ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬,
২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরসিংদীতে চাকরি করা সভাপতির বেআইনি রিমুভ, শুভর মামলার প্রস্তুতি

Dauler Hossen
  • প্রকাশের সময় : ১০:১৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / 24

বাংলাদেশ মেহনতি মোটরযান চালক শ্রমিক ফেডারেশনের ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সভাপতি এমামুল ইসলামের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন সাংগঠনিক অরাজকতা ও ডিজিটাল হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তিনি স্থায়ীভাবে নরসিংদীতে বসবাস ও পূর্ণকালীন চাকরি করলেও সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ময়মনসিংহের সভাপতির পদ দখল করে রেখেছেন। ফলে ময়মনসিংহের চালকদের বিপদ-আপদে তাকে কখনোই পাশে পাওয়া যায় না।
অথচ মাঠপর্যায়ে দিনরাত সক্রিয় থাকা জনপ্রিয় সহ-সাধারণ সম্পাদক শুভ সরকারকে আজ ৬ই নভেম্বর শুক্রবার রাতে কোনো প্রকার নোটিশ বা কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়ে সংগঠনের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে একতরফা রিমুভ (বহিষ্কার) করেছেন এই ‘অনুপস্থিত’ সভাপতি। রাত ১০টা ২২ মিনিটে সাধারণ সাংগঠনিক বিষয়ে কথা কাটাকাটির মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে, রাত ১০টা ৩৭ মিনিটে গভীর রাতে এই তুঘলকি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা কমিটি বা কেন্দ্রীয় কাউকে না জানিয়ে নেওয়া এই স্বৈর্তান্ত্রিক সিদ্ধান্তে সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এই ডিজিটাল ও সামাজিক মানহানির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী সহ-সাধারণ সম্পাদক শুভ সরকার বলেন,
“যিনি ময়মনসিংহে থাকেনই না, নরসিংদীতে চাকরি করেন, তিনি গভীর রাতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে আমাকে অবৈধভাবে রিমুভ করে শত শত শ্রমিকের সামনে আমার সম্মান ক্ষুণ্ণ করেছেন। আমি এই বিতর্কিত নেতা এবং বেআইনি সিদ্ধান্তের সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ও ৫০৪ ধারাসহ দেশের প্রচলিত সাইবার নিরাপত্তা আইনে আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়েরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা:
আইনজীবীদের মতে, কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এভাবে জনসমক্ষে হেয় করায় অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত সভাপতি দণ্ডবিধির ৫০০ (মানহানি) ও ৫০৪ (শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে অপমান) ধারা এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের মুখে পড়তে পারেন।
সাংগঠনিক আইন ও নিয়মানুযায়ী, যেকোনো নির্বাচিত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অব্যাহতি বা বহিষ্কার করতে হলে প্রথমে কেন্দ্রীয় বা জেলা কমিটির সভায় রেজুলেশন পাস করতে হয় এবং অভিযুক্তকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দিয়ে নির্দিষ্ট সময় দিতে হয়। কোনো একক ব্যক্তির মৌখিক বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সিদ্ধান্ত সাংগঠনিকভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অকার্যকর। স্থানীয় সাধারণ শ্রমিকরা অবিলম্বে এই ‘ভুতুড়ে’ সভাপতিকে বহিষ্কার করে এবং এই বেআইনি রিমুভের সিদ্ধান্ত বাতিল করে মাঠের নেতাদের দিয়ে কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
(বিস্তারিত তথ্য ও প্রমাণের জন্য ভুক্তভোগী শুভ সরকারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে: ০১৭১৬৭০২৯৫৭)

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রিপোর্টারের তথ্য
মোঃ দেলোয়ার হোসেন

মোঃ দেলোয়ার হোসেন

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর

নরসিংদীতে চাকরি করা সভাপতির বেআইনি রিমুভ, শুভর মামলার প্রস্তুতি

প্রকাশের সময় : ১০:১৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ মেহনতি মোটরযান চালক শ্রমিক ফেডারেশনের ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সভাপতি এমামুল ইসলামের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন সাংগঠনিক অরাজকতা ও ডিজিটাল হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তিনি স্থায়ীভাবে নরসিংদীতে বসবাস ও পূর্ণকালীন চাকরি করলেও সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ময়মনসিংহের সভাপতির পদ দখল করে রেখেছেন। ফলে ময়মনসিংহের চালকদের বিপদ-আপদে তাকে কখনোই পাশে পাওয়া যায় না।
অথচ মাঠপর্যায়ে দিনরাত সক্রিয় থাকা জনপ্রিয় সহ-সাধারণ সম্পাদক শুভ সরকারকে আজ ৬ই নভেম্বর শুক্রবার রাতে কোনো প্রকার নোটিশ বা কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়ে সংগঠনের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে একতরফা রিমুভ (বহিষ্কার) করেছেন এই ‘অনুপস্থিত’ সভাপতি। রাত ১০টা ২২ মিনিটে সাধারণ সাংগঠনিক বিষয়ে কথা কাটাকাটির মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে, রাত ১০টা ৩৭ মিনিটে গভীর রাতে এই তুঘলকি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা কমিটি বা কেন্দ্রীয় কাউকে না জানিয়ে নেওয়া এই স্বৈর্তান্ত্রিক সিদ্ধান্তে সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এই ডিজিটাল ও সামাজিক মানহানির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী সহ-সাধারণ সম্পাদক শুভ সরকার বলেন,
“যিনি ময়মনসিংহে থাকেনই না, নরসিংদীতে চাকরি করেন, তিনি গভীর রাতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে আমাকে অবৈধভাবে রিমুভ করে শত শত শ্রমিকের সামনে আমার সম্মান ক্ষুণ্ণ করেছেন। আমি এই বিতর্কিত নেতা এবং বেআইনি সিদ্ধান্তের সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ও ৫০৪ ধারাসহ দেশের প্রচলিত সাইবার নিরাপত্তা আইনে আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়েরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা:
আইনজীবীদের মতে, কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এভাবে জনসমক্ষে হেয় করায় অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত সভাপতি দণ্ডবিধির ৫০০ (মানহানি) ও ৫০৪ (শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে অপমান) ধারা এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের মুখে পড়তে পারেন।
সাংগঠনিক আইন ও নিয়মানুযায়ী, যেকোনো নির্বাচিত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অব্যাহতি বা বহিষ্কার করতে হলে প্রথমে কেন্দ্রীয় বা জেলা কমিটির সভায় রেজুলেশন পাস করতে হয় এবং অভিযুক্তকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দিয়ে নির্দিষ্ট সময় দিতে হয়। কোনো একক ব্যক্তির মৌখিক বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সিদ্ধান্ত সাংগঠনিকভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অকার্যকর। স্থানীয় সাধারণ শ্রমিকরা অবিলম্বে এই ‘ভুতুড়ে’ সভাপতিকে বহিষ্কার করে এবং এই বেআইনি রিমুভের সিদ্ধান্ত বাতিল করে মাঠের নেতাদের দিয়ে কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
(বিস্তারিত তথ্য ও প্রমাণের জন্য ভুক্তভোগী শুভ সরকারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে: ০১৭১৬৭০২৯৫৭)