ভূরুঙ্গামারীতে ডিলার পয়েন্টে ভাঙচুর ও সার বিতর্কের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত
- Update Time : ০৯:২৭:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৬ Time View

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পর্যাপ্ত সার না পেয়ে কৃষকদের একটি ডিলার পয়েন্টের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও অপরাধ দমনে বিশেষ বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে সারের দাবিতে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিলখুড়ি ইউনিয়নের ডিলার ‘শাহ আমানত ট্রেডার্স’-এর অনুকূলে সারের মোট বরাদ্দ ছিল ১৩২০ বস্তা, যার মধ্যে গুদামে মজুদ ছিল ৩৪০ বস্তা। তবে ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ পেলেও তা কৃষকদের মাঝে বিতরণে গড়িমসি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার দিন সকাল থেকে ডিলার পয়েন্টে দুই শতাধিক কৃষক সারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেন। কিন্তু ডিলার পয়েন্ট না খোলায় এবং সার না পাওয়ার চরম শঙ্কা তৈরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ কৃষকেরা গুদামের দরজা ভেঙে ১৯০ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে চলে যান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবশিষ্ট সার রক্ষা করে। পুলিশের তৎপরতার মুখে এ পর্যন্ত ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন এবং বাকি সার উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ জানান, তিনি সারাদিন জেলা পর্যায়ের মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে অবগত ছিলেন না। অন্যদিকে ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিমুদ্দিন বলেন, ওই ইউনিয়নে সারের চাহিদা প্রায় চার হাজার বস্তা, বিপরীতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ১৩২০ বস্তা এবং এর উত্তোলনও ছিল কম। কৃষকরা সার না পাওয়ার আশঙ্কায় গুদাম থেকে সার নিয়ে যায়। পুলিশ খবর পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং কিছু সার উদ্ধার করা হয়েছে, বাকিগুলো উদ্ধারে অভিযান চলছে। এ ছাড়া এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে সংযোগটি কেটে দেন।
ডিলার পয়েন্টে সার নিয়ে উত্তেজনাকর এই ঘটনার ঠিক পরদিন সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ভূরুঙ্গামারী থানার উদ্যোগে এক বিশেষ “উঠান বৈঠক ও বিট পুলিশিং সভা” অনুষ্ঠিত হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মাদক, অনলাইন জুয়া বা ক্যাসিনো, সাইবার বুলিং, চুরি, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক অপরাধ কঠোর হাতে দমনের লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়। ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, পিপিএম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মন্ডল, সদস্য সচিব সহিদুল ইসলাম আকন্দসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ভূরুঙ্গামারী থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা।
সভায় বক্তারা যুবসমাজকে রক্ষা করতে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন কঠোর বার্তা ও দিকনির্দেশনা দেন। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদক এবং অনলাইন জুয়া বা ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর নজরদারি রাখবে বলে জানানো হয় এবং মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়িদের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি নারী ও মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইভটিজিং ও সাইবার বুলিংয়ের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এছাড়া শিক্ষক ও ইমামরা তাদের বক্তব্যে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চার পরামর্শ দেন এবং এলাকায় চুরি-ডাকাতি রোধে পাড়া-মহল্লায় নৈশপ্রহরার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ বা যেকোনো জটিলতা হানাহানি না করে আইনানুগ উপায়ে সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জনগণ ও পুলিশের সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি করে অপরাধ দমনে বিট পুলিশিংয়ের কার্যকারিতা তুলে ধরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, পুলিশ একা অপরাধ দমন করতে পারবে না, এর জন্য জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”সভা শেষে তিনি স্থানীয় সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।



















