০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​কোকোপিট ও ট্রে পদ্ধতিতে চারা বানিয়ে সফল খানসামার উদ্যোক্তা মুজাহিদ

মোঃ গোলাপ হোসেন, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৫:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২১ Time View

​খানসামা (দিনাজপুর): কৃষিই বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। আর বর্তমান যুগে কৃষির এই অগ্রগতিকে টেকসই রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর চাষাবাদের বিকল্প নেই। আধুনিক এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সফলতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ৪ নম্বর খামারপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া (কায়াপাড়া) গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম মুজাহিদ।
​তিনি আধুনিক উপায়ে মাটি ছাড়া কেবল ‘কোকোপিট’ (নারিকেলের ছোবড়ার গুঁড়ো) ও ‘সীডলিং ট্রে’ ব্যবহার করে শতভাগ শিকড়যুক্ত সবজির চারা তৈরি করছেন। তাঁর খামারে বর্তমানে লাউ, করলা, বেগুন, মরিচ, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, পেঁপে ও শিমসহ প্রায় সব ধরনের সবজির রোগমুক্ত ও মানসম্মত চারা উৎপাদিত হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের কাছে সুলভ মূল্যে এসব চারা সরবরাহ করায় তারা হাতের কাছেই পাচ্ছেন সময়োপযোগী ও সঠিক জাতের চারা। ফলে রোগবালাইমুক্ত ভালো চারা রোপণ করে ফলন বেশি পাচ্ছেন এবং লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
​মাটিবিহীন এই আধুনিক প্রযুক্তিতে সবজির চারা তৈরি করে মুজাহিদ কেবল নিজেই আত্মনির্ভরশীল হননি, তৈরি করেছেন নতুন কর্মসংস্থানও। বর্তমানে তাঁর খামারে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার বিভিন্ন জাতের সবজির চারা উৎপাদিত হচ্ছে।
​উদ্যোক্তা মুজাহিদুল ইসলাম মুজাহিদ জানান, বর্ষাকালে খোলা জায়গায় সবজির চারা তৈরি করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন। অনেক সময় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে চারায় সরাসরি পানি পড়ে তা পচে নষ্ট হয়ে যায়, যা তাঁকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলে।
​তিনি আরও জানান, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে যদি একটি ‘পলি হাউস’ (Polyhouse)-এর সুযোগ সুবিধা পাওয়া যেত, তবে এই প্রতিকূল আবহাওয়ার ক্ষতি থেকে চারা রক্ষা করা সম্ভব হতো। পলি হাউস থাকলে কৃষকদের যেকোনো সময়ে আরও উন্নত ও গুণগত মানসম্পন্ন চারা সরবরাহ করা সহজ হতো, যার ফলে কৃষকরাও যথাসময়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফসল ফলাতে পারতেন।
​আধুনিক কৃষির প্রচার ও প্রসারে এই তরুণ উদ্যোক্তার উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাই স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষকদের দাবি—কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ যেন দ্রুত নজর দিয়ে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মুজাহিদকে একটি সরকারি পলি হাউস বরাদ্দসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে, যাতে তাঁর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগটি আরও প্রসারিত হতে পারে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

​কোকোপিট ও ট্রে পদ্ধতিতে চারা বানিয়ে সফল খানসামার উদ্যোক্তা মুজাহিদ

Update Time : ০৫:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

​খানসামা (দিনাজপুর): কৃষিই বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। আর বর্তমান যুগে কৃষির এই অগ্রগতিকে টেকসই রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর চাষাবাদের বিকল্প নেই। আধুনিক এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সফলতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ৪ নম্বর খামারপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া (কায়াপাড়া) গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম মুজাহিদ।
​তিনি আধুনিক উপায়ে মাটি ছাড়া কেবল ‘কোকোপিট’ (নারিকেলের ছোবড়ার গুঁড়ো) ও ‘সীডলিং ট্রে’ ব্যবহার করে শতভাগ শিকড়যুক্ত সবজির চারা তৈরি করছেন। তাঁর খামারে বর্তমানে লাউ, করলা, বেগুন, মরিচ, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, পেঁপে ও শিমসহ প্রায় সব ধরনের সবজির রোগমুক্ত ও মানসম্মত চারা উৎপাদিত হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের কাছে সুলভ মূল্যে এসব চারা সরবরাহ করায় তারা হাতের কাছেই পাচ্ছেন সময়োপযোগী ও সঠিক জাতের চারা। ফলে রোগবালাইমুক্ত ভালো চারা রোপণ করে ফলন বেশি পাচ্ছেন এবং লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
​মাটিবিহীন এই আধুনিক প্রযুক্তিতে সবজির চারা তৈরি করে মুজাহিদ কেবল নিজেই আত্মনির্ভরশীল হননি, তৈরি করেছেন নতুন কর্মসংস্থানও। বর্তমানে তাঁর খামারে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার বিভিন্ন জাতের সবজির চারা উৎপাদিত হচ্ছে।
​উদ্যোক্তা মুজাহিদুল ইসলাম মুজাহিদ জানান, বর্ষাকালে খোলা জায়গায় সবজির চারা তৈরি করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন। অনেক সময় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে চারায় সরাসরি পানি পড়ে তা পচে নষ্ট হয়ে যায়, যা তাঁকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলে।
​তিনি আরও জানান, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে যদি একটি ‘পলি হাউস’ (Polyhouse)-এর সুযোগ সুবিধা পাওয়া যেত, তবে এই প্রতিকূল আবহাওয়ার ক্ষতি থেকে চারা রক্ষা করা সম্ভব হতো। পলি হাউস থাকলে কৃষকদের যেকোনো সময়ে আরও উন্নত ও গুণগত মানসম্পন্ন চারা সরবরাহ করা সহজ হতো, যার ফলে কৃষকরাও যথাসময়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফসল ফলাতে পারতেন।
​আধুনিক কৃষির প্রচার ও প্রসারে এই তরুণ উদ্যোক্তার উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাই স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষকদের দাবি—কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ যেন দ্রুত নজর দিয়ে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মুজাহিদকে একটি সরকারি পলি হাউস বরাদ্দসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে, যাতে তাঁর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগটি আরও প্রসারিত হতে পারে।