অনলাইন জুয়ার বিষাক্ত ছোবলে নিঃস্ব পরিবার:
- Update Time : ০৫:০২:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৭ Time View

প্রয়োজন যুগোপযোগী আইন ও কঠোর প্রতিরোধ
দেশের তরুণ ও যুবসমাজের বড় একটি অংশ বর্তমানে ‘অনলাইন জুয়া’ বা ‘ডিজিটাল বেটিং’ নামের এক মারাত্মক মরণনেশায় আক্রান্ত। প্রযুক্তির অপব্যবহার ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতাকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা এই ফাঁদে পড়ে প্রতিদিন নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো মানুষ, খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে অসংখ্য পরিবার।
চটকদার ফাঁদ ও টাকা পাচার
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বেটিং সাইট এবং অ্যাপের মাধ্যমে দেশজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে জুয়ার এই জাল। দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভন ও চটকদার বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মজীবীরাও এতে জড়াচ্ছেন। দেশীয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ব্যবহার করে এই চক্রের মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে।
সামাজিক বিপর্যয় ও অপরাধ প্রবণতা
এই আসক্তি কেবল আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, রূপ নিয়েছে মারাত্মক সামাজিক ব্যাধিতে:
জুয়ার অর্থ জোগাড় করতে তরুণরা চুরি, ছিনতাই ও মাদক কারবারের মতো অপরাধে জড়াচ্ছে।
দেনার দায়ে পারিবারিক কলহ, বিবাহবিচ্ছেদ এবং আশঙ্কাজনক হারে আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে।
একজন সদস্যের আসক্তির কারণে পুরো পরিবার অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে ধ্বংসের মুখে পড়ছে।
আইনের সীমাবদ্ধতা ও নজরদারির ঘাটতি
দেশে প্রচলিত ১৮৬৭ সালের ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন’ অত্যন্ত প্রাচীন, যেখানে ডিজিটাল বা অনলাইন জুয়ার বিষয়টি অনুপস্থিত। সাইবার আইনের আওতায় কিছু সাইট সাময়িক ব্লক করা হলেও অপরাধীরা ভিপিএন ও নিত্যনতুন ডোমেইন ব্যবহার করে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
যুগোপযোগী আইন: অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী, এজেন্ট, বিজ্ঞাপনদাতা ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান রেখে নতুন ‘অনলাইন জুয়া প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়ন।
প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ: বিটিআরসি কর্তৃক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অবৈধ বেটিং সাইট ও অ্যাপ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
লেনদেনে কড়াকড়ি: মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেলগুলোতে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তে কঠোর ট্র্যাকিং ও মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা।
অনলাইন জুয়া নামের এই নীরব ঘাতক থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি অপূরণীয় রূপ নেবে।



















