০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমার জেল হবে না ফাঁসি গো উকিল…”—মরহুম চাঁন বয়াতির কালজয়ী গানে নইলা ঘাট বাজারে আবেগঘন বাউল সন্ধ্যা

​রুহুল আমিন উপজেলা প্রতিনিধি, মেলান্দহ জামালপুর
  • Update Time : ০৮:০৯:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৬৩ Time View

“আমার জেল হবে না ফাঁসি গো উকিল তো কয়লো না, ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল হক আমার জামিন দিলো না”—জেলহাজতে বসে রচিত মরহুম চাঁন বয়াতির এই বিখ্যাত কালজয়ী গানটি যখন তাঁর সুযোগ্য সন্তান লাভলু বয়াতির কণ্ঠে বেজে উঠল, তখন মেলান্দহের নইলা ঘাট বাজারের বাউল সন্ধ্যার আসরে উপস্থিত শত শত শ্রোতা এক আবেগঘন মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যান। বাবার স্মৃতি ও তাঁর জীবনের করুণ ইতিহাস গানে গানে স্মরণ করে আবারও মেলান্দহবাসীকে সুরের মায়াজালে ভাসালেন লাভলু বয়াতি।
​সম্প্রতি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ৪ নং নাংলা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী নইলা ঘাট বাজারে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই ‘বাউল সন্ধ্যা’। লোকসংগীত ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
​বরেণ্য অতিথিবৃন্দের উপস্থিতি
​সংগীতানুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ মঞ্জুরুল কবির মঞ্জু। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৪ নং নাংলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ জাকির হোসেন।
​এছাড়া অনুষ্ঠানের মধ্যমণি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে আলোকিত করেন সাবেক মেলান্দহ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ আশেক এলাহী জনি। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সংস্কৃতিপ্রেমী সাধারণ মানুষ বিপুল সংখ্যায় অংশ নেন।
​কালজয়ী গান ও চাঁন বয়াতির জীবনের ইতিহাস
​জামালপুরের লোকসংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র মরহুম চাঁন বয়াতির জীবনে নেমে এসেছিল নানা ঘাত-প্রতিঘাত। অন্যায় ও পরিস্থিতির শিকার হয়ে একসময় তাঁকে জেলহাজতে যেতে হয়। আর সেই বন্দি জীবনে রচিত হয় তাঁর হৃদয়ের রক্তক্ষরণ ও আকুতিমাখা গান—”আমার জেল হবে না ফাঁসি গো উকিল তো কায়রো না, ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল হক আমার জামিন দিলো না…”।
​দেহতত্ত্ব, মারফতি ও আধ্যাত্মিক গানের পাশাপাশি চাঁন বয়াতির এই বাস্তবতাভিত্তিক গানটি বাংলার লোকসংগীতের ইতিহাসে এক কালজয়ী সৃষ্টি হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
​বাবার সুরের মশাল সন্তান লাভলু বয়াতির হাতে
​বাবার স্মৃতিকে অমলিন রাখতে এবং জামালপুরের লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন লাভলু বয়াতি। নইলা ঘাট বাজারের বাউল সন্ধ্যার রঙিন আলোয় মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাবা চাঁন বয়াতির ঐতিহ্যবাহী গানগুলো একের পর এক পরিবেশন করেন তিনি।
​লাভলু বয়াতি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমার বাবা জেলহাজতের অন্ধ প্রকোষ্ঠে বসে যে গান সৃষ্টি করেছিলেন, তা কেবল গান নয়—তা ছিল তাঁর জীবনের জীবন্ত অনুভূতি। বাবার রেখে যাওয়া সেই সুর ও সংগীত সাধনাকে সারা জীবন মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই আমার একমাত্র লক্ষ্য।”
​যন্ত্রশিল্পীদের নিখুঁত পরিবেশনা ও লাভলু বয়াতির দরদী কণ্ঠের মূর্ছনায় গভীর রাত পর্যন্ত গভীর আগ্রহ নিয়ে গান উপভোগ করেন আগত সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকরা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

আমার জেল হবে না ফাঁসি গো উকিল…”—মরহুম চাঁন বয়াতির কালজয়ী গানে নইলা ঘাট বাজারে আবেগঘন বাউল সন্ধ্যা

Update Time : ০৮:০৯:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

“আমার জেল হবে না ফাঁসি গো উকিল তো কয়লো না, ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল হক আমার জামিন দিলো না”—জেলহাজতে বসে রচিত মরহুম চাঁন বয়াতির এই বিখ্যাত কালজয়ী গানটি যখন তাঁর সুযোগ্য সন্তান লাভলু বয়াতির কণ্ঠে বেজে উঠল, তখন মেলান্দহের নইলা ঘাট বাজারের বাউল সন্ধ্যার আসরে উপস্থিত শত শত শ্রোতা এক আবেগঘন মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যান। বাবার স্মৃতি ও তাঁর জীবনের করুণ ইতিহাস গানে গানে স্মরণ করে আবারও মেলান্দহবাসীকে সুরের মায়াজালে ভাসালেন লাভলু বয়াতি।
​সম্প্রতি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ৪ নং নাংলা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী নইলা ঘাট বাজারে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই ‘বাউল সন্ধ্যা’। লোকসংগীত ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
​বরেণ্য অতিথিবৃন্দের উপস্থিতি
​সংগীতানুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ মঞ্জুরুল কবির মঞ্জু। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৪ নং নাংলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ জাকির হোসেন।
​এছাড়া অনুষ্ঠানের মধ্যমণি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে আলোকিত করেন সাবেক মেলান্দহ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ আশেক এলাহী জনি। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সংস্কৃতিপ্রেমী সাধারণ মানুষ বিপুল সংখ্যায় অংশ নেন।
​কালজয়ী গান ও চাঁন বয়াতির জীবনের ইতিহাস
​জামালপুরের লোকসংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র মরহুম চাঁন বয়াতির জীবনে নেমে এসেছিল নানা ঘাত-প্রতিঘাত। অন্যায় ও পরিস্থিতির শিকার হয়ে একসময় তাঁকে জেলহাজতে যেতে হয়। আর সেই বন্দি জীবনে রচিত হয় তাঁর হৃদয়ের রক্তক্ষরণ ও আকুতিমাখা গান—”আমার জেল হবে না ফাঁসি গো উকিল তো কায়রো না, ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল হক আমার জামিন দিলো না…”।
​দেহতত্ত্ব, মারফতি ও আধ্যাত্মিক গানের পাশাপাশি চাঁন বয়াতির এই বাস্তবতাভিত্তিক গানটি বাংলার লোকসংগীতের ইতিহাসে এক কালজয়ী সৃষ্টি হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
​বাবার সুরের মশাল সন্তান লাভলু বয়াতির হাতে
​বাবার স্মৃতিকে অমলিন রাখতে এবং জামালপুরের লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন লাভলু বয়াতি। নইলা ঘাট বাজারের বাউল সন্ধ্যার রঙিন আলোয় মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাবা চাঁন বয়াতির ঐতিহ্যবাহী গানগুলো একের পর এক পরিবেশন করেন তিনি।
​লাভলু বয়াতি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমার বাবা জেলহাজতের অন্ধ প্রকোষ্ঠে বসে যে গান সৃষ্টি করেছিলেন, তা কেবল গান নয়—তা ছিল তাঁর জীবনের জীবন্ত অনুভূতি। বাবার রেখে যাওয়া সেই সুর ও সংগীত সাধনাকে সারা জীবন মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই আমার একমাত্র লক্ষ্য।”
​যন্ত্রশিল্পীদের নিখুঁত পরিবেশনা ও লাভলু বয়াতির দরদী কণ্ঠের মূর্ছনায় গভীর রাত পর্যন্ত গভীর আগ্রহ নিয়ে গান উপভোগ করেন আগত সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকরা।