০৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবশেষে মুক্ত হলো বুকসমান কাদায় আটকে থাকা ৪ মহিষ!

শাহিনুর ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধি:
  • Update Time : ০৬:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৪ Time View

৬ মাস ধরে কাদায় বাঁধা ছিল অসহায় প্রাণীগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের পর প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামে প্রায় ছয় মাস ধরে বুকসমান কাদার মধ্যে বাঁধা অবস্থায় থাকা চারটি মহিষ অবশেষে শুকনা ও নিরাপদ স্থানে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রকৃতিপ্রেমী নাজমুল হোসেনের প্রচেষ্টা এবং মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সাজ্জাদ হোসেনের হস্তক্ষেপে অসহায় প্রাণীগুলো দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে আপাতত মুক্তি পেয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গোকুলনগর গ্রামের আব্দুল আলিম, পিতা মৃত ফরজ আলী, তার চারটি মহিষকে প্রায় ছয় মাস ধরে বুকসমান কাদার মধ্যে অনবরত বেঁধে রেখেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ২৪ ঘণ্টাই মহিষগুলোকে কাদার মধ্যে আটকে থাকতে হতো। কাদার মধ্যেই তাদের খাবার গ্রহণ, দাঁড়িয়ে থাকা এমনকি ঘুমাতেও হতো। দীর্ঘদিন ধরে এমন অস্বাভাবিক ও কষ্টকর পরিবেশে থাকার কারণে মহিষগুলোর জীবনযাপন অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে মহিষগুলোকে কাদা থেকে তুলে শুকনা ও নিরাপদ স্থানে রাখার অনুরোধ করলেও অভিযোগ রয়েছে, এতে কাঙ্ক্ষিত সমাধান হয়নি।
বিষয়টি জানতে পেরে ১৬ আগস্ট দুপুরে প্রকৃতিপ্রেমী নাজমুল হোসেন স্থানীয় প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে চারটি মহিষের করুণ ও হৃদয়বিদারক অবস্থা সরেজমিনে দেখা যায়।
বুকসমান কাদার মধ্যে দিনের পর দিন আটকে থাকা মহিষগুলোর দুর্দশার দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করে বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি মানুষের নজরে আসে। অসহায় প্রাণীগুলোর দুর্ভোগ বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি প্রচারের পর আজ সন্ধ্যার দিকে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সাজ্জাদ হোসেন নিজে বিষয়টির খোঁজখবর নেন। তিনি প্রকৃতিপ্রেমী নাজমুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। এ সময় মহিষগুলোর অবস্থান, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবং স্থানীয়দের অভিযোগ সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিস্তারিত জানানো হয়।
এরপর সন্ধ্যার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সাজ্জাদ হোসেন ঘটনাস্থলে যান। তাঁর উপস্থিতি ও প্রশাসনের সহযোগিতায় চারটি মহিষকে বুকসমান কাদা থেকে বের করে শুকনা ও নিরাপদ স্থানে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ ছয় মাস পর কাদা থেকে মুক্ত হয়ে মহিষগুলো শুকনা জায়গায় দাঁড়ানোর সুযোগ পায়। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে আসে।
এ সময় মহিষগুলোর মালিক আব্দুল আলিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের উপস্থিতির খবর পেয়ে তিনি বাড়ি থেকে চলে যান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মহিষগুলোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ১৫ দিনের সময় দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে মহিষগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, শুকনা মেঝে, খাবার-পানি এবং নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
প্রাণীর কষ্টে নীরব না থেকে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা
প্রকৃতিপ্রেমী নাজমুল হোসেন বলেন, প্রাণীরা মানুষের মতো নিজেদের কষ্টের কথা বলতে পারে না। কিন্তু তাদেরও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। চারটি মহিষকে দীর্ঘদিন ধরে বুকসমান কাদার মধ্যে আটকে রাখার দৃশ্য সত্যিই হৃদয়বিদারক। তাই বিষয়টি জানার পর প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সামনে আনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি প্রচারের পর মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার যে দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন এবং একই দিন সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে মহিষগুলোকে কাদা থেকে বের করে শুকনা স্থানে রাখার ব্যবস্থা করেছেন, এজন্য তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সাজ্জাদ হোসেন মহোদয়কে। একটি অসহায় প্রাণীর কষ্টকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করায় তাঁর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
আমাদের প্রত্যাশা, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মহিষগুলোর জন্য একটি শুকনা, নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। প্রাণীরা কথা বলতে পারে না কিন্তু তাদেরও কষ্ট হয়।
তাদের কষ্ট অনুভব করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মানবিক দায়িত্ব।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

অবশেষে মুক্ত হলো বুকসমান কাদায় আটকে থাকা ৪ মহিষ!

Update Time : ০৬:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

৬ মাস ধরে কাদায় বাঁধা ছিল অসহায় প্রাণীগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের পর প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামে প্রায় ছয় মাস ধরে বুকসমান কাদার মধ্যে বাঁধা অবস্থায় থাকা চারটি মহিষ অবশেষে শুকনা ও নিরাপদ স্থানে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রকৃতিপ্রেমী নাজমুল হোসেনের প্রচেষ্টা এবং মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সাজ্জাদ হোসেনের হস্তক্ষেপে অসহায় প্রাণীগুলো দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে আপাতত মুক্তি পেয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গোকুলনগর গ্রামের আব্দুল আলিম, পিতা মৃত ফরজ আলী, তার চারটি মহিষকে প্রায় ছয় মাস ধরে বুকসমান কাদার মধ্যে অনবরত বেঁধে রেখেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ২৪ ঘণ্টাই মহিষগুলোকে কাদার মধ্যে আটকে থাকতে হতো। কাদার মধ্যেই তাদের খাবার গ্রহণ, দাঁড়িয়ে থাকা এমনকি ঘুমাতেও হতো। দীর্ঘদিন ধরে এমন অস্বাভাবিক ও কষ্টকর পরিবেশে থাকার কারণে মহিষগুলোর জীবনযাপন অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে মহিষগুলোকে কাদা থেকে তুলে শুকনা ও নিরাপদ স্থানে রাখার অনুরোধ করলেও অভিযোগ রয়েছে, এতে কাঙ্ক্ষিত সমাধান হয়নি।
বিষয়টি জানতে পেরে ১৬ আগস্ট দুপুরে প্রকৃতিপ্রেমী নাজমুল হোসেন স্থানীয় প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে চারটি মহিষের করুণ ও হৃদয়বিদারক অবস্থা সরেজমিনে দেখা যায়।
বুকসমান কাদার মধ্যে দিনের পর দিন আটকে থাকা মহিষগুলোর দুর্দশার দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করে বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি মানুষের নজরে আসে। অসহায় প্রাণীগুলোর দুর্ভোগ বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি প্রচারের পর আজ সন্ধ্যার দিকে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সাজ্জাদ হোসেন নিজে বিষয়টির খোঁজখবর নেন। তিনি প্রকৃতিপ্রেমী নাজমুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। এ সময় মহিষগুলোর অবস্থান, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবং স্থানীয়দের অভিযোগ সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিস্তারিত জানানো হয়।
এরপর সন্ধ্যার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সাজ্জাদ হোসেন ঘটনাস্থলে যান। তাঁর উপস্থিতি ও প্রশাসনের সহযোগিতায় চারটি মহিষকে বুকসমান কাদা থেকে বের করে শুকনা ও নিরাপদ স্থানে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ ছয় মাস পর কাদা থেকে মুক্ত হয়ে মহিষগুলো শুকনা জায়গায় দাঁড়ানোর সুযোগ পায়। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে আসে।
এ সময় মহিষগুলোর মালিক আব্দুল আলিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের উপস্থিতির খবর পেয়ে তিনি বাড়ি থেকে চলে যান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মহিষগুলোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ১৫ দিনের সময় দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে মহিষগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, শুকনা মেঝে, খাবার-পানি এবং নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
প্রাণীর কষ্টে নীরব না থেকে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা
প্রকৃতিপ্রেমী নাজমুল হোসেন বলেন, প্রাণীরা মানুষের মতো নিজেদের কষ্টের কথা বলতে পারে না। কিন্তু তাদেরও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। চারটি মহিষকে দীর্ঘদিন ধরে বুকসমান কাদার মধ্যে আটকে রাখার দৃশ্য সত্যিই হৃদয়বিদারক। তাই বিষয়টি জানার পর প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সামনে আনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি প্রচারের পর মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার যে দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন এবং একই দিন সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে মহিষগুলোকে কাদা থেকে বের করে শুকনা স্থানে রাখার ব্যবস্থা করেছেন, এজন্য তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সাজ্জাদ হোসেন মহোদয়কে। একটি অসহায় প্রাণীর কষ্টকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করায় তাঁর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
আমাদের প্রত্যাশা, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মহিষগুলোর জন্য একটি শুকনা, নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। প্রাণীরা কথা বলতে পারে না কিন্তু তাদেরও কষ্ট হয়।
তাদের কষ্ট অনুভব করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মানবিক দায়িত্ব।