০২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাহিদার চার গুণেরও বেশি মাছ উৎপাদন, মৎস্য উৎপাদনে এগিয়ে মনিরামপুর!

শাহিনুর ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধি:
  • Update Time : ১১:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৯ Time View

ভবদহের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও কপোতাক্ষের অববাহিকা একসময় মণিরামপুরের মানুষের জন্য ছিল দুর্ভোগের কারণ। সেই জলই এখন অনেকের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। নদী, বিল, বাওড়, পুকুর ও মাছের ঘেরকে কাজে লাগিয়ে যশোরের মণিরামপুরে স্থানীয় চাহিদার চার গুণেরও বেশি মাছ উৎপাদন হচ্ছে। এমনকি দেশের কয়েকটি জেলার মোট উৎপাদনের চেয়েও বেশি মাছ উৎপাদিত হচ্ছে এ উপজেলায়। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪৪৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মণিরামপুরে রয়েছে তিনটি নদী, ১২টি খাল, ১৩টি বিল, পাঁচটি বাওড়, প্রায় পাঁচ হাজার পুকুর ও ১১ হাজার মৎস্য ঘের। প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জলাশয়ে বছরে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩৯ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। বিপরীতে উপজেলার স্থানীয় চাহিদা মাত্র ৯ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন। ফলে উদ্বৃত্ত মাছ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে।
পাবদা, শিং, মাগুর, টেংরা, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, রুই, কাতলা, মৃগেল, গ্রাসকার্প, কমন কার্প ও গলদা চিংড়িসহ নানা প্রজাতির মাছের চাষ হচ্ছে এখানে। কৃষিনির্ভর মানুষের একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার পথ তৈরি করেছেন।
সফল মৎস্য চাষি আব্দুল হালিম বলেন, “একসময় ভবদহের পানি আমাদের জন্য ছিল কষ্টের নাম। এখন সেই পানিকে কাজে লাগিয়ে মাছ চাষ করে সংসার চলছে, কর্মসংস্থান হচ্ছে। সঠিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেলে মণিরামপুরের মাছ চাষ আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।”
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, “মণিরামপুরে মৎস্য চাষ এখন শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, এটি একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, নিরাপদ মাছ উৎপাদন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মৎস্য দপ্তর নিয়মিত কাজ করছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন বলেন, “মণিরামপুরের মৎস্য সম্পদ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। আত্মকর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতা সৃষ্টিতে মাছ চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের নানা উদ্যোগে এ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।” মৎস্যজীবী ও চাষিরা জানান, দপ্তরের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয় চাষিদের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহের কারণে উৎপাদনে ধারাবাহিক সাফল্য এসেছে। ফলে একসময় যে জলাবদ্ধতা ছিল মণিরামপুরের মানুষের অভিশাপ, সেই জলই এখন অনেকের জীবনে হয়ে উঠেছে সম্ভাবনার নতুন ঠিকানা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

চাহিদার চার গুণেরও বেশি মাছ উৎপাদন, মৎস্য উৎপাদনে এগিয়ে মনিরামপুর!

Update Time : ১১:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ভবদহের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও কপোতাক্ষের অববাহিকা একসময় মণিরামপুরের মানুষের জন্য ছিল দুর্ভোগের কারণ। সেই জলই এখন অনেকের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। নদী, বিল, বাওড়, পুকুর ও মাছের ঘেরকে কাজে লাগিয়ে যশোরের মণিরামপুরে স্থানীয় চাহিদার চার গুণেরও বেশি মাছ উৎপাদন হচ্ছে। এমনকি দেশের কয়েকটি জেলার মোট উৎপাদনের চেয়েও বেশি মাছ উৎপাদিত হচ্ছে এ উপজেলায়। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪৪৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মণিরামপুরে রয়েছে তিনটি নদী, ১২টি খাল, ১৩টি বিল, পাঁচটি বাওড়, প্রায় পাঁচ হাজার পুকুর ও ১১ হাজার মৎস্য ঘের। প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জলাশয়ে বছরে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩৯ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। বিপরীতে উপজেলার স্থানীয় চাহিদা মাত্র ৯ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন। ফলে উদ্বৃত্ত মাছ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে।
পাবদা, শিং, মাগুর, টেংরা, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, রুই, কাতলা, মৃগেল, গ্রাসকার্প, কমন কার্প ও গলদা চিংড়িসহ নানা প্রজাতির মাছের চাষ হচ্ছে এখানে। কৃষিনির্ভর মানুষের একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার পথ তৈরি করেছেন।
সফল মৎস্য চাষি আব্দুল হালিম বলেন, “একসময় ভবদহের পানি আমাদের জন্য ছিল কষ্টের নাম। এখন সেই পানিকে কাজে লাগিয়ে মাছ চাষ করে সংসার চলছে, কর্মসংস্থান হচ্ছে। সঠিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেলে মণিরামপুরের মাছ চাষ আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।”
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, “মণিরামপুরে মৎস্য চাষ এখন শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, এটি একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, নিরাপদ মাছ উৎপাদন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মৎস্য দপ্তর নিয়মিত কাজ করছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন বলেন, “মণিরামপুরের মৎস্য সম্পদ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। আত্মকর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতা সৃষ্টিতে মাছ চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের নানা উদ্যোগে এ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।” মৎস্যজীবী ও চাষিরা জানান, দপ্তরের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয় চাষিদের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহের কারণে উৎপাদনে ধারাবাহিক সাফল্য এসেছে। ফলে একসময় যে জলাবদ্ধতা ছিল মণিরামপুরের মানুষের অভিশাপ, সেই জলই এখন অনেকের জীবনে হয়ে উঠেছে সম্ভাবনার নতুন ঠিকানা।