রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারের, সমাধানের দায়িত্বও তাদের: আইনমন্ত্রী
- প্রকাশের সময় : ০১:৫৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / 34

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের নয়, এটি মিয়ানমারের সমস্যা। তাই এর সমাধানের দায়িত্বও মিয়ানমারকেই নিতে হবে।
রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপের এটিএম শামসুল হক অডিটোরিয়ামে নীতি গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে টেকসই। কৌশলের রূপরেখা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা শীর্ষক জাতীয় নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার ও নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়টি আমাদের চিন্তায় আছে। আন্তর্জাতিক মহলের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার, নাগরিকত্ব ও মর্যাদা নিশ্চিত করা যায় কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের উপায় খুঁজে দেখা হবে। রোহিঙ্গাদের জন্য একটি যৌক্তিক পরিণতি নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সংলাপে রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুতর মানবিক চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের উপদেষ্টা মোহাম্মদ সুফিউর রহমান।
তিনি বলেন, গত দুই বছরে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ২০১৭ সালের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির পর থেকে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে।
মোহাম্মদ সুফিউর রহমান বলেন, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ জন নতুন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এতে কক্সবাজারের আগে থেকেই জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবিরগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়ছে।
তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকটের পাশাপাশি অর্থায়নের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অর্থের অভাবে শরণার্থী শিবিরগুলোতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন সহায়তাকারী সংস্থা তাদের কার্যক্রম সংকুচিত করতে বাধ্য হয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীকে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যাবাসন পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বারবার উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও ২০১৭ সালের পর থেকে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ এবং দেশটির সামরিক জান্তা ও আরাকান আর্মির মধ্যকার সংঘাত সংকট সমাধানের পথ আরও কঠিন করে তুলেছে।


























