০২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষিরতলা আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও অবদান

মোঃ জাকি উল্লাহ রায়গঞ্জ উপজেলা প্রতিবেদক সিরাজগঞ্জ
  • Update Time : ১০:৪২:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৩৩ Time View

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। একটি সমাজের উন্নতির মূল ভিত্তি তৈরি হয় প্রাথমিক শিক্ষার হাত ধরে। অথচ আশির দশকেও সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ক্ষিরতলা গ্রামে ছিল না কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়।

শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে আলোর দিশারী হয়ে আবির্ভূত হন কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ও শালিয়াগাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক, বীর পুরুষ মরহুম ফতুহুর রহমান (বিএ, বিটি)। তাঁর মহান ত্যাগ ও অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ক্ষিরতলা আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’।

১৯৮৩ সালের দিকে ক্ষিরতলা গ্রামে শিক্ষার সুবাতাস ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে মরহুম ফতুহুর রহমান (বিএ, বিটি) নিজ উদ্যোগে সামনে এগিয়ে আসেন। অবহেলিত ও বিশেষ করে আদিবাসী শিশুদের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে উপলব্ধি করে তিনি নিজের জমি ও অর্থ দান করেন। কোনো সরকারি অনুদান বা বাহ্যিক সাহায্য ছাড়াই তিলে তিলে, একাই এই প্রতিষ্ঠানের স্বপ্ন বুনেছিলেন তিনি। তাঁর অদম্য ইচ্ছা এবং পরিশ্রমের ফলেই অজপাড়াগাঁয়ে শিক্ষার একটি মজবুত ভিত্তি গড়ে ওঠে।

বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ক্ষিরতলা ও আশপাশের এলাকার শিশুদের, বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের শিক্ষার প্রসারে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে আসছে। যেসব শিশু কোনোদিন স্কুলের মুখ দেখত না, তারা শিক্ষার আলো পেতে শুরু করে। পরবর্তীতে এই বেসরকারী বিদ্যালয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়, যা এর স্থায়িত্ব ও গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

আজ ক্ষিরতলা আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষার কেন্দ্র নয়, এটি মরহুম ফতুহুর রহমান (বিএ, বিটি) এর নিঃস্বার্থ সমাজসেবা ও ত্যাগের এক অমর প্রতীক। তাঁর এই মহান সৃষ্টি অঞ্চলটির হাজারো শিশুর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করে চলেছে। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তাঁর এই অবদান এলাকার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক তোরাব আলী বলেন, মরহুম ফতুহুর রহমান (বিএ, বিটি) এর মূল উদ্দেশ্য ছিল এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি শিশুর কাছে মানসম্মত ও মূল্যবোধ ভিত্তিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। তিনি বিশ্বাস করতেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনে একটি আদর্শ ও উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বদরুজ্জোহা বলেন, মরহুম ফতুহুর রহমান (বিএ, বিটি) শুধু সনদ অর্জনের জন্য বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেননি, বরং এটি একজন শিক্ষার্থীর অন্তরের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ও সৎ চরিত্র গঠনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, মরহুম ফতুহুর রহমান (বিএ বিটি) এর প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠ টি জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রেখে চলেছে। আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে মানবিক গুণাবলী, সততা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা।”

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ক্ষিরতলা আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও অবদান

Update Time : ১০:৪২:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। একটি সমাজের উন্নতির মূল ভিত্তি তৈরি হয় প্রাথমিক শিক্ষার হাত ধরে। অথচ আশির দশকেও সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ক্ষিরতলা গ্রামে ছিল না কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়।

শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে আলোর দিশারী হয়ে আবির্ভূত হন কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ও শালিয়াগাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক, বীর পুরুষ মরহুম ফতুহুর রহমান (বিএ, বিটি)। তাঁর মহান ত্যাগ ও অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ক্ষিরতলা আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’।

১৯৮৩ সালের দিকে ক্ষিরতলা গ্রামে শিক্ষার সুবাতাস ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে মরহুম ফতুহুর রহমান (বিএ, বিটি) নিজ উদ্যোগে সামনে এগিয়ে আসেন। অবহেলিত ও বিশেষ করে আদিবাসী শিশুদের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে উপলব্ধি করে তিনি নিজের জমি ও অর্থ দান করেন। কোনো সরকারি অনুদান বা বাহ্যিক সাহায্য ছাড়াই তিলে তিলে, একাই এই প্রতিষ্ঠানের স্বপ্ন বুনেছিলেন তিনি। তাঁর অদম্য ইচ্ছা এবং পরিশ্রমের ফলেই অজপাড়াগাঁয়ে শিক্ষার একটি মজবুত ভিত্তি গড়ে ওঠে।

বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ক্ষিরতলা ও আশপাশের এলাকার শিশুদের, বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের শিক্ষার প্রসারে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে আসছে। যেসব শিশু কোনোদিন স্কুলের মুখ দেখত না, তারা শিক্ষার আলো পেতে শুরু করে। পরবর্তীতে এই বেসরকারী বিদ্যালয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়, যা এর স্থায়িত্ব ও গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

আজ ক্ষিরতলা আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষার কেন্দ্র নয়, এটি মরহুম ফতুহুর রহমান (বিএ, বিটি) এর নিঃস্বার্থ সমাজসেবা ও ত্যাগের এক অমর প্রতীক। তাঁর এই মহান সৃষ্টি অঞ্চলটির হাজারো শিশুর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করে চলেছে। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তাঁর এই অবদান এলাকার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক তোরাব আলী বলেন, মরহুম ফতুহুর রহমান (বিএ, বিটি) এর মূল উদ্দেশ্য ছিল এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি শিশুর কাছে মানসম্মত ও মূল্যবোধ ভিত্তিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। তিনি বিশ্বাস করতেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনে একটি আদর্শ ও উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বদরুজ্জোহা বলেন, মরহুম ফতুহুর রহমান (বিএ, বিটি) শুধু সনদ অর্জনের জন্য বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেননি, বরং এটি একজন শিক্ষার্থীর অন্তরের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ও সৎ চরিত্র গঠনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, মরহুম ফতুহুর রহমান (বিএ বিটি) এর প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠ টি জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রেখে চলেছে। আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে মানবিক গুণাবলী, সততা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা।”