০১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেস্টে ফেল, তবুও বোর্ড পরীক্ষায়! কুলাউড়ার দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৪৭%

​ রাশেদ আহমদ মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
  • Update Time : ১১:২৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫ Time View

​মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয় থেকে ১১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও অকৃতকার্য হয়েছেন ৬২ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর অর্ধেকের বেশি। পাস করেছেন মাত্র ৫৬ জন (পাসের হার ৪৭.৪৬ শতাংশ)। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী।
​অর্ধেক শিক্ষার্থীর ফেল করার এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়মবহির্ভূতভাবে বোর্ড পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
​প্রধান শিক্ষকের বিতর্কিত মন্তব্য ও সাফাই
​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ৬২ জন ফেল করার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে ফলাফল সন্তোষজনক দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘অনেক বিদ্যালয় এর চেয়েও খারাপ ফলাফল করেছে। অনেক বিদ্যালয়ে ৫৬ জন পরীক্ষার্থীও নেই।’’
​টেস্টে ফেল করা শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক স্বীকার করেন যে, টেস্টে ফেল করা অনেক শিক্ষার্থীকে পাস করিয়ে তিনি বোর্ড পরীক্ষায় পাঠিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখলে সমস্যা হয়—এমন আজব দাবিও করেন তিনি। এছাড়া অনিয়মিত উপস্থিতি এবং বোর্ডের কঠোরতাকে খারাপ ফলাফলের জন্য দায়ী করেন তিনি।
​তবে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘‘আপনি আমাকে এত জিজ্ঞেস করছেন, তাহলে আপনি বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়ে নেন। আপনি পারলে কিছু উল্টিয়ে ফেলেন এবং রেজাল্ট ঠিক করেন।’’
​ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া
​বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ জানান, টেস্টে ফেল করা শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে বোর্ড পরীক্ষায় পাঠানোর বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, ‘‘বিদ্যালয়ের কার্যক্রম এভাবেই চলছে।’’
​এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলুর রহমান বলেন, টেস্টে ফেল করা শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। সভাপতিকে না জানিয়ে প্রধান শিক্ষক এককভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তা গুরুতর অনিয়ম। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
​কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার জানান, টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের এভাবে বোর্ড পরীক্ষায় বসানোর কোনো বিধান নেই এবং প্রধান শিক্ষক প্রশাসনকে বিষয়টি জানাননি। অভিযোগের সত্যতা পেলে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
​প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের বক্তব্যে সৃষ্ট অসঙ্গতির কারণে প্রশ্ন উঠেছে—কার মদদে বা কার একক সিদ্ধান্তে টেস্টে ফেল করা শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় বসানো হলো? পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

টেস্টে ফেল, তবুও বোর্ড পরীক্ষায়! কুলাউড়ার দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৪৭%

Update Time : ১১:২৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

​মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয় থেকে ১১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও অকৃতকার্য হয়েছেন ৬২ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর অর্ধেকের বেশি। পাস করেছেন মাত্র ৫৬ জন (পাসের হার ৪৭.৪৬ শতাংশ)। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী।
​অর্ধেক শিক্ষার্থীর ফেল করার এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়মবহির্ভূতভাবে বোর্ড পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
​প্রধান শিক্ষকের বিতর্কিত মন্তব্য ও সাফাই
​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ৬২ জন ফেল করার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে ফলাফল সন্তোষজনক দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘অনেক বিদ্যালয় এর চেয়েও খারাপ ফলাফল করেছে। অনেক বিদ্যালয়ে ৫৬ জন পরীক্ষার্থীও নেই।’’
​টেস্টে ফেল করা শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক স্বীকার করেন যে, টেস্টে ফেল করা অনেক শিক্ষার্থীকে পাস করিয়ে তিনি বোর্ড পরীক্ষায় পাঠিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখলে সমস্যা হয়—এমন আজব দাবিও করেন তিনি। এছাড়া অনিয়মিত উপস্থিতি এবং বোর্ডের কঠোরতাকে খারাপ ফলাফলের জন্য দায়ী করেন তিনি।
​তবে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘‘আপনি আমাকে এত জিজ্ঞেস করছেন, তাহলে আপনি বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়ে নেন। আপনি পারলে কিছু উল্টিয়ে ফেলেন এবং রেজাল্ট ঠিক করেন।’’
​ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া
​বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ জানান, টেস্টে ফেল করা শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে বোর্ড পরীক্ষায় পাঠানোর বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, ‘‘বিদ্যালয়ের কার্যক্রম এভাবেই চলছে।’’
​এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলুর রহমান বলেন, টেস্টে ফেল করা শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। সভাপতিকে না জানিয়ে প্রধান শিক্ষক এককভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তা গুরুতর অনিয়ম। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
​কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার জানান, টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের এভাবে বোর্ড পরীক্ষায় বসানোর কোনো বিধান নেই এবং প্রধান শিক্ষক প্রশাসনকে বিষয়টি জানাননি। অভিযোগের সত্যতা পেলে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
​প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের বক্তব্যে সৃষ্ট অসঙ্গতির কারণে প্রশ্ন উঠেছে—কার মদদে বা কার একক সিদ্ধান্তে টেস্টে ফেল করা শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় বসানো হলো? পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।