নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের যানজট বনাম ভাস্কর্য বিতর্ক: ডিসি অফিসে উত্তপ্ত আলোচনা
- Update Time : ০২:৫৮:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ৩৭ Time View

মোঃ ফয়সাল নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ নগরীর ব্যস্ততম ২ নম্বর রেলগেটে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ‘ফিরে দেখা ৭১’ অপসারণ ও যানজট নিরসন নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তীব্র তর্ক-বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে ‘জেলায় সড়ке নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও যানজট নিরসন’ শীর্ষক ওই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শহরের যানজট সমস্যা এবং ২ নম্বর গেটের ভাস্কর্য নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাদের মতামত তুলে ধরেন।
আলোচনার শুরুতে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের আহবায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, “চাষাঢ়ার পরে নগরীর দুই নম্বর রেলগেট একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের একটি ভাস্কর্য থাকুক, সেটি আমরা চাই।”
এর জবাবে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, “ওই ভাস্কর্যটি রাস্তার চলাচলে অনেক অসুবিধা সৃষ্টি করছে এবং এর চারপাশে দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা জায়গা দখল করে রেখেছে।”
এ সময় ভিন্নমত পোষণ করে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি বলেন, “এই জায়গায় ভাস্কর্যটি ১০-২০ বছর ধরে আছে ঠিকই, কিন্তু তার আগে কি আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনা ছিল না? এটা এমন নয় যে ভাস্কর্যটি সরিয়ে নিলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা চলে যাবে। আমরা এটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার নয়, বরং উপযুক্ত স্থানে সসম্মানে প্রতিস্থাপনের কথা বলছি।”
সভায় উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর আলম মিয়া বলেন, “প্রতিস্থাপনের বিষয়ে শুধু বাকবিতণ্ডা না করে নাগরিক স্বার্থে এবং যানজট নিরসনে প্রশাসনের যা করণীয়, দ্রুত তা করা উচিত।”
পরিস্থিতি সামাল দিতে নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, “দুই নম্বর রেলগেট এলাকাটি আরও প্রশস্ত করা প্রয়োজন। রেলওয়ের জায়গার কিছু অংশ এবং আশপাশের অবৈধ দখল বা স্থাপনা অপসারণ করে জায়গাটি বড় করা হবে। এরপর ‘ফিরে দেখা ৭১’ ভাস্কর্যটি ওই দুই নম্বর গেট এলাকাতেই সুন্দর ও উপযুক্ত পরিবেশে পুনর্বিন্যাস বা স্থাপন করা হবে।”
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের ২ নম্বর গেট এলাকায় প্রতিনিয়ত বাস, লেগুনা ও বিভিন্ন লোকাল গাড়ির অবৈধ পার্কিং এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের দাবি, কেবল ভাস্কর্য বা সৌন্দর্যায়ন সরিয়ে নয়, বরং অটোরিকশা ও বাস স্ট্যান্ডের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ না করলে এই এলাকার যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।


















