০৪:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহবাজপুরজুড়ে গাউসিয়া-সুন্নি জনতার ঢল: পবিত্র ১২ই রবিউল আউয়ালে

মোঃ বাদশা মিয়া সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।
  • Update Time : ০২:৫৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৭ Time View

সরাইলে ঐতিহাসিক জসনে জুলুসে
​পবিত্র ১২ই রবিউল আউয়াল ও জশনে জুলুসে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর রূপ নিয়েছিল এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রে। ‘বন্দ্যের হাটি যুব সমাজ’ ও স্থানীয় ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ধর্মীয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় সরাইল-শাহবাজপুর এলাকায় নেমে আসে নবীপ্রেমী জনতার ঢল।
​মাঠপর্যায়ের চিত্র ও উৎসবের আবহ
​কেন্দ্রবিন্দু: সকাল থেকেই শাহবাজপুর ইউনিয়নের ‘সিন মাইল’ ও ‘বন্দ্যের হাটি’ পয়েন্টে জমায়েত হতে থাকেন সুন্নি আলেম-ওলামা ও সাধারণ তৌহিদী জনতা।
​জুলুসের রূপ: সরাইলের বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া-মহল্লা থেকে আসা ছোট ছোট মিছিল মূল শোভাযাত্রায় যুক্ত হয়ে পুরো এলাকাকে এক বিশাল ধর্মীয় মিলনমেলায় পরিণত করে।
​আবহ ও শোভা: হাতে সবুজ ব্যানার, কালেমা খচিত পতাকা এবং মুখে “মোস্তফা জানে রহমত পে লাখো সালাম”—হাজারো কণ্ঠের দরুদ ও সালাতের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে সরাইল-শাহবাজপুর রাজপথ।
​শৃঙ্খলা ও পরিচালনা: স্থানীয় যুব সমাজের স্বেচ্ছাসেবকদের সুনির্দিষ্ট ও কঠোর তদারকিতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুরো কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
​স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও মোনাজাত
​আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের নেতৃবৃন্দ ও এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, প্রতিবছর রবিউল আউয়াল এলে সরাইলে ভক্তিপূর্ণ উৎসবের আমেজ তৈরি হলেও, বন্দ্যের হাটি ও শাহবাজপুরের এবারের সমাবেশ ছিল অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সুসংগঠিত ও জনবহুল।
​শোভাযাত্রা শেষে এক বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে বিশ্বনবীর (সাঃ) সুন্নাত ও আদর্শ অনুসরণের শপথ নিয়ে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। পরবর্তীতে সমবেত হাজারো ভক্ত-মুসল্লির মাঝে তাবাররুক বিতরণের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

শাহবাজপুরজুড়ে গাউসিয়া-সুন্নি জনতার ঢল: পবিত্র ১২ই রবিউল আউয়ালে

Update Time : ০২:৫৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

সরাইলে ঐতিহাসিক জসনে জুলুসে
​পবিত্র ১২ই রবিউল আউয়াল ও জশনে জুলুসে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর রূপ নিয়েছিল এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রে। ‘বন্দ্যের হাটি যুব সমাজ’ ও স্থানীয় ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ধর্মীয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় সরাইল-শাহবাজপুর এলাকায় নেমে আসে নবীপ্রেমী জনতার ঢল।
​মাঠপর্যায়ের চিত্র ও উৎসবের আবহ
​কেন্দ্রবিন্দু: সকাল থেকেই শাহবাজপুর ইউনিয়নের ‘সিন মাইল’ ও ‘বন্দ্যের হাটি’ পয়েন্টে জমায়েত হতে থাকেন সুন্নি আলেম-ওলামা ও সাধারণ তৌহিদী জনতা।
​জুলুসের রূপ: সরাইলের বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া-মহল্লা থেকে আসা ছোট ছোট মিছিল মূল শোভাযাত্রায় যুক্ত হয়ে পুরো এলাকাকে এক বিশাল ধর্মীয় মিলনমেলায় পরিণত করে।
​আবহ ও শোভা: হাতে সবুজ ব্যানার, কালেমা খচিত পতাকা এবং মুখে “মোস্তফা জানে রহমত পে লাখো সালাম”—হাজারো কণ্ঠের দরুদ ও সালাতের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে সরাইল-শাহবাজপুর রাজপথ।
​শৃঙ্খলা ও পরিচালনা: স্থানীয় যুব সমাজের স্বেচ্ছাসেবকদের সুনির্দিষ্ট ও কঠোর তদারকিতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুরো কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
​স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও মোনাজাত
​আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের নেতৃবৃন্দ ও এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, প্রতিবছর রবিউল আউয়াল এলে সরাইলে ভক্তিপূর্ণ উৎসবের আমেজ তৈরি হলেও, বন্দ্যের হাটি ও শাহবাজপুরের এবারের সমাবেশ ছিল অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সুসংগঠিত ও জনবহুল।
​শোভাযাত্রা শেষে এক বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে বিশ্বনবীর (সাঃ) সুন্নাত ও আদর্শ অনুসরণের শপথ নিয়ে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। পরবর্তীতে সমবেত হাজারো ভক্ত-মুসল্লির মাঝে তাবাররুক বিতরণের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।