ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬,
১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্দোলনের নামে গাড়ি ভাঙচুর ও শ্রমিক হয়রানি মানা হবে না’: শ্রমিক নেতা ইমরান হোসেন সোহাগ

md afzal Hossain shubo
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৫৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 42

৩ নভেম্বর
রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের পোশাক শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে একদল উগ্রপন্থী ও বহিরাগত নাশকতাকারী মেতে উঠেছে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে। গত কয়েকদিন ধরে সড়ক অবরোধের নামে একের পর এক যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এতে কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত সম্পদ পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে এবং চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছেন সাধারণ গণপরিবহন চালক ও সহকারীরা।
বাস্তব চিত্র: রাজপথে আগুনের লেলিহান শিখা ও সহিংসতা
সরেজমিনে রাজধানীর মিরপুর-১১ ও মিরপুর-২ নম্বর বড়বাগ এলাকা, গাজীপুরের নাওজোর ও ভোগড়া বাইপাস, এবং সাভারের হেমায়েতপুর ও আশুলিয়া এলাকা ঘুরে নাশকতার এক ভয়াবহ ও বাস্তব চিত্র দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট, মূল আন্দোলনকারী সাধারণ পোশাক শ্রমিকদের পেছনে হেলমেট পরিহিত এবং লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল হাতে কিছু বহিরাগত যুবক অতর্কিতে চলন্ত গাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। পেট্রোল ও দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে বাসের ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এমনকি একাধিক গাড়িও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাঙচুর ও আগুনের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, এমনকি মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও।
শ্রমিকদের ওপর নির্মম হয়রানি ও লাঞ্ছনা
আন্দোলনের নামে সবচেয়ে বেশি চরম মূল্য চোকাতে হচ্ছে সাধারণ মেহনতি পরিবহন শ্রমিকদের। দিন এনে দিন খাওয়া এই চালক ও সহকারীদের (হেলপার) ওপর শারীরিক নির্যাতনের স্টিমরোলার চালানো হচ্ছে। জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা, লাঞ্ছিত করা এবং রক্তাক্ত করার ঘটনা এখন নিত্যদিনের চিত্র।
এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘দৈনিক জনতার খবর’-এর কাছে বিশেষ বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ মেহনতি মোটরযান চালক শ্রমিক ফেডারেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা ইমরান হোসেন সোহাগ।
শ্রমিক নেতা ইমরান হোসেন সোহাগ ‘দৈনিক জনতার খবর’-কে বলেন, “পোশাক শ্রমিকদের ন্যায়সংগত আন্দোলনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু আন্দোলনের নামে রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা, আগুন দেওয়া এবং আমাদের সাধারণ ড্রাইভার-হেলপার ভাইদের লাঞ্ছিত করা কোনো দেশের আইনেই সমর্থন করে না। পরিবহন শ্রমিকদের হয়রানি করার অধিকার কারো নেই।”
অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা আটকে অমানবিক পরিস্থিতি
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবরোধ করে রাখায় পুরো ঢাকা শহর স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে অমানবিক দৃশ্য দেখা গেছে হাসপাতালমুখী সড়কগুলোতে। জীবনরক্ষাকারী অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় ভেতরেই অনেক রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ছে। এছাড়া কৃষকদের কাঁচামাল ও পচনশীল পণ্যের গাড়ি আটকে থাকায় পণ্য নষ্ট হয়ে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি ও প্রশাসনের ভূমিকা
সাধারণ পরিবহন শ্রমিকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। বাংলাদেশ মেহনতি মোটরযান চালক শ্রমিক ফেডারেশন-এর পক্ষে শ্রমিক নেতা ইমরান হোসেন সোহাগ administrations-এর প্রতি জোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্দোলনের আড়ালে যারা গাড়ি ভাঙচুর ও নাশকতার সাথে জড়িত, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
‘দৈনিক জনতার খবর’-এর মাধ্যমে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের ধৈর্যকে দুর্বলতা ভাববেন না। অতি দ্রুত চালক ও শ্রমিকদের ওপর হয়রানি এবং গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ বন্ধ করুন। অন্যথায়, দেশের মেহনতি চালক ও শ্রমিক সমাজ নিজেদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় রাজপথে নামতে বাধ্য হবে এবং যেকোনো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে পিছপা হবে না।”

Please Share This Post in Your Social Media

রিপোর্টারের তথ্য
আফজাল হোসেন শুভ

আফজাল হোসেন শুভ

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ

আন্দোলনের নামে গাড়ি ভাঙচুর ও শ্রমিক হয়রানি মানা হবে না’: শ্রমিক নেতা ইমরান হোসেন সোহাগ

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

৩ নভেম্বর
রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের পোশাক শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে একদল উগ্রপন্থী ও বহিরাগত নাশকতাকারী মেতে উঠেছে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে। গত কয়েকদিন ধরে সড়ক অবরোধের নামে একের পর এক যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এতে কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত সম্পদ পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে এবং চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছেন সাধারণ গণপরিবহন চালক ও সহকারীরা।
বাস্তব চিত্র: রাজপথে আগুনের লেলিহান শিখা ও সহিংসতা
সরেজমিনে রাজধানীর মিরপুর-১১ ও মিরপুর-২ নম্বর বড়বাগ এলাকা, গাজীপুরের নাওজোর ও ভোগড়া বাইপাস, এবং সাভারের হেমায়েতপুর ও আশুলিয়া এলাকা ঘুরে নাশকতার এক ভয়াবহ ও বাস্তব চিত্র দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট, মূল আন্দোলনকারী সাধারণ পোশাক শ্রমিকদের পেছনে হেলমেট পরিহিত এবং লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল হাতে কিছু বহিরাগত যুবক অতর্কিতে চলন্ত গাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। পেট্রোল ও দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে বাসের ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এমনকি একাধিক গাড়িও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাঙচুর ও আগুনের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, এমনকি মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও।
শ্রমিকদের ওপর নির্মম হয়রানি ও লাঞ্ছনা
আন্দোলনের নামে সবচেয়ে বেশি চরম মূল্য চোকাতে হচ্ছে সাধারণ মেহনতি পরিবহন শ্রমিকদের। দিন এনে দিন খাওয়া এই চালক ও সহকারীদের (হেলপার) ওপর শারীরিক নির্যাতনের স্টিমরোলার চালানো হচ্ছে। জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা, লাঞ্ছিত করা এবং রক্তাক্ত করার ঘটনা এখন নিত্যদিনের চিত্র।
এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘দৈনিক জনতার খবর’-এর কাছে বিশেষ বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ মেহনতি মোটরযান চালক শ্রমিক ফেডারেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা ইমরান হোসেন সোহাগ।
শ্রমিক নেতা ইমরান হোসেন সোহাগ ‘দৈনিক জনতার খবর’-কে বলেন, “পোশাক শ্রমিকদের ন্যায়সংগত আন্দোলনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু আন্দোলনের নামে রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করা, আগুন দেওয়া এবং আমাদের সাধারণ ড্রাইভার-হেলপার ভাইদের লাঞ্ছিত করা কোনো দেশের আইনেই সমর্থন করে না। পরিবহন শ্রমিকদের হয়রানি করার অধিকার কারো নেই।”
অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা আটকে অমানবিক পরিস্থিতি
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবরোধ করে রাখায় পুরো ঢাকা শহর স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে অমানবিক দৃশ্য দেখা গেছে হাসপাতালমুখী সড়কগুলোতে। জীবনরক্ষাকারী অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় ভেতরেই অনেক রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ছে। এছাড়া কৃষকদের কাঁচামাল ও পচনশীল পণ্যের গাড়ি আটকে থাকায় পণ্য নষ্ট হয়ে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি ও প্রশাসনের ভূমিকা
সাধারণ পরিবহন শ্রমিকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। বাংলাদেশ মেহনতি মোটরযান চালক শ্রমিক ফেডারেশন-এর পক্ষে শ্রমিক নেতা ইমরান হোসেন সোহাগ administrations-এর প্রতি জোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্দোলনের আড়ালে যারা গাড়ি ভাঙচুর ও নাশকতার সাথে জড়িত, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
‘দৈনিক জনতার খবর’-এর মাধ্যমে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের ধৈর্যকে দুর্বলতা ভাববেন না। অতি দ্রুত চালক ও শ্রমিকদের ওপর হয়রানি এবং গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ বন্ধ করুন। অন্যথায়, দেশের মেহনতি চালক ও শ্রমিক সমাজ নিজেদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় রাজপথে নামতে বাধ্য হবে এবং যেকোনো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে পিছপা হবে না।”