ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে গঠিত হলো বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদের নতুন কমিটি

admin
  • প্রকাশের সময় : ০৬:০৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 13

​দেশে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ মজুরির দাবি যখন প্রতিনিয়ত উপেক্ষিত হচ্ছে, ঠিক এমন এক সংকটময় সময়ে নতুন নেতৃত্ব পেল বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটিতে আগামী এক বছরের জন্য সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মনজুর মোরশেদ মামুন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আসাদুজ্জামান নূর।
​গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে অন্যান্যের মধ্যে সহসভাপতি হিসেবে ইমরান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জাহিদুল ইসলাম এবং দপ্তর সম্পাদক হিসেবে মো. রুবেল হোসাইন দায়িত্ব পেয়েছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
​নীতিনির্ধারক ও শ্রমজীবীদের বড় প্রত্যাশা
দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন খাতের শ্রমিকরা বঞ্চনা, অনিয়মিত মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে চরম নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়ে আসছেন। শ্রমিকদের এই দীর্ঘশ্বাস ও ক্ষোভকে শক্তিতে রূপ দিয়ে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে মাঠে থাকার কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েই দায়িত্ব নিলেন নতুন সভাপতি মনজুর মোরশেদ মামুন।
​দায়িত্ব গ্রহণের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মনজুর মোরশেদ মামুন বলেন, “বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি হিসেবে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা আমি আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করতে চাই। শ্রমিকদের সমস্যা ও অধিকার নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। এ দায়িত্ব পালনে সংগঠনের নেতাকর্মী ও শ্রমজীবী মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি।”
​কঠিন পরীক্ষার মুখে নতুন নেতৃত্ব
বিশ্লেষকদের মতে, কাগজে-কলমে কমিটি গঠন আর স্লোগান দেওয়ার দিন এখন শেষ। দেশের কলকারখানা ও উৎপাদন খাতে শ্রমিকদের রক্ত ও ঘামের সঠিক মূল্যায়ন না হলে কেবল কমিটি দিয়ে মাঠের লড়াই জয় করা সম্ভব নয়। নামসর্বস্ব আন্দোলন বা তোষামোদি শ্রমিক রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে নতুন এই নেতৃত্ব কতটা আপসহীনভাবে রাজপথে শ্রমিকদের অধিকার আদায় করতে পারে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় দেখার বিষয়।
​শ্রমিক অধিকারের এই নতুন নেতৃত্ব কেবল পদ-পদবিতে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি সত্যিকার অর্থেই দেশের কোটি শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে—তা সময়ই বলে দেবে।
​

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রিপোর্টারের তথ্য
admin

শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে গঠিত হলো বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদের নতুন কমিটি

প্রকাশের সময় : ০৬:০৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

​দেশে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ মজুরির দাবি যখন প্রতিনিয়ত উপেক্ষিত হচ্ছে, ঠিক এমন এক সংকটময় সময়ে নতুন নেতৃত্ব পেল বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটিতে আগামী এক বছরের জন্য সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মনজুর মোরশেদ মামুন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আসাদুজ্জামান নূর।
​গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে অন্যান্যের মধ্যে সহসভাপতি হিসেবে ইমরান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জাহিদুল ইসলাম এবং দপ্তর সম্পাদক হিসেবে মো. রুবেল হোসাইন দায়িত্ব পেয়েছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
​নীতিনির্ধারক ও শ্রমজীবীদের বড় প্রত্যাশা
দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন খাতের শ্রমিকরা বঞ্চনা, অনিয়মিত মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে চরম নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়ে আসছেন। শ্রমিকদের এই দীর্ঘশ্বাস ও ক্ষোভকে শক্তিতে রূপ দিয়ে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে মাঠে থাকার কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েই দায়িত্ব নিলেন নতুন সভাপতি মনজুর মোরশেদ মামুন।
​দায়িত্ব গ্রহণের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মনজুর মোরশেদ মামুন বলেন, “বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি হিসেবে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা আমি আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করতে চাই। শ্রমিকদের সমস্যা ও অধিকার নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। এ দায়িত্ব পালনে সংগঠনের নেতাকর্মী ও শ্রমজীবী মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি।”
​কঠিন পরীক্ষার মুখে নতুন নেতৃত্ব
বিশ্লেষকদের মতে, কাগজে-কলমে কমিটি গঠন আর স্লোগান দেওয়ার দিন এখন শেষ। দেশের কলকারখানা ও উৎপাদন খাতে শ্রমিকদের রক্ত ও ঘামের সঠিক মূল্যায়ন না হলে কেবল কমিটি দিয়ে মাঠের লড়াই জয় করা সম্ভব নয়। নামসর্বস্ব আন্দোলন বা তোষামোদি শ্রমিক রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে নতুন এই নেতৃত্ব কতটা আপসহীনভাবে রাজপথে শ্রমিকদের অধিকার আদায় করতে পারে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় দেখার বিষয়।
​শ্রমিক অধিকারের এই নতুন নেতৃত্ব কেবল পদ-পদবিতে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি সত্যিকার অর্থেই দেশের কোটি শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে—তা সময়ই বলে দেবে।
​