১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আউলিয়াঘাট ট্র্যাজেডির চার বছর: সেতু হয়নি আজও, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার ৫০ হাজার মানুষের

মোঃ আবু সুফিয়ান বোদা উপজেলা প্রতিনিধি
  • Update Time : ১১:৩৩:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২২ Time View

​বোদা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়াঘাটে করতোয়া নদীতে মর্মান্তিক নৌকাডুবির চার বছর পূর্ণ হলো আজ। ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ঝরে গিয়েছিল ৭২টি তাজা প্রাণ। শোকের দীর্ঘ চার বছর পেরিয়ে গেলেও ঘাটে প্রতিশ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। ফলে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ।
​২০২২ সালের এই দিনে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহালয়া উপলক্ষে বদেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার পথে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দ রূপ নেয় বিষাদে; স্বজন হারানোর বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে করতোয়ার তীর। উদ্ধার অভিযানে একে একে উদ্ধার করা হয় ৭২ জনের নিথর দেহ।
​হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর স্থানীয়দের বহুদিনের দাবি অনুযায়ী দ্রুত সেখানে একটি সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চার বছর অতিবাহিত হলেও কাজের বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ স্থানীয় বাসিন্দারা। মাড়েয়া, কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জসহ আশেপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াত এই ঘাটের ওপর নির্ভরশীল। হাট-বাজার, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অসুস্থ রোগীদের বাধ্য হয়েই এখনো ছোট ছোট নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর তীব্র স্রোত পারাপারের এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
​নিহতদের স্বজনদের কান্না আজও থামেনি; তার ওপর যোগ হয়েছে প্রতিদিনের যাতায়াতের ভয় ও দুর্ভোগ। অবিলম্বে নির্মাণকাজ শেষ করে বহুল প্রতীক্ষিত আউলিয়াঘাট সেতুটি দ্রুত চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

আউলিয়াঘাট ট্র্যাজেডির চার বছর: সেতু হয়নি আজও, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার ৫০ হাজার মানুষের

Update Time : ১১:৩৩:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​বোদা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়াঘাটে করতোয়া নদীতে মর্মান্তিক নৌকাডুবির চার বছর পূর্ণ হলো আজ। ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ঝরে গিয়েছিল ৭২টি তাজা প্রাণ। শোকের দীর্ঘ চার বছর পেরিয়ে গেলেও ঘাটে প্রতিশ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। ফলে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ।
​২০২২ সালের এই দিনে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহালয়া উপলক্ষে বদেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার পথে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দ রূপ নেয় বিষাদে; স্বজন হারানোর বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে করতোয়ার তীর। উদ্ধার অভিযানে একে একে উদ্ধার করা হয় ৭২ জনের নিথর দেহ।
​হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর স্থানীয়দের বহুদিনের দাবি অনুযায়ী দ্রুত সেখানে একটি সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চার বছর অতিবাহিত হলেও কাজের বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ স্থানীয় বাসিন্দারা। মাড়েয়া, কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জসহ আশেপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াত এই ঘাটের ওপর নির্ভরশীল। হাট-বাজার, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অসুস্থ রোগীদের বাধ্য হয়েই এখনো ছোট ছোট নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর তীব্র স্রোত পারাপারের এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
​নিহতদের স্বজনদের কান্না আজও থামেনি; তার ওপর যোগ হয়েছে প্রতিদিনের যাতায়াতের ভয় ও দুর্ভোগ। অবিলম্বে নির্মাণকাজ শেষ করে বহুল প্রতীক্ষিত আউলিয়াঘাট সেতুটি দ্রুত চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।