ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,
১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনের দুবলার চরে ১ নভেম্বর থেকে শুঁটকির মৌসুম শুরু, প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা

শাওন আকবার শান্ত মোংলা প্রতিনিধি
শাওন আকবার শান্ত মোংলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ১১:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 33

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের দুবলার চরে সামুদ্রিক শুঁটকি আহরণ, বাছাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রধান মৌসুম শুরু হচ্ছে আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে। আগামী পাঁচ মাস এই চরে থেকে শুঁটকি উৎপাদনের কাজে ব্যস্ত থাকবেন উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার জেলে।

বন বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, ১ নভেম্বর থেকে শুঁটকি সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক অনুমতি মিললেও জেলেরা নিয়ম মেনে আগেই চরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি শেষ করেছেন। সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন দুবলার চরের আলোরকোল, নারিকেলবাড়িয়া, মাঝেরকিল্লা, শ্যালার চর ও মেহের আলীর চরে অস্থায়ী বাসস্থান এবং শুঁটকি শুকানোর চালা বা মাচা বানানোর কাজ শুরু হয়েছে। আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এখানে শুঁটকি তৈরির কাজ চলবে।

দুবলার চরের শুঁটকি পল্লীকে ঘিরে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয় বন বিভাগের। এবারও বন বিভাগের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জেলেদের জন্য কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ঘর বা মাচা নির্মাণের জন্য সুন্দরবনের কোনো গাছপালা, লতাপাতা বা গোলপাতা কাটা সম্পূর্ণ নিষেধ। ঘর তৈরির সব ধরনের মালামাল জেলেদের নিজ খরচে বাইরে থেকে নিয়ে যেতে হবে।

জেলে ও জেল মহাজনরা জানান, এখানে লোহা চ্যাঁপা, লইট্যা, ছুরি, চিংড়ি, রূপচাঁদা, পোয়া, মেদসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ধরে প্রাকৃতিকভাবে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়। এই শুঁটকি দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে।

চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক দীপন চন্দ্র দাস বলেন, জেলেরা যাতে শান্তিতে ও নিরাপদে শুঁটকি উৎপাদন করতে পারে সেজন্য বনরক্ষীদের টহল বাড়ানো হয়েছে। একইসাথে কেউ যেন নিষিদ্ধ বনাঞ্চলে প্রবেশ না করে বা বন্যপ্রাণীর ক্ষতি না করে, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হবে।#

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সুন্দরবনের দুবলার চরে ১ নভেম্বর থেকে শুঁটকির মৌসুম শুরু, প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা

প্রকাশের সময় : ১১:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের দুবলার চরে সামুদ্রিক শুঁটকি আহরণ, বাছাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রধান মৌসুম শুরু হচ্ছে আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে। আগামী পাঁচ মাস এই চরে থেকে শুঁটকি উৎপাদনের কাজে ব্যস্ত থাকবেন উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার জেলে।

বন বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, ১ নভেম্বর থেকে শুঁটকি সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক অনুমতি মিললেও জেলেরা নিয়ম মেনে আগেই চরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি শেষ করেছেন। সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন দুবলার চরের আলোরকোল, নারিকেলবাড়িয়া, মাঝেরকিল্লা, শ্যালার চর ও মেহের আলীর চরে অস্থায়ী বাসস্থান এবং শুঁটকি শুকানোর চালা বা মাচা বানানোর কাজ শুরু হয়েছে। আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এখানে শুঁটকি তৈরির কাজ চলবে।

দুবলার চরের শুঁটকি পল্লীকে ঘিরে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয় বন বিভাগের। এবারও বন বিভাগের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জেলেদের জন্য কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ঘর বা মাচা নির্মাণের জন্য সুন্দরবনের কোনো গাছপালা, লতাপাতা বা গোলপাতা কাটা সম্পূর্ণ নিষেধ। ঘর তৈরির সব ধরনের মালামাল জেলেদের নিজ খরচে বাইরে থেকে নিয়ে যেতে হবে।

জেলে ও জেল মহাজনরা জানান, এখানে লোহা চ্যাঁপা, লইট্যা, ছুরি, চিংড়ি, রূপচাঁদা, পোয়া, মেদসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ধরে প্রাকৃতিকভাবে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়। এই শুঁটকি দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে।

চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক দীপন চন্দ্র দাস বলেন, জেলেরা যাতে শান্তিতে ও নিরাপদে শুঁটকি উৎপাদন করতে পারে সেজন্য বনরক্ষীদের টহল বাড়ানো হয়েছে। একইসাথে কেউ যেন নিষিদ্ধ বনাঞ্চলে প্রবেশ না করে বা বন্যপ্রাণীর ক্ষতি না করে, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হবে।#