০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাফ নদীতে বিজিবির অভিযান: ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, পালিয়ে গেল পাচারকারী

রিপোর্টার আজিজুল হাকিম তুহিন
  • Update Time : ০৭:৫০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৭ Time View

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদী ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচারের সময় বিজিবির অভিযানে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাঠের নৌকাও জব্দ করা হয়। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারে জড়িত ব্যক্তি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর নাজিরপাড়া বিওপির সদস্যরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নাফ নদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে নাফ নদী হয়ে ইয়াবার চালান বাংলাদেশে ঢোকার সম্ভাব্য তথ্য পাওয়ার পর নাজিরপাড়া বিওপির সদস্যরা সীমান্তের বিআরএম-৬ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে বিএসপি পোস্টসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেন। সেখানে শুরু হয় বিশেষ নজরদারি।

অভিযানের প্রায় ২০ মিনিট পর মিয়ানমারের দিক থেকে একটি হস্তচালিত কাঠের নৌকায় করে এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখা যায়। তার চলাফেরা সন্দেহজনক হওয়ায় বিজিবি সদস্যরা তাকে থামানোর চেষ্টা করলে তিনি দ্রুত পাশের একটি খালের দিকে ছুটে যান এবং পানিতে ঝাঁপ দেন।

এ সময় তার সঙ্গে থাকা ইয়াবার প্যাকেট পানিতে পড়ে যায়। পরে ওই ব্যক্তি সাঁতরে অন্য পাশে গিয়ে আত্মগোপন করেন।

ঘটনার পর বিজিবির সদস্যরা আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পানিতে ভাসমান অবস্থায় ইয়াবার প্যাকেটগুলো উদ্ধার করেন। গণনা শেষে সেখানে মোট ২০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত কাঠের নৌকাটিও জব্দ করা হয়।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির নজরদারি ও অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে নাফ নদী ও দুর্গম সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টহল এবং বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে বিজিবির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

উদ্ধার করা ইয়াবা ও জব্দ নৌকার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

নাফ নদীতে বিজিবির অভিযান: ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, পালিয়ে গেল পাচারকারী

Update Time : ০৭:৫০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদী ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচারের সময় বিজিবির অভিযানে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাঠের নৌকাও জব্দ করা হয়। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারে জড়িত ব্যক্তি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর নাজিরপাড়া বিওপির সদস্যরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নাফ নদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে নাফ নদী হয়ে ইয়াবার চালান বাংলাদেশে ঢোকার সম্ভাব্য তথ্য পাওয়ার পর নাজিরপাড়া বিওপির সদস্যরা সীমান্তের বিআরএম-৬ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে বিএসপি পোস্টসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেন। সেখানে শুরু হয় বিশেষ নজরদারি।

অভিযানের প্রায় ২০ মিনিট পর মিয়ানমারের দিক থেকে একটি হস্তচালিত কাঠের নৌকায় করে এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখা যায়। তার চলাফেরা সন্দেহজনক হওয়ায় বিজিবি সদস্যরা তাকে থামানোর চেষ্টা করলে তিনি দ্রুত পাশের একটি খালের দিকে ছুটে যান এবং পানিতে ঝাঁপ দেন।

এ সময় তার সঙ্গে থাকা ইয়াবার প্যাকেট পানিতে পড়ে যায়। পরে ওই ব্যক্তি সাঁতরে অন্য পাশে গিয়ে আত্মগোপন করেন।

ঘটনার পর বিজিবির সদস্যরা আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পানিতে ভাসমান অবস্থায় ইয়াবার প্যাকেটগুলো উদ্ধার করেন। গণনা শেষে সেখানে মোট ২০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত কাঠের নৌকাটিও জব্দ করা হয়।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির নজরদারি ও অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে নাফ নদী ও দুর্গম সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টহল এবং বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে বিজিবির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

উদ্ধার করা ইয়াবা ও জব্দ নৌকার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।