৩০০ বছরের ঐতিহ্য: কাল শুরু হচ্ছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের বিখ্যাত ‘সোনামুখী মেলা’
- Update Time : ০১:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৭ Time View

সিরাজগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন জনপদ কাজিপুরের গ্রামীণ সংস্কৃতির অন্যতম গৌরবময় নিদর্শন ঐতিহ্যবাহী ‘সোনামুখী মেলা’র সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক এই মেলা। যুগ যুগ ধরে এটি কেবল কেনাকাটার একটি কেন্দ্র নয়, বরং অত্র অঞ্চলের মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ও মিলনমেলায় পরিণত হয়ে আসছে।
মেলাকে কেন্দ্র করে কাজিপুর ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে ঘরে ঘরে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সূচনা
স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি ও ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় তিনশত বছর আগে জমিদার আমল বা তারও পূর্ববর্তী সময়ে এই মেলার গোড়াপত্তন ঘটে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং এলাকাবাসীর কাছে এর সোনাঝরা ঐতিহ্য ও সামাজিক গুরুত্বের প্রতীক হিসেবেই কালক্রমে এর নামকরণ করা হয় “সোনামুখী মেলা”।
স্থান ও পরিধি
কাজীপুর উপজেলার নির্ধারিত একটি ঐতিহ্যবাহী মাঠে প্রতি বছর এই মেলার আয়োজন করা হয়। সাধারণত দুর্গোৎসব ও শীতকালীন মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এই মেলা বসে। কয়েক দিনব্যাপী আয়োজিত এই মেলায় সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে লক্ষাধিক দর্শনার্থী ও ক্রেতার সমাগম ঘটে।
মেলার প্রধান আকর্ষণ ও পণ্যসমাহার
মেলায় গ্রামীণ মেজাজের নানা ঐতিহ্যবাহী জিনিসপত্রের বিপুল সমাহার ঘটে:
হস্ত ও কুটির শিল্প: বাঁশ-বেত ও কাঠের তৈরি নানা গৃহস্থালি সামগ্রী, মাটির তৈরি তৈজসপত্র ও আকর্ষণীয় খেলনা।
ঐতিহ্যবাহী খাবার: মুখরোচক লোকজ মিষ্টি—তিলের খাজা, গরম জিলিপি, কদমা এবং রকমারি পিঠা-পুলি।
কৃষি ও আসবাবপত্র: কৃষকদের নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষি সরঞ্জাম এবং কাঠের তৈরি আধুনিক ও প্রাচীন নকশার আকর্ষণীয় আসবাবপত্র।
বিনোদন ও সংস্কৃতি: মেলা প্রাঙ্গণে জমে ওঠে নাগরদোলা, সার্কাস, পুতুল নাচ এবং গ্রামবাংলার লোকসংগীতের জমকালো আসর।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য
সোনামুখী মেলাকে কেন্দ্র করে কাজিপুর ও আশপাশের এলাকায় আত্মীয়স্বজন, বিশেষ করে মেয়ে-জামাইদের দাওয়াত করে ‘নাইওর’ আনার এক দীর্ঘদিনের সামাজিক রীতি রয়েছে। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সকল মানুষের উপস্থিতিতে এটি অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণে পরিণত হয়। পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কুটিরশিল্পী ও ব্যবসায়ীদের পণ্য বিক্রির মাধ্যমে এটি আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বিশেষ গতিশীলতা এনে দেয়।
আধুনিকতার ছোঁয়া সত্ত্বেও কাজীপুরের সোনামুখী মেলা তার শত বছরের শিকড় ও আবহমান বাংলার সংস্কৃতিকে ধারণ করে আজও স্বমহিমায় উজ্জ্বল। এটি আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক অনন্য জীবন্ত দলিল।
নোট: আপনি চাইলে আপনার সংবাদ মাধ্যমের ধরন অনুযায়ী শিরোনামটি সামান্য পরিবর্তন করে ব্যবহার করতে পারেন। কোনো বিষয় যুক্ত বা বাদ দিতে চাইলে জানাতে পারেন!




















