সুন্দরগঞ্জে বেপরোয়া কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ৮, ছাগল-গরুকেও কামড়: জলাতঙ্কের নতুন আতঙ্কে এলাকাবাসী
- Update Time : ১০:০৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৭ Time View

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের তিন গ্রামে হঠাৎ কুকুরের কামড়ে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। একই ঘটনায় দুটি গরু ও দুটি ছাগলকেও কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করেছে কুকুরটি। এ ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে কুকুর ও শিয়ালের আক্রমণসহ জলাতঙ্কের নতুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আক্রান্তদের মধ্যে চারজন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বাকিরা পার্শ্ববর্তী পীরগাছা ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের রামধন গ্রামে একটি কুকুর হঠাৎ করে মানুষ ও গবাদিপশুকে কামড়াতে শুরু করে। এরপর কুকুরটি রামধন গ্রাম থেকে জামাল গ্রাম হয়ে দেওডোবা গ্রামে ছুটে গিয়ে পথচারীদের ওপর আক্রমণ চালায়। এ সময় নারী-পুরুষসহ ৮ জন মানুষ এবং দুটি গরু ও দুটি ছাগল আক্রান্ত হয়। পরে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করে কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।
আক্রান্ত ব্যক্তিরা হলেন—রামধন গ্রামের মনোয়ারা বেগম, মো. আতোয়ার রহমান ও মো. আনজু; জামাল গ্রামের মো. জহুরুল ইসলাম, মো. রুবেল মিয়া ও মো. তোফাজ্জল হোসেন এবং দেওডোবা গ্রামের মো. ছবির হোসেন, মো. সোহাগ মিয়া ও মো. আব্দুল হান্নান মিয়া।
ভুক্তভোগী মো. আতোয়ার রহমান ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “আমি বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ কুকুরটি দৌড়ে এসে আমার হাত ও মুখে কামড় বসিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন আমাকে দ্রুত সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।”
খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা মৃত কুকুরটিসহ আক্রান্তদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠায়। একই সঙ্গে আক্রান্ত গবাদিপশুগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে এম ইফতেখারুল ইসলাম জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে গবাদিপশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রতিষেধক টিকা দিয়েছে। কুকুরটির শরীরে জলাতঙ্কের জীবাণু ছিল কি না, তা ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, “কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চারজন হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজনকে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, সুন্দরগঞ্জে বন্য প্রাণী ও কুকুরের উপদ্রব দিন দিন মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের জিগাবাড়ি ও তালুক বেলকা গ্রামে শিয়ালের কামড়ে ৯ জন মানুষ ও দুটি গরু আক্রান্ত হয়, যাদের নমুনায় জলাতঙ্কের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। এছাড়া চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কঞ্চিবাড়ি এবং মে মাসে সর্বানন্দ ইউনিয়নে কুকুরের কামড়ে ৩০ জন আক্রান্ত হন, যার মধ্যে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। একের পর এক এমন ঘটনায় সুন্দরগঞ্জজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।



















