০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও বর্বরোচিত নির্যাতন: ইয়াবার আসর থেকে বাড়িওয়ালাসহ ২ পাষণ্ড গ্রেফতার

​খাইরুল বাশার, গাজীপুর প্রতিনিধি:
  • Update Time : ০৫:২০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮ Time View

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন উত্তর খাইলকুর এলাকায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে বর্বরোচিত শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দুই পাষণ্ডকে গ্রেফতার করেছে গাছা থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশের এক সাঁড়াশি অভিযানে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।
​গ্রেফতারকৃতরা হলো— শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার কুশাইকুড়া গ্রামের মৃত রাশেদ আলীর ছেলে মো. আনিছুর রহমান (৪৪) এবং স্থানীয় বাড়িওয়ালা মৃত কানা হামেদের ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া (৫২)।
​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী মোছা. মুন্নি আক্তারের (৩৮) দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম রব্বানীর নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযান পরিচালনা করেন এসআই আল আমিন ও তার সঙ্গী ফোর্সের দল। অভিযুক্ত আনিছুর রহমানের নিজ কক্ষ থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং কক্ষের সামনে অবস্থানরত সহযোগী বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীর মিয়াকেও আটক করা হয়। অভিযানের সময় আনিছুরের কক্ষ থেকে ব্যবহৃত ফয়েল পেপার ও গ্যাস লাইটসহ ইয়াবা সেবনের আলামত উদ্ধার করা হয়।
​মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী মুন্নি আক্তার ও প্রধান অভিযুক্ত আনিছুর রহমান ২নং আসামি জাহাঙ্গীর মিয়ার বাড়িতে আলাদা রুমে ভাড়া থাকতেন। প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আনিছুর ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এবং গত এক বছর ধরে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখে। পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আনিছুর ভুক্তভোগীর রুমে ঢুকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
​ধর্ষণের পর ভুক্তভোগী নারী প্রতিবাদ করলে এবং বিয়ের জন্য চাপ দিলে বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীর মিয়া ঘটনাস্থলে এসে উল্টো আনিছুরের পক্ষ নেয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর লোহার রড দিয়ে ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক পেটায়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
​গাছা থানা পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন থাকায় ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল টেস্ট এবং মামলার কিছু আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তাই আপাতত আসামিদের ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। রবিবার হাসপাতালে ভুক্তভোগীর মেডিকেল টেস্ট সম্পন্নের পর মূল অভিযোগে চূড়ান্ত মামলা দায়ের করা হবে। বর্তমানে ভুক্তভোগী নারী পুলিশের হেফাজতে সুরক্ষিত রয়েছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

​গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও বর্বরোচিত নির্যাতন: ইয়াবার আসর থেকে বাড়িওয়ালাসহ ২ পাষণ্ড গ্রেফতার

Update Time : ০৫:২০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন উত্তর খাইলকুর এলাকায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে বর্বরোচিত শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দুই পাষণ্ডকে গ্রেফতার করেছে গাছা থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশের এক সাঁড়াশি অভিযানে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।
​গ্রেফতারকৃতরা হলো— শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার কুশাইকুড়া গ্রামের মৃত রাশেদ আলীর ছেলে মো. আনিছুর রহমান (৪৪) এবং স্থানীয় বাড়িওয়ালা মৃত কানা হামেদের ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া (৫২)।
​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী মোছা. মুন্নি আক্তারের (৩৮) দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম রব্বানীর নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযান পরিচালনা করেন এসআই আল আমিন ও তার সঙ্গী ফোর্সের দল। অভিযুক্ত আনিছুর রহমানের নিজ কক্ষ থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং কক্ষের সামনে অবস্থানরত সহযোগী বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীর মিয়াকেও আটক করা হয়। অভিযানের সময় আনিছুরের কক্ষ থেকে ব্যবহৃত ফয়েল পেপার ও গ্যাস লাইটসহ ইয়াবা সেবনের আলামত উদ্ধার করা হয়।
​মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী মুন্নি আক্তার ও প্রধান অভিযুক্ত আনিছুর রহমান ২নং আসামি জাহাঙ্গীর মিয়ার বাড়িতে আলাদা রুমে ভাড়া থাকতেন। প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আনিছুর ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এবং গত এক বছর ধরে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখে। পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আনিছুর ভুক্তভোগীর রুমে ঢুকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
​ধর্ষণের পর ভুক্তভোগী নারী প্রতিবাদ করলে এবং বিয়ের জন্য চাপ দিলে বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীর মিয়া ঘটনাস্থলে এসে উল্টো আনিছুরের পক্ষ নেয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর লোহার রড দিয়ে ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক পেটায়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
​গাছা থানা পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন থাকায় ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল টেস্ট এবং মামলার কিছু আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তাই আপাতত আসামিদের ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। রবিবার হাসপাতালে ভুক্তভোগীর মেডিকেল টেস্ট সম্পন্নের পর মূল অভিযোগে চূড়ান্ত মামলা দায়ের করা হবে। বর্তমানে ভুক্তভোগী নারী পুলিশের হেফাজতে সুরক্ষিত রয়েছেন।