ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী সোনামুখী মেলা শুরু, জমে উঠছে গ্রামীণ উৎসব

কে,এম রিমান ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
কে,এম রিমান ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ১১:০২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 50

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সোনামুখী মেলা শুরু হয়েছে। প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো এ মেলাকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও লোকজ বিনোদনের সমন্বয়ে মেলাটি আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে সোনামুখী এলাকায়।

গতকাল থেকে শুরু হওয়া এ মেলায় দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে রাখা হয়েছে নানা ধরনের বিনোদনের আয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে দুটি সার্কাসসহ বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক কার্যক্রম। মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার দর্শনার্থীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মেলা আরও জমজমাট হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে পরিচিত সোনামুখী মেলা শুধু কেনাবেচা কিংবা বিনোদনের জায়গা নয়; এটি গ্রামীণ জনপদের মানুষের মিলনমেলাও। প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজনকে ঘিরে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা যায়। পরিবার-পরিজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে মেলায় ঘুরে বেড়ানো, বিভিন্ন আয়োজন উপভোগ করা এবং উৎসবের আমেজে সময় কাটানো গ্রামীণ জীবনের অন্যতম আকর্ষণ।

প্রায় তিন শতাব্দীর ঐতিহ্য বহনকারী এ মেলা স্থানীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে বলে মনে করেন স্থানীয় ঐতিহ্যপ্রেমীরা। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মেলার স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়েছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রায় নানা পরিবর্তন এলেও ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনকে ঘিরে আগ্রহ এখনো ধরে রেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মেলায় সার্কাসের আয়োজন দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও বিনোদনপ্রেমীদের কাছে সার্কাস অন্যতম উপভোগ্য আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি মেলার অন্যান্য আয়োজনও দর্শনার্থীদের আনন্দ দেওয়ার প্রত্যাশা তৈরি করেছে। ফলে মেলাকে ঘিরে সোনামুখী এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।

গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে লোকজ সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ ধরনের মেলার গুরুত্ব রয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যও মেলা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার সোনামুখীতে আয়োজিত এ ঐতিহ্যবাহী মেলা দেখতে পরিবার-পরিজন নিয়ে দর্শনার্থীদের আসার সুযোগ রয়েছে। ঐতিহ্য, আনন্দ ও বিনোদনের সমন্বয়ে সোনামুখী মেলা আগামী দিনগুলোতে আরও জমে উঠবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী সোনামুখী মেলা শুরু, জমে উঠছে গ্রামীণ উৎসব

প্রকাশের সময় : ১১:০২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সোনামুখী মেলা শুরু হয়েছে। প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো এ মেলাকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও লোকজ বিনোদনের সমন্বয়ে মেলাটি আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে সোনামুখী এলাকায়।

গতকাল থেকে শুরু হওয়া এ মেলায় দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে রাখা হয়েছে নানা ধরনের বিনোদনের আয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে দুটি সার্কাসসহ বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক কার্যক্রম। মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার দর্শনার্থীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মেলা আরও জমজমাট হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে পরিচিত সোনামুখী মেলা শুধু কেনাবেচা কিংবা বিনোদনের জায়গা নয়; এটি গ্রামীণ জনপদের মানুষের মিলনমেলাও। প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজনকে ঘিরে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা যায়। পরিবার-পরিজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে মেলায় ঘুরে বেড়ানো, বিভিন্ন আয়োজন উপভোগ করা এবং উৎসবের আমেজে সময় কাটানো গ্রামীণ জীবনের অন্যতম আকর্ষণ।

প্রায় তিন শতাব্দীর ঐতিহ্য বহনকারী এ মেলা স্থানীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে বলে মনে করেন স্থানীয় ঐতিহ্যপ্রেমীরা। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মেলার স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়েছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রায় নানা পরিবর্তন এলেও ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনকে ঘিরে আগ্রহ এখনো ধরে রেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মেলায় সার্কাসের আয়োজন দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও বিনোদনপ্রেমীদের কাছে সার্কাস অন্যতম উপভোগ্য আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি মেলার অন্যান্য আয়োজনও দর্শনার্থীদের আনন্দ দেওয়ার প্রত্যাশা তৈরি করেছে। ফলে মেলাকে ঘিরে সোনামুখী এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।

গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে লোকজ সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ ধরনের মেলার গুরুত্ব রয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যও মেলা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার সোনামুখীতে আয়োজিত এ ঐতিহ্যবাহী মেলা দেখতে পরিবার-পরিজন নিয়ে দর্শনার্থীদের আসার সুযোগ রয়েছে। ঐতিহ্য, আনন্দ ও বিনোদনের সমন্বয়ে সোনামুখী মেলা আগামী দিনগুলোতে আরও জমে উঠবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।