ঝালকাঠিতে এইচএসসিতে বড় বিপর্যয়: পাসের হার ৩৩.০৫%, জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩৪ জন
- প্রকাশের সময় : ১২:১৮:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 24

২০২৬ সালের প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ঝালকাঠি জেলায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, জেলায় পাসের হার মাত্র ৩৩.০৫ শতাংশ। প্রকাশিত এই ফলাফলে পাসের নিম্ন হার ও প্রত্যাশিত সাফল্য না আসায় জেলাজুড়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর উদ্বেগ ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।
ফলাফলের চিত্র
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর ঝালকাঠি জেলা থেকে মোট ৪ হাজার ৬৯৯ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১ হাজার ৫৫৩ জন। অন্যদিকে, পুরো জেলায় সর্বোচ্চ ফলাফল বা জিপিএ-৫ অর্জন করতে পেরেছে মাত্র ৩৪ জন শিক্ষার্থী।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত কম। শিক্ষাবিদদের মতে, এই হতাশাজনক ফলাফল জেলার শিক্ষার মান, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়নের ওপর নতুন করে ভাবনার তাগিদ দিচ্ছে।
কারণ ও উত্তরণের উপায়: কার কী করণীয়?
ঝালকাঠির শিক্ষার সার্বিক মান উন্নয়ন ও আগামীতে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা:
শিক্ষার্থীদের করণীয়:
পরীক্ষার শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি না নিয়ে সারা বছর ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনা করতে হবে। প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করা, নিয়মিত অনুশীলনী সমাধান, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে আনাই ভালো ফলাফলের মূল চাবিকাঠি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের ভূমিকা:
দুর্বল শিক্ষার্থীদের শুরুতেই চিহ্নিত করে তাদের জন্য বিশেষ ক্লাস বা রেমিডিয়াল ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক নিয়মিত পরীক্ষা নেওয়া, পাঠদানের মান বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যক্তিপর্যায়ে নজরদারি বৃদ্ধির জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকদের দায়িত্ব:
সন্তানদের পড়াশোনার অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করা এবং বাড়িতে পড়ার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা আবশ্যক।
শিক্ষা প্রশাসনের উদ্যোগ:
জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তদারকি বাড়ানো, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষা উপকরণের সংকট দূর করা এবং পাঠদানে শিক্ষকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা:
শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া শিক্ষার এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। এখন থেকেই সুপরিকল্পিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিলে আগামীতে ঝালকাঠি জেলা আবার ভালো ফলাফলের ধারায় ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সচেতন মহল।












