ঘাটাইলের পাহাড়ি অঞ্চলে জোঁকের আতঙ্ক খেলার মাঠ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ, ফসলের ক্ষেত ও বাড়ির আশপাশেও জোঁকের উপদ্রব—চরম ভোগান্তিতে স্থানীয়রা
- Update Time : ০২:২০:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫১ Time View

উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জোঁকের উপদ্রব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খেলার মাঠ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ, ফসলের ক্ষেত, ঝোপঝাড়, বাড়ির আশপাশ ও স্যাঁতসেঁতে জায়গায় জোঁকের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
বর্ষা ও অতিবৃষ্টির পর মাটি ও ঘাস ভেজা থাকায় এসব এলাকায় জোঁকের বিচরণ বেড়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। ফলে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, শিক্ষার্থীদের মাঠে যাতায়াত এবং কৃষকদের ফসলের মাঠে কাজ করা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘাটাইলের পূর্বাঞ্চলের একটি বড় অংশ পাহাড়ি বনাঞ্চলঘেরা। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে এ উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় লাল মাটি ও ফসলি জমির বিস্তৃতির কথা উঠে এসেছে। পাহাড়ি ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বসবাসকারী মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের জায়গাগুলোতে জোঁকের উপস্থিতি বাড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে কিংবা বিকেলে খেলার মাঠে যাওয়ার সময় ঘাস ও ভেজা মাটির সংস্পর্শে এলে পায়ে জোঁক লেগে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। একইভাবে কৃষকেরা ধানক্ষেত ও অন্যান্য ফসলি জমিতে কাজ করতে গিয়ে জোঁকের কামড়ের শিকার হওয়ার ভয়ে থাকেন। শিশুদের ক্ষেত্রে আতঙ্ক আরও বেশি, কারণ খেলাধুলার সময় তারা অনেক সময় খালি পায়ে বা স্যান্ডেল পরে মাঠে যায়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ঘাটাইলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়; চলতি বছরও উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাঠে জোঁকের উপদ্রব থাকলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও বহিরাঙ্গন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা।
কৃষকদের দুশ্চিন্তা
জোঁকের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকেরা। ফসলের পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার, ধান রোপণ কিংবা কাটার সময় দীর্ঘক্ষণ ভেজা জমিতে থাকতে হয়। ফলে পায়ে জোঁক ওঠার আশঙ্কায় অনেকে অস্বস্তি নিয়ে কাজ করছেন।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, জোঁকের উপদ্রব মোকাবিলায় এলাকার স্যাঁতসেঁতে ও ঝোপঝাড়পূর্ণ স্থানগুলো পরিষ্কার রাখা, মাঠ ও চলাচলের পথ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন।
সচেতনতার আহ্বান
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জোঁকের কামড়ে সাধারণত রক্তপাত হতে পারে। তাই জোঁক শরীরে লাগলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদভাবে সেটি সরিয়ে আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার রাখা জরুরি। অতিরিক্ত রক্তপাত, অস্বাভাবিক ফোলা বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এদিকে অভিভাবকেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং শিশুদের মাঠে পাঠানোর আগে উপযুক্ত জুতা বা সুরক্ষামূলক পোশাক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ
ঘাটাইলের পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দারা জোঁকের উপদ্রব সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, ঝোপঝাড় ও আবর্জনা অপসারণ এবং স্থানীয়ভাবে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল এবং কৃষকদের দৈনন্দিন কৃষিকাজে জোঁকের আতঙ্ক অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।




















