরতিহীনভাবে চলবে।
​পরিচয়পত্র সংরক্ষণ: সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় সংসদ সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা বৈধ আইডি কার্ড অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে।
​ব্যালট সংগ্রহ: নিজ আসনে বসার পর সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে নিজের নাম ও বিভক্তি নম্বর সংবলিত ব্যালট পেপার নিতে হবে। এরপর ব্যালটের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়িতে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে তা কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিতে হবে।
​ভোট প্রদান পদ্ধতি: ব্যালট পেপারের যেখানে ভোটারের পূর্ণ স্বাক্ষরের নির্দেশ রয়েছে, সেখানে পূর্ণ নাম লিখতে হবে। পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে নির্দিষ্ট ফাঁকা স্থানেও নিজের পূর্ণ নাম লিখে ভোট সম্পন্ন করতে হবে।
​ব্যালট বাক্সে জমা: পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পর ব্যালট পেপারটি সংসদ কক্ষে রক্ষিত নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে।
​ব্যালট নষ্ট হলে করণীয়: কোনো কারণে ব্যালট পেপার নষ্ট বা ত্রুটিযুক্ত হলে তা বাক্সে ফেলার আগেই নির্বাচনকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। নির্বাচনকর্তা বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
​নির্বাচনী আচরণবিধি ও সহায়তা
​প্রচার নিষিদ্ধ: ভোট গ্রহণের উদ্দেশ্যে সংসদ সদস্যদের বৈঠকে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার, আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ভাষণ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
​সমস্যায় যোগাযোগ: ভোট প্রদান প্রক্রিয়ায় তাৎক্ষণিক কোনো জটিলতা দেখা দিলে সংসদ সদস্যরা চিফ হুইপ অথবা বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের সহায়তা নিতে পারবেন।
​ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা
​ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনা প্রক্রিয়া শুরু হবে। গণনার ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে:
​মোট প্রদত্ত ভোট, বৈধ ও বাতিল ব্যালটের সংখ্যা নির্ধারণ।
​অব্যবহৃত ব্যালট পেপারের হিসাব চূড়ান্তকরণ।
​প্রার্থীদের প্রাপ্ত বৈধ ভোট গণনা।
​গণনা শেষে সর্বাধিক বৈধ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচনকর্তা বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করবেন। পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

​রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া ও নিয়মাবলী

Update Time : ১০:০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যরা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জন।
​ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ও সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
​ভোট প্রদানের ধাপ ও নিয়মাবলী
​সংসদ কক্ষে প্রবেশ: নির্ধারিত সময়ে সংসদ কক্ষে প্রবেশ করে ব্যালট পেপার সংগ্রহপূর্বক ভোট প্রদান করতে হবে। ভোটগ্রহণ চলাকালীন পুরো সময় প্রক্রিয়াটি বিরতিহীনভাবে চলবে।
​পরিচয়পত্র সংরক্ষণ: সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় সংসদ সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা বৈধ আইডি কার্ড অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে।
​ব্যালট সংগ্রহ: নিজ আসনে বসার পর সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে নিজের নাম ও বিভক্তি নম্বর সংবলিত ব্যালট পেপার নিতে হবে। এরপর ব্যালটের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়িতে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে তা কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিতে হবে।
​ভোট প্রদান পদ্ধতি: ব্যালট পেপারের যেখানে ভোটারের পূর্ণ স্বাক্ষরের নির্দেশ রয়েছে, সেখানে পূর্ণ নাম লিখতে হবে। পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে নির্দিষ্ট ফাঁকা স্থানেও নিজের পূর্ণ নাম লিখে ভোট সম্পন্ন করতে হবে।
​ব্যালট বাক্সে জমা: পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পর ব্যালট পেপারটি সংসদ কক্ষে রক্ষিত নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে।
​ব্যালট নষ্ট হলে করণীয়: কোনো কারণে ব্যালট পেপার নষ্ট বা ত্রুটিযুক্ত হলে তা বাক্সে ফেলার আগেই নির্বাচনকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। নির্বাচনকর্তা বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
​নির্বাচনী আচরণবিধি ও সহায়তা
​প্রচার নিষিদ্ধ: ভোট গ্রহণের উদ্দেশ্যে সংসদ সদস্যদের বৈঠকে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার, আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ভাষণ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
​সমস্যায় যোগাযোগ: ভোট প্রদান প্রক্রিয়ায় তাৎক্ষণিক কোনো জটিলতা দেখা দিলে সংসদ সদস্যরা চিফ হুইপ অথবা বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের সহায়তা নিতে পারবেন।
​ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা
​ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনা প্রক্রিয়া শুরু হবে। গণনার ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে:
​মোট প্রদত্ত ভোট, বৈধ ও বাতিল ব্যালটের সংখ্যা নির্ধারণ।
​অব্যবহৃত ব্যালট পেপারের হিসাব চূড়ান্তকরণ।
​প্রার্থীদের প্রাপ্ত বৈধ ভোট গণনা।
​গণনা শেষে সর্বাধিক বৈধ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচনকর্তা বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করবেন। পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।