ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬,
২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেলান্দহে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস২০২৬ইং পালিত ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত 

Rohul Amin
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / 40

filter: 0; jpegRotation: 0; fileterIntensity: 0.000000; filterMask: 0; module:1facing:0; hw-remosaic: 0; touch: (-1.0, -1.0); modeInfo: ; sceneMode: Night; cct_value: 0; AI_Scene: (-1, -1); aec_lux: 60.0; hist255: 0.0; hist252~255: 0.0; hist0~15: 0.0;

“করবো সমবায়, গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরের মেলান্দহে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে।
রোববার মেলান্দহ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ আবদুল মজিদ ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব জিন্নাতুল আরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব মাহমুদ আক্তার জ্যোতি, মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে মেলান্দহ উপজেলার বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্যবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।এসময় বক্তারা
সমবায়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন,
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সমবায় আন্দোলনের একটি সুদীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। উনিশ শতকের শেষভাগে ইউরোপে বিশেষ করে সমবায়ের জনক রবার্ট ওয়েনের হাত ধরে এবং পরবর্তীতে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে অবিভক্ত বাংলায় সমবায় আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। ১৯০৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে প্রথম সমবায় আইন পাস হওয়ার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমবায় কার্যক্রম শুরু হয়। গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সহজ শর্তে পুঁজি গঠনের লক্ষ্যে সমবায় আন্দোলন এ দেশে শক্ত ভিত্তি লাভ করে। সময়ের পরিক্রমায় সমবায় আজ দেশের অর্থনীতিতে গ্রামীণ জনপদ ও কৃষিখাতে এক অনন্য ঐতিহ্য হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

সমবায়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
আলোচনা সভায় বক্তারা সমবায়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে আরও বলেন:
* দারিদ্র্য বিমোচন ও আত্মকর্মসংস্থান: সমবায় সমিতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মানসিকতা গড়ে তোলে এবং নিজেদের পুঁজি দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
* উৎপাদন ও বিপণন বৃদ্ধি: কৃষি, মৎস্য চাষ, দুগ্ধ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতের সমবায়ীরা একত্রিত হয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
* সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতি: “সবাই আমরা একের তরে, সবাই আমরা দেশের তরে”—এই নীতিতে বিশ্বাসী সমবায় পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক ও সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।
* অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস: সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রমের ফলে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয় এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার সুযোগ পায়।
আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং সমবায় আন্দোলনের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করা হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রিপোর্টারের তথ্য
রুহুল আমিন

রুহুল আমিন

উপজেলা প্রতিনিধি, মেলান্দহ, জামালপুর

মেলান্দহে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস২০২৬ইং পালিত ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত 

প্রকাশের সময় : ০৯:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

“করবো সমবায়, গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরের মেলান্দহে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে।
রোববার মেলান্দহ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ আবদুল মজিদ ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব জিন্নাতুল আরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব মাহমুদ আক্তার জ্যোতি, মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে মেলান্দহ উপজেলার বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্যবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।এসময় বক্তারা
সমবায়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন,
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সমবায় আন্দোলনের একটি সুদীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। উনিশ শতকের শেষভাগে ইউরোপে বিশেষ করে সমবায়ের জনক রবার্ট ওয়েনের হাত ধরে এবং পরবর্তীতে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে অবিভক্ত বাংলায় সমবায় আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। ১৯০৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে প্রথম সমবায় আইন পাস হওয়ার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমবায় কার্যক্রম শুরু হয়। গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সহজ শর্তে পুঁজি গঠনের লক্ষ্যে সমবায় আন্দোলন এ দেশে শক্ত ভিত্তি লাভ করে। সময়ের পরিক্রমায় সমবায় আজ দেশের অর্থনীতিতে গ্রামীণ জনপদ ও কৃষিখাতে এক অনন্য ঐতিহ্য হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

সমবায়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
আলোচনা সভায় বক্তারা সমবায়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে আরও বলেন:
* দারিদ্র্য বিমোচন ও আত্মকর্মসংস্থান: সমবায় সমিতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মানসিকতা গড়ে তোলে এবং নিজেদের পুঁজি দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
* উৎপাদন ও বিপণন বৃদ্ধি: কৃষি, মৎস্য চাষ, দুগ্ধ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতের সমবায়ীরা একত্রিত হয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
* সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতি: “সবাই আমরা একের তরে, সবাই আমরা দেশের তরে”—এই নীতিতে বিশ্বাসী সমবায় পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক ও সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।
* অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস: সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রমের ফলে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয় এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার সুযোগ পায়।
আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং সমবায় আন্দোলনের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করা হয়।