০৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জাপুরে ১৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণ: রশিদ মিয়ার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

খন্দকার রাজিউল মাতীন ধ্রুব। মির্জাপুর উপজেলা প্রতিনিধি।
  • Update Time : ১০:৫৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৬ Time View

​টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় রশিদ মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়।
​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্ত রশিদ মিয়া মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের বাসিন্দা।
​ঘটনার পটভূমি ও মামলা
​মামলার বিবরণ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান:
​ঘটনার সূচনা: ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুটি পুকুরপাড়ে তার দাদিকে ডাকতে গেলে প্রতিবেশী রশিদ মিয়া দাদির কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি কাউকে প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেন তিনি।
​অন্তঃসত্ত্বা ও সন্তান জন্ম: পরবর্তী সময়ে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে সে বিষয়টি মাকে জানায়। ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়া শিশুটি ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।
​আইনি পদক্ষেপ: ঘটনার পর শিশুটি বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মির্জাপুর থানায় মামলাটি এজাহার হিসেবে গৃহীত হয়।
​বিচার ও রায়
​তদন্তের অংশ হিসেবে নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে রশিদ মিয়া ওই শিশুর জন্মদাতা পিতা হিসেবে প্রমাণিত হন। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।
​মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান এবং আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী একেএম শামীমুল আক্তার।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মির্জাপুরে ১৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণ: রশিদ মিয়ার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Update Time : ১০:৫৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় রশিদ মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়।
​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্ত রশিদ মিয়া মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের বাসিন্দা।
​ঘটনার পটভূমি ও মামলা
​মামলার বিবরণ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান:
​ঘটনার সূচনা: ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুটি পুকুরপাড়ে তার দাদিকে ডাকতে গেলে প্রতিবেশী রশিদ মিয়া দাদির কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি কাউকে প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেন তিনি।
​অন্তঃসত্ত্বা ও সন্তান জন্ম: পরবর্তী সময়ে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে সে বিষয়টি মাকে জানায়। ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়া শিশুটি ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।
​আইনি পদক্ষেপ: ঘটনার পর শিশুটি বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মির্জাপুর থানায় মামলাটি এজাহার হিসেবে গৃহীত হয়।
​বিচার ও রায়
​তদন্তের অংশ হিসেবে নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে রশিদ মিয়া ওই শিশুর জন্মদাতা পিতা হিসেবে প্রমাণিত হন। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।
​মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান এবং আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী একেএম শামীমুল আক্তার।