মির্জাপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপিত: সফল মৎস্যচাষি হিসেবে প্রথম পুরস্কার পেলেন এম. এম. পারভেজ
- Update Time : ০৩:২৯:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ৪০ Time View

সমৃদ্ধ মৎস্যখাত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬। এ উপলক্ষে মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা মিলনায়তনে এক উদ্বোধনী সভা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাস্তবায়নে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মির্জাপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ভিপি মো. হযরত আলী মিঞা; তিনি টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জহিরুল আলম।
অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মির্জাপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বাঁশতৈল ইউনিয়নের উত্তর পেকুয়া গ্রামের কৃতি সন্তান এম. এম. পারভেজকে (মো. মাসুদ পারভেজ) ২০২৬ সালের উপজেলার ‘সফল মৎস্যচাষি’ হিসেবে প্রথম পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। আমন্ত্রিত অতিথিরা তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন। তাঁর এই সাফল্যে বাঁশতৈল ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকেও তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সফল মৎস্যচাষি এম. এম. পারভেজ উত্তর পেকুয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা আলহাজ্ব জাফর আলী মিয়া এবং মাতা পান্না বেগম। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের সাথে মাছ চাষ করে আসছেন।
বর্তমানে তিনি মিশ্র পদ্ধতিতে আধুনিক উপায়ে মাছ চাষ করছেন। তাঁর অধীনে মোট দুটি পুকুর রয়েছে; যার একটি ১৩৫ শতাংশ আয়তনের নিজস্ব মালিকানাধীন এবং অন্যটি ১৩৭ শতাংশ আয়তনের লিজ নেওয়া পুকুর। দীর্ঘ দুই দশক ধরে এই বিশাল জলাশয়ে সফলভাবে মাছ চাষ করে তিনি স্থানীয় অর্থনীতি ও আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. হযরত আলী মিঞা বলেন, “এম. এম. পারভেজের মতো পরিশ্রমী উদ্যোক্তাদের এই অসাধারণ সাফল্য আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। দীর্ঘ ২০ বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি যেভাবে মিশ্র পদ্ধতিতে মাছ চাষ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁর এই উদ্যোগ স্থানীয় যুবসমাজের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা।”
পুরস্কার প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় এম. এম. পারভেজ বলেন, “এই সরকারি স্বীকৃতি আমার দীর্ঘ ২০ বছরের শ্রমের সার্থকতা। এই সম্মাননা আমার দায়িত্ব ও কাজের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিল। ভবিষ্যতেও আমি মৎস্য খাতের উন্নয়নে অবদান রেখে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে চাই।”
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ দেশের মৎস্য সম্পদের টেকসই উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।



















