চৌহালীতে সরকারি চালের ৮০ বস্তা উধাও, গোডাউন সিলগালা
- Update Time : ০৯:০৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৬ Time View

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সরকারি চাল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বাঘুটিয়া ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা ৬০০ বস্তা চালের মধ্যে ৮০ বস্তা চালের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। বরাদ্দের চালের একটি অংশ কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ৫২০ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে গোডাউনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চৌহালী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের সহায়তার জন্য মোট ৫৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি বরাদ্দের এসব চাল নির্ধারিত তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণের কথা রয়েছে। প্রত্যেক উপকারভোগীকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার বিধান রয়েছে।
এই বরাদ্দের আওতায় বাঘুটিয়া ইউনিয়নের জন্য দেওয়া হয় ১৮ মেট্রিক টন চাল। যা ৬০০ বস্তার সমপরিমাণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এসব চাল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তবে বরাদ্দের পুরো চাল নির্ধারিত স্থানে আছে কি না, তা নিয়ে পরবর্তীতে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ পাওয়া যায়, ৬০০ বস্তা চালের মধ্যে ৮০ বস্তা চাল কোনোভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এমনকি ওই চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে।
বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর বরাদ্দের চালের প্রকৃত মজুত যাচাই করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট গোডাউনে অভিযান চালান চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান শাকিল।
অভিযান চালিয়ে গোডাউনে থাকা সরকারি চালের বস্তা গণনা করা হলে দেখা যায়, সেখানে ৬০০ বস্তার পরিবর্তে ৫২০ বস্তা চাল রয়েছে। অর্থাৎ হিসাব অনুযায়ী ৮০ বস্তা চাল কম পাওয়া যায়। এতে বরাদ্দের চালের একটি বড় অংশের ব্যবস্থাপনা ও বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযানের পর গোডাউনে থাকা ৫২০ বস্তা চাল অন্যত্র সরিয়ে না নেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোডাউনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান শাকিল বলেন, ‘আমরা ৬০০ বস্তা চাল না পেয়ে ৫২০ বস্তা চাল পেয়েছি। প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমানকে বুধবার ডাকা হয়েছিল। তবে তিনি আসেননি। তিনি পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি চালের ঘাটতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বরাদ্দের ৮০ বস্তা চাল কোথায় গেছে, কীভাবে তা গোডাউন থেকে বের হয়েছে এবং অভিযোগ অনুযায়ী তা কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি খাদ্য সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব চাল যথাসময়ে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন। বরাদ্দের চালের ঘাটতির ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি চালের ঘাটতির প্রকৃত কারণ বের করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















