বাল্যবিবাহ আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হলেও দেশে থামছে না বাল্য প্রেম”
- Update Time : ১১:২২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১১ Time View

বাল্যবিবাহের আইনি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সমাজে এর বিস্তার সম্পূর্ণ রোধ না হওয়ার পেছনে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নানা জটিল কারণ কাজ করছে। এর মূল কারণগুলোকে মূলত কয়েকটি প্রধান ভাগে দেখা যায়।
সামাজিক নিরাপত্তা ও কুসংস্কার:
গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া অনেক অঞ্চলে কন্যাসন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবক পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ থাকে। ইভটিজিং, সামাজিক সুরক্ষার অভাব এবং লোকলজ্জার ভয়ে অনেক পরিবার কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়াকেই নিরাপদ মনে করে।
অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা ও দারিদ্র্য: দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারে কন্যাসন্তানকে অনেক সময় আর্থিক বোঝা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বয়স কম থাকলে যৌতুকের দাবি তুলনামূলক কম হতে পারে—এমন একটি ভুল ধারণার কারণেও অনেকে দ্রুত বিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নেয়।
সচেতনতা ও শিক্ষার অভাব: বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর শারীরিক, মানসিক ও স্বাস্থ্যগত পরিণতি (যেমন: অকাল গর্ভধারণ ও মাতৃত্বকালীন ঝুঁকি) সম্পর্কে উপযুক্ত শিক্ষার অভাব এখনও একটি বড় বাধা।
আইনের প্রয়োগ ও ফাঁকফোকর: বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন বিদ্যমান থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে ভুয়া জন্মসনদ তৈরি, বয়স বাড়িয়ে দেখানো এবং গোপনে বিয়ে নিবন্ধনের মতো অসাধু উপায় অবলম্বন করা হয়। ফলে আইনের সঠিক ও কঠোর প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কেবল আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি নারীশিক্ষা উৎসাহিত করা, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি, জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থা শতভাগ কঠোর ও ডিজিটাল করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।



















