ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ীর ওপর হামলা ও দোকান ভাঙচুর, এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ

শাহিনুর ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধি:
শাহিনুর ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • / 109

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার আটারই গ্রামে এক অসহায় মানসিক প্রতিবন্ধী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাইদুর রহমানের ওপর হামলা ও দোকান ভাঙচুরের ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে সংঘটিত এই ঘটনার পর থেকে এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
​ঘটনার বিবরণ
​স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত প্রায় ৯টার দিকে আটারই স্কুলের সামনে নিজের ছোট্ট কাঁচামালের দোকানে কেনাবেচা করছিলেন সাইদুর রহমান। এ সময় সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে একই গ্রামের আনসার, আজগার ও মুজাহিদসহ কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাইদুরকে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি তার দোকান ভাঙচুর করে এবং কেনাবেচার মালামাল রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রেখে যায়।
​এলাকাবাসীর বক্তব্য
​ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সাইদুর রহমান একজন শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। চরম অভাব-অনটনের মাঝেও কারো কাছে হাত না পেতে সৎভাবে কাঁচামাল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তিনি। এমন একজন নিরীহ ও অসহায় মানুষের ওপর বর্বরোচিত হামলার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।
​ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের দ্রুত আইনগত আওতায় আনা না হলে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে।
​বণিক সমিতি ও প্রশাসনের বক্তব্য
​ঘটনার বিষয়ে আটারই বাজার বণিক সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন,
​”একজন অসহায় প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমি বিষয়টি জেনেছি। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
​ঘটনার বিষয়ে মোবাইল ফোনে তালা থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কার্যকর কোনো পদক্ষেপের কথা জানা যায়নি।
​বর্তমানে ভূক্তভোগী সাইদুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন আটারই গ্রামবাসী।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ীর ওপর হামলা ও দোকান ভাঙচুর, এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ

প্রকাশের সময় : ০৯:০২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার আটারই গ্রামে এক অসহায় মানসিক প্রতিবন্ধী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাইদুর রহমানের ওপর হামলা ও দোকান ভাঙচুরের ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে সংঘটিত এই ঘটনার পর থেকে এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
​ঘটনার বিবরণ
​স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত প্রায় ৯টার দিকে আটারই স্কুলের সামনে নিজের ছোট্ট কাঁচামালের দোকানে কেনাবেচা করছিলেন সাইদুর রহমান। এ সময় সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে একই গ্রামের আনসার, আজগার ও মুজাহিদসহ কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাইদুরকে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি তার দোকান ভাঙচুর করে এবং কেনাবেচার মালামাল রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রেখে যায়।
​এলাকাবাসীর বক্তব্য
​ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সাইদুর রহমান একজন শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। চরম অভাব-অনটনের মাঝেও কারো কাছে হাত না পেতে সৎভাবে কাঁচামাল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তিনি। এমন একজন নিরীহ ও অসহায় মানুষের ওপর বর্বরোচিত হামলার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।
​ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের দ্রুত আইনগত আওতায় আনা না হলে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে।
​বণিক সমিতি ও প্রশাসনের বক্তব্য
​ঘটনার বিষয়ে আটারই বাজার বণিক সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন,
​”একজন অসহায় প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমি বিষয়টি জেনেছি। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
​ঘটনার বিষয়ে মোবাইল ফোনে তালা থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কার্যকর কোনো পদক্ষেপের কথা জানা যায়নি।
​বর্তমানে ভূক্তভোগী সাইদুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন আটারই গ্রামবাসী।