০৭:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনলাইন জুয়ার বিষাক্ত ছোবলে নিঃস্ব পরিবার:

খন্দকার রাজিউল মতীন ধ্রুব মির্জাপুর উপজেলা প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৫:০২:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৬ Time View

প্রয়োজন যুগোপযোগী আইন ও কঠোর প্রতিরোধ
​দেশের তরুণ ও যুবসমাজের বড় একটি অংশ বর্তমানে ‘অনলাইন জুয়া’ বা ‘ডিজিটাল বেটিং’ নামের এক মারাত্মক মরণনেশায় আক্রান্ত। প্রযুক্তির অপব্যবহার ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতাকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা এই ফাঁদে পড়ে প্রতিদিন নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো মানুষ, খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে অসংখ্য পরিবার।
​চটকদার ফাঁদ ও টাকা পাচার
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বেটিং সাইট এবং অ্যাপের মাধ্যমে দেশজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে জুয়ার এই জাল। দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভন ও চটকদার বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মজীবীরাও এতে জড়াচ্ছেন। দেশীয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ব্যবহার করে এই চক্রের মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে।
​সামাজিক বিপর্যয় ও অপরাধ প্রবণতা
এই আসক্তি কেবল আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, রূপ নিয়েছে মারাত্মক সামাজিক ব্যাধিতে:
​জুয়ার অর্থ জোগাড় করতে তরুণরা চুরি, ছিনতাই ও মাদক কারবারের মতো অপরাধে জড়াচ্ছে।
​দেনার দায়ে পারিবারিক কলহ, বিবাহবিচ্ছেদ এবং আশঙ্কাজনক হারে আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে।
​একজন সদস্যের আসক্তির কারণে পুরো পরিবার অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে ধ্বংসের মুখে পড়ছে।
​আইনের সীমাবদ্ধতা ও নজরদারির ঘাটতি
দেশে প্রচলিত ১৮৬৭ সালের ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন’ অত্যন্ত প্রাচীন, যেখানে ডিজিটাল বা অনলাইন জুয়ার বিষয়টি অনুপস্থিত। সাইবার আইনের আওতায় কিছু সাইট সাময়িক ব্লক করা হলেও অপরাধীরা ভিপিএন ও নিত্যনতুন ডোমেইন ব্যবহার করে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
​প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
​যুগোপযোগী আইন: অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী, এজেন্ট, বিজ্ঞাপনদাতা ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান রেখে নতুন ‘অনলাইন জুয়া প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়ন।
​প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ: বিটিআরসি কর্তৃক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অবৈধ বেটিং সাইট ও অ্যাপ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
​লেনদেনে কড়াকড়ি: মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেলগুলোতে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তে কঠোর ট্র্যাকিং ও মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা।
​অনলাইন জুয়া নামের এই নীরব ঘাতক থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি অপূরণীয় রূপ নেবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

অনলাইন জুয়ার বিষাক্ত ছোবলে নিঃস্ব পরিবার:

Update Time : ০৫:০২:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

প্রয়োজন যুগোপযোগী আইন ও কঠোর প্রতিরোধ
​দেশের তরুণ ও যুবসমাজের বড় একটি অংশ বর্তমানে ‘অনলাইন জুয়া’ বা ‘ডিজিটাল বেটিং’ নামের এক মারাত্মক মরণনেশায় আক্রান্ত। প্রযুক্তির অপব্যবহার ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতাকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা এই ফাঁদে পড়ে প্রতিদিন নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো মানুষ, খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে অসংখ্য পরিবার।
​চটকদার ফাঁদ ও টাকা পাচার
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বেটিং সাইট এবং অ্যাপের মাধ্যমে দেশজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে জুয়ার এই জাল। দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভন ও চটকদার বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মজীবীরাও এতে জড়াচ্ছেন। দেশীয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ব্যবহার করে এই চক্রের মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে।
​সামাজিক বিপর্যয় ও অপরাধ প্রবণতা
এই আসক্তি কেবল আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, রূপ নিয়েছে মারাত্মক সামাজিক ব্যাধিতে:
​জুয়ার অর্থ জোগাড় করতে তরুণরা চুরি, ছিনতাই ও মাদক কারবারের মতো অপরাধে জড়াচ্ছে।
​দেনার দায়ে পারিবারিক কলহ, বিবাহবিচ্ছেদ এবং আশঙ্কাজনক হারে আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে।
​একজন সদস্যের আসক্তির কারণে পুরো পরিবার অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে ধ্বংসের মুখে পড়ছে।
​আইনের সীমাবদ্ধতা ও নজরদারির ঘাটতি
দেশে প্রচলিত ১৮৬৭ সালের ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন’ অত্যন্ত প্রাচীন, যেখানে ডিজিটাল বা অনলাইন জুয়ার বিষয়টি অনুপস্থিত। সাইবার আইনের আওতায় কিছু সাইট সাময়িক ব্লক করা হলেও অপরাধীরা ভিপিএন ও নিত্যনতুন ডোমেইন ব্যবহার করে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
​প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
​যুগোপযোগী আইন: অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী, এজেন্ট, বিজ্ঞাপনদাতা ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান রেখে নতুন ‘অনলাইন জুয়া প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়ন।
​প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ: বিটিআরসি কর্তৃক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অবৈধ বেটিং সাইট ও অ্যাপ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
​লেনদেনে কড়াকড়ি: মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেলগুলোতে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তে কঠোর ট্র্যাকিং ও মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা।
​অনলাইন জুয়া নামের এই নীরব ঘাতক থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি অপূরণীয় রূপ নেবে।