ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬,
২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে ৩য় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: মাদরাসা শিক্ষকের ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, জরিমানা ২ লাখ

md afzal Hossain shubo
  • প্রকাশের সময় : ১২:২১:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / 25

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে আট বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অপরাধে মো. সাইদুর রহমান মুন্সি ওরফে সাইদুর মুন্সী (৪৫) নামে এক মাদরাসা শিক্ষককে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যার সম্পূর্ণ অর্থ ভুক্তভোগী শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আসামিকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সাইদুর রহমান দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের সাকোয়াপাড়া এলাকার জুরান আলী মিস্ত্রির ছেলে। তিনি স্থানীয় মদিনাতুল উলুম নূরানী মডেল মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ ও মামলা:
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় ওই মাদ্রাসারই তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। চলতি বছরের ২০ এপ্রিল শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে গাজীপুরের শ্রীপুরে ধান কাটার কাজে যান। এই সুযোগে গত ২৬ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষক সাইদুর রহমান মুন্সী ওই ছাত্রীকে ডেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে কোলে তুলে ঘরের ভেতর খাটের ওপর শুইয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ওই সময় ঘরের দরজায় হঠাৎ শব্দ হলে শিক্ষক সাইদুর ভয় পেয়ে এক কোণে সরে যান। এই সুযোগে শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে ঘর থেকে বের হয়ে নিজের বাড়িতে চলে আসে।
ধান কাটার কাজ শেষে বাবা বাড়ি ফিরলে শিশুটি ঘটনাটি তাকে জানায়। পরবর্তীতে গত ৩ মে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া:
মামলা দায়েরের পর দেওয়ানগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শেষ করে দ্রুত আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। পরবর্তীতে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন।
আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক মামলার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিচার চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মোট পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ শুনানি এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৪)(খ) ধারা মোতাবেক আসামিকে এই শাস্তি প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর পরই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাইদুর রহমান মুন্সীকে কঠোর পুলিশি প্রহরায় জামালপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, এই শাস্তির মাধ্যমে সমাজে অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা যাবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রিপোর্টারের তথ্য
আফজাল হোসেন শুভ

আফজাল হোসেন শুভ

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ

জামালপুরে ৩য় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: মাদরাসা শিক্ষকের ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, জরিমানা ২ লাখ

প্রকাশের সময় : ১২:২১:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে আট বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অপরাধে মো. সাইদুর রহমান মুন্সি ওরফে সাইদুর মুন্সী (৪৫) নামে এক মাদরাসা শিক্ষককে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যার সম্পূর্ণ অর্থ ভুক্তভোগী শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আসামিকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সাইদুর রহমান দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের সাকোয়াপাড়া এলাকার জুরান আলী মিস্ত্রির ছেলে। তিনি স্থানীয় মদিনাতুল উলুম নূরানী মডেল মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ ও মামলা:
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় ওই মাদ্রাসারই তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। চলতি বছরের ২০ এপ্রিল শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে গাজীপুরের শ্রীপুরে ধান কাটার কাজে যান। এই সুযোগে গত ২৬ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষক সাইদুর রহমান মুন্সী ওই ছাত্রীকে ডেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে কোলে তুলে ঘরের ভেতর খাটের ওপর শুইয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ওই সময় ঘরের দরজায় হঠাৎ শব্দ হলে শিক্ষক সাইদুর ভয় পেয়ে এক কোণে সরে যান। এই সুযোগে শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে ঘর থেকে বের হয়ে নিজের বাড়িতে চলে আসে।
ধান কাটার কাজ শেষে বাবা বাড়ি ফিরলে শিশুটি ঘটনাটি তাকে জানায়। পরবর্তীতে গত ৩ মে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া:
মামলা দায়েরের পর দেওয়ানগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শেষ করে দ্রুত আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। পরবর্তীতে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন।
আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক মামলার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিচার চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মোট পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ শুনানি এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৪)(খ) ধারা মোতাবেক আসামিকে এই শাস্তি প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর পরই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাইদুর রহমান মুন্সীকে কঠোর পুলিশি প্রহরায় জামালপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, এই শাস্তির মাধ্যমে সমাজে অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা যাবে।