তৈরি পোশাক শিল্পে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি: অসন্তোষ নিরসনে বিচারপতি আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন
- প্রকাশের সময় : ০৩:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 18

তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে চলমান তীব্র অসন্তোষ ও সহিংসতার মুখে ৬ সদস্যের একটি নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আশফাকুর রহমানকে এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে এই বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
মজুরি বোর্ডের সদস্যবৃন্দ
নবগঠিত এই বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে। এ ছাড়া মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে সংশ্লিষ্ট খাতের মনোনীত প্রতিনিধিরা এই বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
বিক্ষোভ ও সহিংসতার চিত্র
গত কয়েক দিন ধরে পোশাক খাতের শ্রমিকরা ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে মিরপুর, সাভারের আশুলিয়া ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে আসছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার শ্রমিকদের শান্ত থাকার এবং কাজে যোগদানের আহ্বান জানানো হলেও বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন সহিংস রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।
নাশকতা ও উসকানির আশঙ্কা
শ্রমিক অসন্তোষের আড়ালে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সাধারণ শ্রমিকরা মূলত নায্য অধিকার ও জীবযাত্রার ব্যয় মেটানোর তাগিদে রাজপথে নামলেও একটি কুচক্রী মহল এই পরিস্থিতিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পতিত আওয়ামী লীগ ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং দেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে অস্থিতিশীল করতে পর্দার আড়াল থেকে উসকানি দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শ্রমিকরা সাধারণত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলেও হঠাৎ এই সহিংস আচরণে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকারের পদক্ষেপ ও আহ্বান
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকদের নায্য দাবি পূরণে সরকার আন্তরিক এবং মজুরি বোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব পক্ষের সাথে আলোচনা করে একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করবে।
একই সাথে, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং নেপথ্যে কারা নাশকতা চালাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে কঠোর গোয়েন্দা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকার সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে, মজুরি বোর্ড গঠনের পর শ্রমিকরা শান্ত হয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাবেন এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও মালিকপক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।




















