১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​পূর্ব বিরোধের জেরে নবীনগরে প্রকাশ্য দিবালোকে ইকবাল হত্যা: গাজীপুর থেকে প্রধান দুই আসামি গ্রেপ্তার

​মোঃ বাদশা মিয়া | সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : ১১:০০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৯ Time View

​ব্রাহ্মণবাড়িয়া: পূর্ব শত্রুতা ও দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মামলা-মোকদ্দমার জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ইকবাল হোসেন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। শনিবার (১৭ অক্টোবর) গাজীপুরের জয়দেবপুর ও গাছা থানা এলাকায় পৃথক যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— নবীনগর উপজেলার খাগাতুয়া গ্রামের মৃত সিদ্দিক মিয়ার ছেলে মোঃ আলম মিয়া (৫৮) এবং একই গ্রামের মৃত লাডু মেম্বারের ছেলে জিয়াউল আলম ছোট্ট (৫৫)। তারা উক্ত হত্যা মামলার এজাহারনামীয় যথাক্রমে ১ ও ২ নম্বর প্রধান আসামি।
​ওৎ পেতে হামলা ও নির্মম হত্যাকাণ্ড
​ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নবীনগর উপজেলার খাগাতুয়া গ্রামের বাসিন্দা নিহত ইকবাল হোসেনের সঙ্গে আসামি আলম মিয়া ও জিয়াউল আলম ছোট্টদের দীর্ঘদিন ধরে এলাকাভিত্তিক আক্রোশ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল।
​গত ২২ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ইকবাল হোসেন স্থানীয় ভোরের বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে খাগাতুয়া এলাকার ভোরের বাজার ব্রিজের পাশে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামিরা বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে দা, লোহার রড ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার পথরোধ করে।
​১ নম্বর আসামি আলম মিয়ার প্রত্যক্ষ হুকুমে অন্যান্য আসামিরা ইকবালকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। ইকবালের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
​পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসা চলাকালীন স্বজনরা তাকে দেবিদ্বার হাড়ভাঙ্গা পঙ্গু অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
​মামলা দায়ের ও এসআরবি-র ঝটিকা অভিযান
​ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানায় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ৩৩, তারিখ: ২৬/০৯/২০২৬)। নির্মম এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়।
​পরবর্তীতে এসআরবি-৯ ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ২:২০ মিনিটে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর বাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মোঃ আলম মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
​পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সন্ধ্যা ৭:২০ মিনিটে গাজীপুরের গাছা থানাধীন বোর্ড বাজার এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় এসআরবি-৯ (সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ও এসআরবি-১ (সিপিএসসি, গাজীপুর)। সেখান থেকে মামলার ২ নম্বর আসামি জিয়াউল আলম ছোট্টকে গ্রেপ্তার করা হয়।
​আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের বক্তব্য
​এসআরবি-৯ সিলেট সদর দপ্তরের মিডিয়া অফিসার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট নবীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রাখতে আইনানুগ গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
​সংবাদ প্রতিবেদনটিতে কোনো তথ্য সংশোধন বা আরও কোনো বিশেষ রূপান্তর করার প্রয়োজন থাকলে জানাতে পারেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

​পূর্ব বিরোধের জেরে নবীনগরে প্রকাশ্য দিবালোকে ইকবাল হত্যা: গাজীপুর থেকে প্রধান দুই আসামি গ্রেপ্তার

Update Time : ১১:০০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

​ব্রাহ্মণবাড়িয়া: পূর্ব শত্রুতা ও দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মামলা-মোকদ্দমার জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ইকবাল হোসেন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। শনিবার (১৭ অক্টোবর) গাজীপুরের জয়দেবপুর ও গাছা থানা এলাকায় পৃথক যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— নবীনগর উপজেলার খাগাতুয়া গ্রামের মৃত সিদ্দিক মিয়ার ছেলে মোঃ আলম মিয়া (৫৮) এবং একই গ্রামের মৃত লাডু মেম্বারের ছেলে জিয়াউল আলম ছোট্ট (৫৫)। তারা উক্ত হত্যা মামলার এজাহারনামীয় যথাক্রমে ১ ও ২ নম্বর প্রধান আসামি।
​ওৎ পেতে হামলা ও নির্মম হত্যাকাণ্ড
​ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নবীনগর উপজেলার খাগাতুয়া গ্রামের বাসিন্দা নিহত ইকবাল হোসেনের সঙ্গে আসামি আলম মিয়া ও জিয়াউল আলম ছোট্টদের দীর্ঘদিন ধরে এলাকাভিত্তিক আক্রোশ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল।
​গত ২২ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ইকবাল হোসেন স্থানীয় ভোরের বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে খাগাতুয়া এলাকার ভোরের বাজার ব্রিজের পাশে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামিরা বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে দা, লোহার রড ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার পথরোধ করে।
​১ নম্বর আসামি আলম মিয়ার প্রত্যক্ষ হুকুমে অন্যান্য আসামিরা ইকবালকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। ইকবালের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
​পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসা চলাকালীন স্বজনরা তাকে দেবিদ্বার হাড়ভাঙ্গা পঙ্গু অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
​মামলা দায়ের ও এসআরবি-র ঝটিকা অভিযান
​ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানায় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ৩৩, তারিখ: ২৬/০৯/২০২৬)। নির্মম এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়।
​পরবর্তীতে এসআরবি-৯ ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ২:২০ মিনিটে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর বাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মোঃ আলম মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
​পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সন্ধ্যা ৭:২০ মিনিটে গাজীপুরের গাছা থানাধীন বোর্ড বাজার এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় এসআরবি-৯ (সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ও এসআরবি-১ (সিপিএসসি, গাজীপুর)। সেখান থেকে মামলার ২ নম্বর আসামি জিয়াউল আলম ছোট্টকে গ্রেপ্তার করা হয়।
​আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের বক্তব্য
​এসআরবি-৯ সিলেট সদর দপ্তরের মিডিয়া অফিসার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট নবীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রাখতে আইনানুগ গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
​সংবাদ প্রতিবেদনটিতে কোনো তথ্য সংশোধন বা আরও কোনো বিশেষ রূপান্তর করার প্রয়োজন থাকলে জানাতে পারেন।