পাইকগাছায় সুপারির বাজারে অস্থিরতা: ফলন কম ও ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ চাষিরা
- Update Time : ০৯:৪০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১২ Time View

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছায় চলতি মৌসুমে অর্থকরী ফসল সুপারির হাট-বাজারগুলোতে পুরোদমে কেনাবেচা চললেও ফলন ও দাম নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উপজেলার নতুন বাজার, গদাইপুর, আগড়ঘাটা, কপিলমুনি, বাঁকা ও মাটিপাড়াসহ বিভিন্ন বাজারে সুপারি বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো হলেও, গত বছরের তুলনায় এবার চাষিরা কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও বাজারমূল্যের চরম ওঠানামার কারণে উপকূলের সুপারি চাষিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।
উৎপাদন ও কৃষি অফিসের তথ্য
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পাইকগাছা উপজেলায় বর্তমানে মোট ৪০ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। ছোট-বড় মিলিয়ে এসব সুপারি বাগানে গাছের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার ৪০০টি। স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে এই বিপুল পরিমাণ গাছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
চাষি ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি
রোগবালাই আর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবার কাঙ্ক্ষিত ফলন পাননি চাষিরা। উপজেলার গদাইপুর গ্রামের সুপারি বাগান মালিক শফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন:
”এ বছর বাগানে সুপারির ফলন মোটেও ভালো হয়নি। এর ওপর বাজারে এসে দেখছি সুপারির দামও বেশ কম। উৎপাদন খরচ তুলে লাভ করা এবার কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
স্থানীয় সুপারি ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সহ একাধিক আড়তদার জানান, বাজারে সুপারির আমদানি আগের চেয়ে কিছুটা কম। তবে ফলন কম থাকা সত্ত্বেও বাজারমূল্য বেশ অস্থির।
মৌসুমের শুরুতে: প্রতি কুড়ি সুপারি ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চড়া দামে বিক্রি হয়েছে।
ভরা মৌসুমে: বাজারের মন্দাভাবের কারণে বর্তমানে তা কমে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।
স্থানীয় বিপণন ও গণনা পদ্ধতি
এ অঞ্চলে সুপারি বিপণন ও গণনার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ আঞ্চলিক নিয়ম অনুসরণ করা হয়। এখানে ৫৫ গণ্ডায় (২২০টি) সুপারিকে ‘এক কুড়ি’ হিসাব করা হয়।
স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ী ও পাইকাররা চাষিদের কাছ থেকে সুপারি কিনে বস্তাভর্তি করে আশাশুনি, বড়দল, সোলাদানা, গড়ইখালীসহ পার্শ্ববর্তী হাট-বাজারের বড় আড়তগুলোতে চালান করছেন। অনেক আড়তদার আবার বর্তমানের কম দামের সুপারি নদী বা চৌবাচ্চায় ভিজিয়ে রাখছেন, যা পরবর্তীতে শুকনো মৌসুমে চড়া দামে বিক্রি করা হবে।
কৃষি বিভাগের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন জানান:
”সুপারি এ অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে অন্যতম লাভজনক একটি অর্থকরী ফসল। পাইকগাছার সুপারির মান ভালো হওয়ায় দেশজুড়ে এর বেশ চাহিদা রয়েছে। তবে প্রাকৃতিক কারণে ইদানীং পুরোনো ও অতিরিক্ত লম্বা গাছগুলো মারা যাওয়ায় নতুন করে বাগান সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের নিয়মিত আধুনিক ও উচ্চ ফলনশীল জাতের সুপারি চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপকূলীয় এই জনপদে সুপারির আবাদ বাড়ানো গেলে তা স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে আরও ইতিবাচক ও গতিশীল প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



















