রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের অপচেষ্টা: মিরপুরে পুড়লো জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা পুলিশের গাড়ি
- প্রকাশের সময় : ০৭:৩৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 27

দাবি আদায়ের আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের এক ন্যাক্কারজনক চিত্র দেখা গেল রাজধানীর মিরপুরে। আজ রোববার (১ নভেম্বর) পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের মধ্যকার সংঘর্ষের সুযোগ নিয়ে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি টহল পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা ও জনসাধারণের নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যবহৃত এই সরকারি গাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটি সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি:
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ন্যূনতম বেতনের দাবিতে সকাল থেকেই মিরপুরের সড়কগুলো ব্লক করে রাখলে পুরো এলাকা স্থবির হয়ে পড়ে। চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ ও কর্মজীবী নারীরা। বেলা পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ রাস্তা সচল করার চেষ্টা করলে কিছু উগ্র আন্দোলনকারী ও দুষ্কৃতকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এরই একপর্যায়ে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে পার্ক করে রাখা পুলিশের গাড়িটিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্বপ্নের মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের অংশ, যা দেশের একটি অন্যতম প্রধান আধুনিক গণপরিবহন অবকাঠামো।
ব্যাহত হলো জননিরাপত্তা:
যে গাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটি মূলত মিরপুর ও পল্লবী এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং অপরাধ দমনে পুলিশ সার্বক্ষণিক টহল দেওয়ার কাজে ব্যবহার করত। সরকারি এই সম্পদটি ধ্বংস করার কারণে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও টহল কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটবে। শুধু তাই নয়, উত্তেজিত জনতা রাষ্ট্রীয় সম্পদের আরও বড় ক্ষতি রুখতে আসা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরও কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট গাড়িটির আগুন নেভায়, তবে ততক্ষণে গাড়িটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
আইনি ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া:
এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন। অনেক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের সম্পদ বা পুলিশের গাড়ি পোড়ানোর অধিকার কারও নেই। মেট্রো স্টেশন বা পুলিশের এই গাড়িগুলো তো আমাদেরই টাকা দিয়ে তৈরি। এগুলো ধ্বংস করে নিজেদেরই ক্ষতি করা হচ্ছে।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস, পুলিশের ওপর হামলা এবং অগ্নিসংযোগের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
























