চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনে দুর্ধর্ষ চুরি, ৯ কার্যালয়ের তালা ভেঙে সরকারি সরঞ্জাম লুট
- প্রকাশের সময় : ০৯:১২:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / 18

কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও সরকারি নথি চুরি, নষ্ট করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা; নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনে সংঘটিত হয়েছে বড় ধরনের চুরির ঘটনা। ভবনের বিভিন্ন তলায় অবস্থিত ৯টি সরকারি কার্যালয়ের তালা ভেঙে কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও সরকারি কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। চুরি হওয়া সরঞ্জামের আনুমানিক মূল্য ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কম্পিউটারে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি তথ্য হারিয়ে যাওয়ায় প্রশাসনিক ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরদিন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদের নিচতলায় অবস্থিত ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে অফিসের তালা ভাঙা দেখতে পান উদ্যোক্তা বদরুদ্দিন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুর রহমানকে জানানো হলে তিনি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, চোরের দল একাধিক কার্যালয়ে প্রবেশ করে কম্পিউটারের মাদারবোর্ড, হার্ডডিস্ক, র্যামসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে গেছে। চুরির ঘটনা আড়াল করতে ভবনের সিসি ক্যামেরাগুলোও ভেঙে ফেলা হয়েছে। এমনকি ক্যামেরার মনিটরও নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে কম্পিউটারের খালি কভারগুলো পাশের পুরোনো আদালত ভবনের একটি কক্ষে ফেলে রেখে যায় তারা।
উপজেলা পরিষদের প্রথম থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত বিস্তৃত বিভিন্ন কার্যালয়ে এ চুরির ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত অফিসগুলোর মধ্যে রয়েছে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়, কৃষি, মৎস্য, যুব উন্নয়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন, সমবায় কর্মকর্তা এবং ডিজিটাল সেন্টার।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, সম্প্রতি রেস্টুরেন্ট ও গ্যাস ক্রস ফিলিং কার্যক্রমে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের ঘটনার সঙ্গে এ চুরির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার বিষয় রয়েছে। কোনো স্বার্থান্বেষী মহল এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ইউএনও জানান, বর্তমানে স্থায়ী কোনো নৈশপ্রহরী না থাকায় গ্রাম্য পুলিশ দিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে ঘটনার রাতে দায়িত্ব পালনের জন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন না। নৈশপ্রহরী নিয়োগ এবং উপজেলা পরিষদের মূল ফটক নির্মাণের বরাদ্দ চেয়ে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন ও উপজেলা পরিষদের কার্যালয় একই চত্বরে অবস্থিত হওয়ার পরও কীভাবে এতগুলো অফিসে একযোগে চুরির ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইউএনওর ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় অস্ত্রসহ ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও পুরো উপজেলা পরিষদ ভবনের নিরাপত্তায় কার্যকর পাহারার ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা করছেন সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সব কার্যক্রম পরিচালিত হয় যে ভবন থেকে, সেখানে যদি রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের জানমাল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত—তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর বৌদ্ধ মন্দির, কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্তত ১০টি স্কুলে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর উপজেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় চুরির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি উপজেলা পরিষদসহ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে রাতের নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন।




















