০৮:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেলান্দহে পাতানো মামার প্রেমে পড়ে গৃহবধূ উধাও, পাতানো মামাসহ আটক ২

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১১৫ Time View

​জামালপুরের মেলান্দহে বিয়ের আগের পাতানো মামার প্রলোভনে পড়ে প্রায় পৌনে সাত লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মেলান্দহ থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় জামালপুর সদর থানা এলাকা থেকে অভিযুক্ত গৃহবধূ ও তার পাতানো মামাকে আটক করা হয়েছে।
​থানা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মেলান্দহ উপজেলার ১০ নং ঝাউগড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝাউগড়া গ্রামের মোঃ সুজন মিয়ার (৪৫) সাথে সুমি আক্তারের (২৭) ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। তবে বিয়ের আগে থেকেই সুমি আক্তারের সাথে তার পাতানো মামা মোঃ এমদাদুল ইসলাম ওরফে অরচন মিয়ার (৪৫) সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পরও পাতানো মামা তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন এবং তাকে অনৈতিক সম্পর্কের জন্য ফুসলাতে থাকেন।
​গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় সুযোগ বুঝে পাতানো মামা এমদাদুল ইসলাম সুজন মিয়ার বাড়িতে যান এবং জরুরি কথা আছে বলে সুমি আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে বের হন। ওই দিন রাতে সুমি আক্তার তার শ্বশুরবাড়ি থেকে চুড়ি, চেইন, একাধিক নাকফুল, ডায়মন্ডের নাকফুল ও কানের দুলসহ প্রায় ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে উধাও হন।
​পরবর্তীতে ২৩ অক্টোবর মেলান্দহ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রথমে অভিযুক্ত এমদাদুল ইসলামকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় এমদাদুল মিথ্যা ও নাটকের আশ্রয় নিয়ে পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তবে পরবর্তীতে পুলিশের নিবিড় ও কড়া জেরার মুখে তিনি সত্য স্বীকার করতে বাধ্য হন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর সদর পৌরসভার একটি ভাড়া বাসা থেকে গৃহবধূ সুমি আক্তারকে উদ্ধার করে পুলিশ।
​জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেন যে, আগে থেকে গড়ে ওঠা সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে গৃহবধূকে ফুসলিয়ে এনে তারা ভাড়া বাসায় বাস করছিলেন। একই সাথে সঙ্গে আনা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করার পরিকল্পনাও ছিল তাদের।
​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বামী মোঃ সুজন মিয়া বাদী হয়ে মেলান্দহ থানায় একটি মামলা (মামলা নং-১৬, তারিখ: ২৩/১০/২০২৬, ধারা: ৪২০/৪০৬/৪৭৯/৪৭৮/৩৪) দায়ের করেছেন।
​মেলান্দহ থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মেলান্দহে পাতানো মামার প্রেমে পড়ে গৃহবধূ উধাও, পাতানো মামাসহ আটক ২

Update Time : ০৫:৫১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

​জামালপুরের মেলান্দহে বিয়ের আগের পাতানো মামার প্রলোভনে পড়ে প্রায় পৌনে সাত লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মেলান্দহ থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় জামালপুর সদর থানা এলাকা থেকে অভিযুক্ত গৃহবধূ ও তার পাতানো মামাকে আটক করা হয়েছে।
​থানা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মেলান্দহ উপজেলার ১০ নং ঝাউগড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝাউগড়া গ্রামের মোঃ সুজন মিয়ার (৪৫) সাথে সুমি আক্তারের (২৭) ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। তবে বিয়ের আগে থেকেই সুমি আক্তারের সাথে তার পাতানো মামা মোঃ এমদাদুল ইসলাম ওরফে অরচন মিয়ার (৪৫) সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পরও পাতানো মামা তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন এবং তাকে অনৈতিক সম্পর্কের জন্য ফুসলাতে থাকেন।
​গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় সুযোগ বুঝে পাতানো মামা এমদাদুল ইসলাম সুজন মিয়ার বাড়িতে যান এবং জরুরি কথা আছে বলে সুমি আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে বের হন। ওই দিন রাতে সুমি আক্তার তার শ্বশুরবাড়ি থেকে চুড়ি, চেইন, একাধিক নাকফুল, ডায়মন্ডের নাকফুল ও কানের দুলসহ প্রায় ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে উধাও হন।
​পরবর্তীতে ২৩ অক্টোবর মেলান্দহ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রথমে অভিযুক্ত এমদাদুল ইসলামকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় এমদাদুল মিথ্যা ও নাটকের আশ্রয় নিয়ে পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তবে পরবর্তীতে পুলিশের নিবিড় ও কড়া জেরার মুখে তিনি সত্য স্বীকার করতে বাধ্য হন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর সদর পৌরসভার একটি ভাড়া বাসা থেকে গৃহবধূ সুমি আক্তারকে উদ্ধার করে পুলিশ।
​জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেন যে, আগে থেকে গড়ে ওঠা সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে গৃহবধূকে ফুসলিয়ে এনে তারা ভাড়া বাসায় বাস করছিলেন। একই সাথে সঙ্গে আনা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করার পরিকল্পনাও ছিল তাদের।
​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বামী মোঃ সুজন মিয়া বাদী হয়ে মেলান্দহ থানায় একটি মামলা (মামলা নং-১৬, তারিখ: ২৩/১০/২০২৬, ধারা: ৪২০/৪০৬/৪৭৯/৪৭৮/৩৪) দায়ের করেছেন।
​মেলান্দহ থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।