দিনাজপুরে সোলার বিদ্যুতে সেচ, জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে ১৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ৩০ হেক্টর জমিতে সেচের সম্ভাবনা, উপকৃত হবেন ১১৫ কৃষক
- প্রকাশের সময় : ০৮:২০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 21

দিনাজপুর সদর উপজেলার পুনর্ভবা নদীতে সোলার বিদ্যুৎচালিত এলএলপি (লো লিফট পাম্প) প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সেচকাজের পাশাপাশি উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুতের ১৫ কিলোওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ৩০ হেক্টর জমিতে সেচের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং সরাসরি উপকৃত হবেন ১১৫ জন কৃষক।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার ৩ নম্বর ফাজিলপুর ইউনিয়নের পুরুষ্তমাপুর এলাকায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) দিনাজপুর জোনের উদ্যোগে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।
বৃহত্তর দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানি উন্নয়নের মাধ্যমে সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
উদ্বোধন শেষে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন শরিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএমডিএর দিনাজপুর রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহফুজুর রহমান। বিএমডিএর দিনাজপুর জোনের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ফাজিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ফারহান নওরোজ (নুর), ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম, কৃষক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস ও জগতপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান পলাশ।
প্রকল্পটিতে ৪৫টি সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ২০ দশমিক ৭ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫ কিলোওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। সোলার সিস্টেম স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ৩০ লাখ টাকা এবং পাইপলাইনসহ অন্যান্য অবকাঠামোতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা।
১৫ হর্সপাওয়ার বা ১১ কিলোওয়াট ক্ষমতার মোটরচালিত এ পাম্পের পানি সরবরাহক্ষমতা প্রতি সেকেন্ডে ২ কিউসেক। পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৫০০ মিটার।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সৌরবিদ্যুৎ ও প্রচলিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমন্বয়ে সেচ পরিচালিত হওয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করবে এ প্রকল্প। এতে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়বে, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুতের ব্যবহার হ্রাস পাবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
কম খরচে সেচ সুবিধা পাওয়ায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



















