০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আত্মসাতের টাকা ফেরতের শর্তে বিতর্কিত সাবেক অধ্যক্ষকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত

সৌরভ মিয়া দোয়ারা বাজার উপজেলা প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৩:৩৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৬ Time View

আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লিয়াকতগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের বিতর্কিত প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদিরকে পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটি। প্রতিষ্ঠানের আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে তাকে পদে ফেরানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে কমিটির সভাপতি পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার(৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয় অফিসকক্ষে এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিন শর্তে আব্দুল কাদিরকে পুনর্বহালের রেজুলেশন গৃহীত হয়।

গৃহীত শর্তসমূহ হলো: ১. তদন্ত কমিটি কর্তৃক চিহ্নিত আত্মসাৎকৃত পাওনা টাকা আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা প্রদান করতে হবে। ২. রেজুলেশনের ‘ঙ’ নম্বর অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি না হওয়ায় পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেট কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির অডিট পর্যালোচনায় অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হলে, তা বিনা বাক্যে পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবেন। ৩. ব্যাংকে টাকা জমার রসিদ বর্তমান সভাপতির নিকট দাখিল করার পরই কেবল পুনর্বহালের আনুষ্ঠানিক পত্র প্রদান করা হবে। এর আগে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তৎকালীন উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে ২৯ লক্ষ টাকার কোনো হিসাব না পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং স্থায়ী বরখাস্তের জন্য সিলেট শিক্ষাবোর্ডে সুপারিশ পাঠানো হয়। পরবর্তীতে বোর্ড নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির প্রতিবেদন দাখিলের পরই তড়িঘড়ি করে এই পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয় এডহক কমিটি।

তবে সম্পূর্ণ আর্থিক দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেছেন, “আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বহাল করা হয়েছে।”

যেখানে পাওনা টাকা ফেরতের শর্তে পুনর্বহাল করা হচ্ছে, সেখানে “দুর্নীতি প্রমাণিত হয়নি” বলে সভাপতির এমন সাফাই গাওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মেলার পরও আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে শর্তসাপেক্ষে পুনর্বহালের এই সিদ্ধান্তকে দুর্নীতির সাথে আপস হিসেবে দেখছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি বিস্তারিত অবগত নই। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

৪

আত্মসাতের টাকা ফেরতের শর্তে বিতর্কিত সাবেক অধ্যক্ষকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত

Update Time : ০৩:৩৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লিয়াকতগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের বিতর্কিত প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদিরকে পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটি। প্রতিষ্ঠানের আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে তাকে পদে ফেরানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে কমিটির সভাপতি পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার(৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয় অফিসকক্ষে এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিন শর্তে আব্দুল কাদিরকে পুনর্বহালের রেজুলেশন গৃহীত হয়।

গৃহীত শর্তসমূহ হলো: ১. তদন্ত কমিটি কর্তৃক চিহ্নিত আত্মসাৎকৃত পাওনা টাকা আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা প্রদান করতে হবে। ২. রেজুলেশনের ‘ঙ’ নম্বর অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি না হওয়ায় পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেট কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির অডিট পর্যালোচনায় অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হলে, তা বিনা বাক্যে পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবেন। ৩. ব্যাংকে টাকা জমার রসিদ বর্তমান সভাপতির নিকট দাখিল করার পরই কেবল পুনর্বহালের আনুষ্ঠানিক পত্র প্রদান করা হবে। এর আগে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তৎকালীন উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে ২৯ লক্ষ টাকার কোনো হিসাব না পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং স্থায়ী বরখাস্তের জন্য সিলেট শিক্ষাবোর্ডে সুপারিশ পাঠানো হয়। পরবর্তীতে বোর্ড নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির প্রতিবেদন দাখিলের পরই তড়িঘড়ি করে এই পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয় এডহক কমিটি।

তবে সম্পূর্ণ আর্থিক দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেছেন, “আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বহাল করা হয়েছে।”

যেখানে পাওনা টাকা ফেরতের শর্তে পুনর্বহাল করা হচ্ছে, সেখানে “দুর্নীতি প্রমাণিত হয়নি” বলে সভাপতির এমন সাফাই গাওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মেলার পরও আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে শর্তসাপেক্ষে পুনর্বহালের এই সিদ্ধান্তকে দুর্নীতির সাথে আপস হিসেবে দেখছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি বিস্তারিত অবগত নই। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”