০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারী বর্ষণে ঘর হারিয়ে নিঃস্ব সহিদুল মোড়ল, পাশে দাঁড়ালো ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন

শাহিনুর ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধি:
  • Update Time : ০২:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮ Time View

টানা অতিরিক্ত বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়েছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের কেয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সহিদুল মোড়ল (পিতা: জনাব আলী মোড়ল)। ঘর ভেঙে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়া এই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১ ঘটিকায় ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির মাঝে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার কিরণ বালা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণ বিতরণ শেষে ঘটনার বিস্তারিত ও তাদের প্রতিক্রিয়া জানতে মুখোমুখি হয়েছিলেন আমাদের প্রতিনিধি। নিচে সেই আলাপচারিতা ও সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
প্রতিবেদক: সহিদুল ভাই, আপনার ঘরের এই অবস্থা কীভাবে হলো? যদি একটু বিস্তারিত বলতেন।
মোঃ সহিদুল মোড়ল: , কয়েকদিনের একটানা অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে আমার মাটির ঘরটা হঠাৎ করেই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। ঝড়ের মতো বাতাস আর বৃষ্টির চোটে ঘরের চাল-দেওয়াল কিছুই রক্ষা করতে পারি নাই। সব শেষ হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াবো, কী খাবো—কোনো দিশা পাচ্ছিলাম না।”
আজ তো প্রশাসন থেকে আপনাদের সাহায্য দেওয়া হলো। সরকারি এই সহায়তা পেয়ে আপনার কেমন লাগছে?

মোঃ সহিদুল মোড়ল: “আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া। স্যাররা খবর পেয়ে আজ সকালেই আমাদের কাছে ছুটে এসেছেন। এই বিপদের সময় চাল, ডাল আর শুকনো খাবার পেয়ে আমাদের অনেক বড় উপকার হলো। অন্তত দুটা দিন পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে না। আমি সহকারী কমিশনার স্যার ও ভূমি অফিসের সবার কাছে কৃতজ্ঞ।”

: (সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাসের উদ্দেশ্যে) এই পরিবারটির পুনর্বাসন বা পরবর্তী সহায়তার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?

অমিত কুমার বিশ্বাস (সহকারী কমিশনার, ভূমি): “অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মোঃ সহিদুল মোড়লের ঘর ভেঙে যাওয়ার খবরটি পাওয়ার পরপরই আমরা দ্রুত সাড়া দিয়েছি। সকাল ১১টায় আমরা এখানে এসে প্রাথমিকভাবে তাঁদের জরুরি খাদ্য সহায়তা ও ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি। দুর্যোগে কোনো মানুষ যেন কষ্টে না থাকে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা তাঁদের ঘরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করছি এবং পরবর্তীতে সরকারি নিয়মানুযায়ী ঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন বা গৃহনির্মাণ তহবিলের মাধ্যমে স্থায়ী সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করব।”

ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা জানান, দুর্যোগের মুহূর্তে প্রশাসনের এমন মানবিক ও দ্রুত সাড়াদান অসহায় পরিবারটিকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগাবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ভারী বর্ষণে ঘর হারিয়ে নিঃস্ব সহিদুল মোড়ল, পাশে দাঁড়ালো ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন

Update Time : ০২:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

টানা অতিরিক্ত বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়েছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের কেয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সহিদুল মোড়ল (পিতা: জনাব আলী মোড়ল)। ঘর ভেঙে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়া এই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১ ঘটিকায় ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির মাঝে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার কিরণ বালা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণ বিতরণ শেষে ঘটনার বিস্তারিত ও তাদের প্রতিক্রিয়া জানতে মুখোমুখি হয়েছিলেন আমাদের প্রতিনিধি। নিচে সেই আলাপচারিতা ও সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
প্রতিবেদক: সহিদুল ভাই, আপনার ঘরের এই অবস্থা কীভাবে হলো? যদি একটু বিস্তারিত বলতেন।
মোঃ সহিদুল মোড়ল: , কয়েকদিনের একটানা অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে আমার মাটির ঘরটা হঠাৎ করেই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। ঝড়ের মতো বাতাস আর বৃষ্টির চোটে ঘরের চাল-দেওয়াল কিছুই রক্ষা করতে পারি নাই। সব শেষ হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াবো, কী খাবো—কোনো দিশা পাচ্ছিলাম না।”
আজ তো প্রশাসন থেকে আপনাদের সাহায্য দেওয়া হলো। সরকারি এই সহায়তা পেয়ে আপনার কেমন লাগছে?

মোঃ সহিদুল মোড়ল: “আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া। স্যাররা খবর পেয়ে আজ সকালেই আমাদের কাছে ছুটে এসেছেন। এই বিপদের সময় চাল, ডাল আর শুকনো খাবার পেয়ে আমাদের অনেক বড় উপকার হলো। অন্তত দুটা দিন পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে না। আমি সহকারী কমিশনার স্যার ও ভূমি অফিসের সবার কাছে কৃতজ্ঞ।”

: (সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাসের উদ্দেশ্যে) এই পরিবারটির পুনর্বাসন বা পরবর্তী সহায়তার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?

অমিত কুমার বিশ্বাস (সহকারী কমিশনার, ভূমি): “অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মোঃ সহিদুল মোড়লের ঘর ভেঙে যাওয়ার খবরটি পাওয়ার পরপরই আমরা দ্রুত সাড়া দিয়েছি। সকাল ১১টায় আমরা এখানে এসে প্রাথমিকভাবে তাঁদের জরুরি খাদ্য সহায়তা ও ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি। দুর্যোগে কোনো মানুষ যেন কষ্টে না থাকে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা তাঁদের ঘরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করছি এবং পরবর্তীতে সরকারি নিয়মানুযায়ী ঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন বা গৃহনির্মাণ তহবিলের মাধ্যমে স্থায়ী সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করব।”

ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা জানান, দুর্যোগের মুহূর্তে প্রশাসনের এমন মানবিক ও দ্রুত সাড়াদান অসহায় পরিবারটিকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগাবে।