প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আখাউড়ায় চলছে পুকুর ভরাট: চরম ঝুঁকিতে রুটি গ্রামের পরিবেশ
- Update Time : ০৬:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৮ Time View

ভ্রাম্যমাণ আদালতের দুই দফা অভিযান ও জরিমানার পরও থামানো যাচ্ছে না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় শতবছরের পুরোনো একটি জলাশয় ভরাটের তাণ্ডব। উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামে প্রশাসনকে কার্যত বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ড্রেজার বসিয়ে অবাধে চলছে এ পুকুর ভরাট। এতে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামের বাসিন্দা মন্নাফ মিয়া তার মালিকানাধীন পুরোনো পুকুরটি ভরাটের উদ্যোগ নেন। ‘জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০’ অনুযায়ী যেকোনো ধরনের পুকুর বা জলাশয় ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও সেই নিয়মের তোয়াক্কা করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ড্রেজার ব্যবসায়ী রাসেল মিয়া ও শেখ শরিফুলের সহায়তায় দূরবর্তী স্থান থেকে পাইপলাইন টেনে ড্রেজারের মাধ্যমে দিন-রাত বালু ও মাটি ফেলে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে পুকুর ভরাটের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন সেখানে দুবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। আদালত সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করার পাশাপাশি ভরাট কাজ সম্পূর্ণ বন্ধের কঠোর নির্দেশ দেন। কিন্তু প্রশাসনের নজরদারির শিথিলতার সুযোগ নিয়ে চক্রটি কিছুদিন কাজ স্থগিত রেখে সম্প্রতি পুনরায় ড্রেজার চালু করে ভরাটের কাজ শুরু করেছে।
বারবার অভিযানের পরও কীভাবে এই অবৈধ কার্যক্রম প্রকাশ্যে চলছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের আশঙ্কা, জলাশয়টি ভরাট হয়ে গেলে এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মারাত্মকভাবে নিচে নেমে যাবে এবং বর্ষায় তৈরি হবে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে পানি সংগ্রহের কোনো বিকল্প উৎসও সেখানে আর অবশিষ্ট থাকবে না।
এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে অবিলম্বে ভরাট বন্ধ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত করে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আইন অমান্য করে পরিবেশ ধ্বংসের এই অপচেষ্টা রুখতে এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ও কঠোর পদক্ষেপের অপেক্ষায় দিন গুনছেন রুটি গ্রামের সাধারণ মানুষ।




















