রাষ্ট্র, তোমার কাছে জানতে চাই, একটি মানুষের দাম কত? এক বস্তা চালের সমান, নাকি একটি ভোটের চেয়েও কম?
- প্রকাশের সময় : ১১:৪৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / 20

রাষ্ট্র, তোমার কাছে জানতে চাই,
একটি মানুষের দাম কত?
এক বস্তা চালের সমান,
নাকি একটি ভোটের চেয়েও কম?
যে বাবা সারাদিন পাথর ভাঙে,
রাতে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে
নিজের ক্ষুধাকে মিথ্যা বলে,
তার জন্য তোমার কোনো বাজেট আছে?
সন্তানের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দিতে
যে মা প্রতিদিন নিজের ক্ষুধাকে গলা টিপে মারে,
রাষ্ট্র, সেই মায়ের কান্না
কখনো কি তোমার কানে পৌঁছায়?
এ দেশে এখন অভাবও যেন অপরাধ।
গরিব হলে মাথা নিচু করে থাকতে হয়,
ঋণী হলে মুখ লুকাতে হয়,
আর প্রতিবাদ করলে
জুটে যায় অসহিষ্ণুতার তকমা।
অথচ যারা মানুষের ঘাম চুরি করে,
তারাই সমাজের সম্মানিত মানুষ।
যারা মানুষের অধিকার গিলে খায়,
তাদের টেবিলেই সাজানো থাকে
নীতির বড় বড় বক্তৃতা।
কী নির্মম সময়!
এখানে সততা দিয়ে সংসার চলে না,
যোগ্যতা দিয়ে চাকরি মেলে না,
ন্যায্যতা দিয়ে বিচার পাওয়া যায় না।
শুধু টাকার কাছে
মানুষের সমস্ত পরিচয় বন্ধক পড়ে থাকে।
একজন ক্ষুধার্ত মানুষ খাবার চায়,
একজন বেকার মানুষ কাজ চায়,
একজন অসহায় মানুষ বিচার চায়।
কেউ সিংহাসন চায় না,
কেউ রাজমুকুট চায় না।
তবু তাদের ভাগ্যে
একটু নিশ্চিন্ত ঘুমও জোটে না।
রাষ্ট্র, তুমি কি জানো,
ক্ষুধার্ত মানুষের দীর্ঘশ্বাস
কোনো শব্দ ছাড়াই বিস্ফোরিত হয়?
অভাবেরও একটা সীমা আছে,
অপমানেরও একটা শেষ আছে।
আমি আর স্বপ্নের কথা বলি না,
স্বপ্ন এখন বিত্তবানদের বিলাসিতা।
গরিবের কাছে আগামীকাল মানে
আরেকটি দিনের খরচ জোগাড় করা,
আরেকটি দিন বেঁচে থাকার লড়াই।
একদিন এই সময়ের বিচার হবে,
কোনো আদালতে নয়,
কোনো ক্ষমতাবানের সামনে নয়,
মানুষের বিবেকের কাঠগড়ায়।
সেদিন প্রশ্ন উঠবে,
কারা মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছিল?
কারা কান্নাকে ব্যবসা বানিয়েছিল?
কারা ক্ষুধার্ত মানুষের সামনে
উন্নয়নের আলোকসজ্জা করেছিল?
মনে রেখো,
ক্ষুধার্ত মানুষের অভিশাপ
ইতিহাস কখনো মুছে ফেলতে পারে না।
একটি দেশ মানচিত্রে বেঁচে থাকতে পারে,
কিন্তু মানুষের চোখের জল মুছে না দিলে
সেই দেশের আত্মা বেঁচে থাকে না।
আপনার মতামত লিখুন


























