০১:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোংলা ইপিজেডের ‘জিনলাইট’ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা কয়েক হাজার শ্রমিক

শাহিনুর ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধি:
  • Update Time : ১১:৫৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৯ Time View

মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) ‘গামেন্টস ম্যানুফ্যাকচার জিনলাইট বাংলাদেশ’ নামের একটি বিদেশি গার্মেন্টস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে এই অগ্নিকান্ডের দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, কারখানার বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। সময়মতো কয়েক হাজার শ্রমিক কারখানা ভবন থেকে নিরাপদ দূরত্বে বেরিয়ে আসায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কারখানা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে প্রতিদিনের মতো জিনলাইট গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ভেতরে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করছিলেন। দুপুরের দিকে হঠাৎ কারখানার এক নম্বর প্লান্টের ৭ম তলার এক কোণ থেকে তীব্র ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান কর্মরত শ্রমিকরা। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনের ভেতরে থাকা সাইরেন বেজে ওঠে। সাইরেনের শব্দ শুনে কারখানার ভেতরে থাকা কয়েক হাজার শ্রমিক কোনো ধরনের হুড়োহুড়ি না করে অত্যন্ত দ্রæত ও সতর্কতার সাথে ভবন ছেড়ে নিচে নেমে আসেন এবং রাস্তয় আশ্রয় নেন।
খবর পেয়ে মোংলা ইপিজেড এবং মোংলা ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট দ্রæত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে ফ্যাক্টরীর নিজেস্ব আগুন নির্বাপক প্রযুক্তি এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সম্মিলিত ও আপ্রাণ প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন পুরোপুরি নেভানোর আগেই ফ্যাক্টরির ভেতর থাকা বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক, আমদানিকৃত মালামাল, সুতা এবং মূল্যবান যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। তবে বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয়নি বলে জানায় ফ্যাক্টরী কর্তৃপক্ষ। মোংলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোঃ এমরান হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শ্রমিকরা দ্রæত ও সুশৃঙ্খলভাবে ভবন থেকে বের হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে কারখানার মালামাল পুড়ে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করার প্রক্রিয়া চলছে। জিনলাইট কর্তৃপক্ষ এতোটাই সচেতন, আমরা যাওয়ার আগেই প্রায় ৯০ শতাংশ আগুন নিয়ন্তন করে ফেলেছে। যেহেতু ভবনের ৭ম তলায় আগুনের ঘটনা, কর্তৃপক্ষের তৎক্ষনিত ব্যাবস্থা এবং অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রাংশ না থাকলে ঞয়তো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ছিল।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মোংলা ইপিজেডের ‘জিনলাইট’ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা কয়েক হাজার শ্রমিক

Update Time : ১১:৫৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) ‘গামেন্টস ম্যানুফ্যাকচার জিনলাইট বাংলাদেশ’ নামের একটি বিদেশি গার্মেন্টস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে এই অগ্নিকান্ডের দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, কারখানার বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। সময়মতো কয়েক হাজার শ্রমিক কারখানা ভবন থেকে নিরাপদ দূরত্বে বেরিয়ে আসায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কারখানা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে প্রতিদিনের মতো জিনলাইট গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ভেতরে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করছিলেন। দুপুরের দিকে হঠাৎ কারখানার এক নম্বর প্লান্টের ৭ম তলার এক কোণ থেকে তীব্র ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান কর্মরত শ্রমিকরা। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনের ভেতরে থাকা সাইরেন বেজে ওঠে। সাইরেনের শব্দ শুনে কারখানার ভেতরে থাকা কয়েক হাজার শ্রমিক কোনো ধরনের হুড়োহুড়ি না করে অত্যন্ত দ্রæত ও সতর্কতার সাথে ভবন ছেড়ে নিচে নেমে আসেন এবং রাস্তয় আশ্রয় নেন।
খবর পেয়ে মোংলা ইপিজেড এবং মোংলা ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট দ্রæত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে ফ্যাক্টরীর নিজেস্ব আগুন নির্বাপক প্রযুক্তি এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সম্মিলিত ও আপ্রাণ প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন পুরোপুরি নেভানোর আগেই ফ্যাক্টরির ভেতর থাকা বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক, আমদানিকৃত মালামাল, সুতা এবং মূল্যবান যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। তবে বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয়নি বলে জানায় ফ্যাক্টরী কর্তৃপক্ষ। মোংলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোঃ এমরান হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শ্রমিকরা দ্রæত ও সুশৃঙ্খলভাবে ভবন থেকে বের হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে কারখানার মালামাল পুড়ে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করার প্রক্রিয়া চলছে। জিনলাইট কর্তৃপক্ষ এতোটাই সচেতন, আমরা যাওয়ার আগেই প্রায় ৯০ শতাংশ আগুন নিয়ন্তন করে ফেলেছে। যেহেতু ভবনের ৭ম তলায় আগুনের ঘটনা, কর্তৃপক্ষের তৎক্ষনিত ব্যাবস্থা এবং অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রাংশ না থাকলে ঞয়তো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ছিল।