আশাশুনির নওয়াপাড়া ও বুধহাটায় ভেড়ী বাঁধে ভয়াবহ ফাটল।।পরিদর্শনে এমপি রবিউল বাশার ★ দ্রুতই বাঁধ রক্ষার কাজ শুরু হবে—এমপি
- Update Time : ১২:০১:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / ১৯ Time View

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের নওয়াপাড়া ও বুধহাটা বাজারসংলগ্ন বেতনা নদীর ভেড়ী বাঁধে ভয়াবহ ফাটল ও তীব্র নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ জনপদ,ফসলি জমি,মৎস্যঘের,দোকানপাট ও বসতভিটা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত বাঁধ রক্ষার কাজ শুরুর আশ্বাস দেন।
স্থানীয়রা জানান,নওয়াপাড়া অংশের বিপরীত তীরে নদী খননের কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়ায় নদীর স্রোত সরাসরি নওয়াপাড়ার ভেড়ী বাঁধে আঘাত হানছে। এতে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ হাত এলাকায় বাঁধের নিচের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাশাপাশি প্রায় ১০০ হাতজুড়ে মূল বাঁধে ভয়াবহ ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রতিনিয়ত আরও বড় হচ্ছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কয়েক হাতজুড়ে বাঁধের মাটি ধসে নিচে নেমে গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, এখনই জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কার না করা হলে যেকোনো সময় এটি সম্পূর্ণ ভেঙে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বুধহাটা,ফিংড়ী, ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহর ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম, হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমি ও অসংখ্য মৎস্যঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিদর্শনকালে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের এপিপি ও বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আলহাজ আব্দুল কুদ্দুস,আব্দুল মোতালেব ঢালী, আলহাজ মিজানুর রহমান,মাওলানা জিয়ারুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
নওয়াপাড়া পরিদর্শন শেষে এমপি রবিউল বাশার বুধহাটা বাজারের খেয়াঘাটসংলগ্ন ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে বাজারের একটি অংশ, বুড়োপীর সাহেবের দরগাহ এবং দ্বাদশ শিব ও কালী মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে এমপি রবিউল বাশার বলেন,”ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই বাঁধ রক্ষার কাজ শুরু হবে। মানুষের জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
দীর্ঘদিনের নদীভাঙন ও অবহেলায় ঝুঁকিতে থাকা এই ভেড়ী বাঁধ দ্রুত সংস্কারের দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে এখন একটাই প্রত্যাশা—প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হোক, রক্ষা পাক জনপদ।##



















