০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তরবঙ্গের ‘অ্যামাজন’ খ্যাত শালবন – নবাবগঞ্জ শালবন

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১১ Time View

মোঃ মেহেদী হাসান ফুলবাড়ী দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত নবাবগঞ্জ শালবন। চরকাই ফরেস্ট রেঞ্জের আওতাধীন এই বিশাল বনাঞ্চল ঘিরে রয়েছে প্রায় দেড় হাজার একর সবুজের সমারোহ।
ঘন শালগাছ আর নির্জন পরিবেশে বনের ভেতরে প্রবেশ করলেই অনুভব হবে এক অন্যরকম শিহরণ। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ছুটে আসেন পর্যটকরা।
শালবনের পাশেই রয়েছে প্রায় ৫ কিলোমিটার বিস্তৃত ঐতিহাসিক আশুরার বিল। বর্ষায় বিলজুড়ে ফুটে থাকা শাপলা আর নানা প্রজাতির অতিথি পাখির আনাগোনা পুরো এলাকাকে করে তোলে আরও মনোমুগ্ধকর।

২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর নবাবগঞ্জ বনবিটের এই অঞ্চলকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। জাতীয় উদ্যানটির আয়তন প্রায় ৫১৭.৬১ হেক্টর বা ১,২৭৮.৫০ একর।
তবে জাতীয় উদ্যানের মর্যাদা পাওয়ার ইতিহাসের অনেক আগের এই বনাঞ্চল। স্থানীয়দের মাঝে এই বনকে ঘিরে প্রচলিত রয়েছে নানা কাহিনি ও জনশ্রুতি।

কথিত আছে, কুশদহ, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট পর্যন্ত এই বনের পাঁচটি শাখা বিস্তৃত ছিল। তাই এর আরেক নাম ‘পঞ্চবটী’। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, শিবের কৈলাশবাস ও সীতার বনবাসও নাকি এই বনেই হয়েছিল। এমনকি দস্যু রত্নাকর এই বনেই সাধনায় সিদ্ধিলাভ করে পরবর্তীতে বাল্মীকি মুনি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন—এমন কাহিনিও প্রচলিত রয়েছে।

সবুজ বন, ঐতিহাসিক আসুরার বিল আর রহস্যঘেরা লোককথা—সব মিলিয়ে নবাবগঞ্জ শালবন দিনাজপুরের প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

উত্তরবঙ্গের ‘অ্যামাজন’ খ্যাত শালবন – নবাবগঞ্জ শালবন

Update Time : ১১:৩৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ মেহেদী হাসান ফুলবাড়ী দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত নবাবগঞ্জ শালবন। চরকাই ফরেস্ট রেঞ্জের আওতাধীন এই বিশাল বনাঞ্চল ঘিরে রয়েছে প্রায় দেড় হাজার একর সবুজের সমারোহ।
ঘন শালগাছ আর নির্জন পরিবেশে বনের ভেতরে প্রবেশ করলেই অনুভব হবে এক অন্যরকম শিহরণ। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ছুটে আসেন পর্যটকরা।
শালবনের পাশেই রয়েছে প্রায় ৫ কিলোমিটার বিস্তৃত ঐতিহাসিক আশুরার বিল। বর্ষায় বিলজুড়ে ফুটে থাকা শাপলা আর নানা প্রজাতির অতিথি পাখির আনাগোনা পুরো এলাকাকে করে তোলে আরও মনোমুগ্ধকর।

২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর নবাবগঞ্জ বনবিটের এই অঞ্চলকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। জাতীয় উদ্যানটির আয়তন প্রায় ৫১৭.৬১ হেক্টর বা ১,২৭৮.৫০ একর।
তবে জাতীয় উদ্যানের মর্যাদা পাওয়ার ইতিহাসের অনেক আগের এই বনাঞ্চল। স্থানীয়দের মাঝে এই বনকে ঘিরে প্রচলিত রয়েছে নানা কাহিনি ও জনশ্রুতি।

কথিত আছে, কুশদহ, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট পর্যন্ত এই বনের পাঁচটি শাখা বিস্তৃত ছিল। তাই এর আরেক নাম ‘পঞ্চবটী’। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, শিবের কৈলাশবাস ও সীতার বনবাসও নাকি এই বনেই হয়েছিল। এমনকি দস্যু রত্নাকর এই বনেই সাধনায় সিদ্ধিলাভ করে পরবর্তীতে বাল্মীকি মুনি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন—এমন কাহিনিও প্রচলিত রয়েছে।

সবুজ বন, ঐতিহাসিক আসুরার বিল আর রহস্যঘেরা লোককথা—সব মিলিয়ে নবাবগঞ্জ শালবন দিনাজপুরের প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন।