উল্টো পথে গাড়ি চালানো ও সার্জেন্টের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েলের বিরুদ্ধে জিডি
- প্রকাশের সময় : ০৭:০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 14

রাজধানীতে উল্টো পথে গাড়ি চালানোর দায়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্টের সঙ্গে তর্কে জড়ানো এবং আংশিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে পুলিশকে হেয় করার অভিযোগ উঠেছে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আহসান হাবীব জুয়েলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ সার্জেন্ট মো. মহিউদ্দিন নিজেই বাদী হয়ে পুলিশ কন্ট্রোলরুমে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আসাদগেট পাম্প এলাকায়। ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় ‘রাস্তায় প্রবেশ নিষেধ’ (No Entry) সাইনবোর্ড থাকা সত্ত্বেও একটি সাদা মাইক্রোবাস নিষিদ্ধ দিক বা উল্টো পথ দিয়ে সড়কে প্রবেশ করে। পরে গাড়িটি আটক করে সড়ক পরিবহন আইনের ৮৭ ধারায় এর মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে মামলা করেন সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. মহিউদ্দিন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজেও মাইক্রোবাসটিকে উল্টো দিক দিয়ে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে মামলা দেওয়ার সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং পুলিশকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন ও হুমকি দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ওই ঘটনার সম্পাদিত বা আংশিক ভিডিও নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন।
অভিযোগ উঠেছে, প্রকাশিত ওই ভিডিওতে জুয়েল নিজের গাড়ি উল্টো পথে চালানোর আসল বিষয়টি সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছেন এবং কেবল পুলিশের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের অংশটুকু প্রচার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নেতিবাচকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং ব্যক্তিগতভাবেও হেয়প্রতিপন্ন হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন সার্জেন্ট মহিউদ্দিন। তিনি জানান, “কনটেন্ট ক্রিয়েটর হোন আর যাই হোন, আইন সবার জন্য সমান। আমি যথাযথ নিয়ম মেনেই আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু তিনি নিজের ভুল আড়াল করতে ঘটনা বিকৃত করে উপস্থাপন করেছেন।”
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ ও ভিডিও প্রসঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আহসান হাবীব জুয়েল গণমাধ্যমকে জানান, ওই পুলিশ সদস্যকে হেয় বা অপদস্থ করার কোনো বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তবে তাঁর আচরণে বা কথায় দায়িত্বরত সার্জেন্ট কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি তার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, পুলিশ সদস্যরা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।























