পার্বতীপুরে প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ১
- প্রকাশের সময় : ০৮:৩৫:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 12

রাস্তার বিরোধ ও বাড়ি নির্মাণের মালামাল কেনা নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যার অভিযোগ, মামলা দায়ের
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রাস্তার বিরোধ ও বাড়ি নির্মাণের মালামাল কেনা নিয়ে বিরোধের জেরে মনোরঞ্জন রায় (৫৫) নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ আসাদুজ্জামান (৩৬) নামে এক যুবককে আটক করেছে। নিহতের ছেলে বাদী হয়ে পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
গত ২৫ অক্টোবর রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের রাবেয়ার মোড় এলাকার সোনাপুকুর নয়া মোল্লাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে স্থানীয় একটি ধানক্ষেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত মনোরঞ্জন রায়ের সঙ্গে একই এলাকার মৃত আজিজুর রহমানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ছিল। আজিজুর রহমানের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব নেন মনোরঞ্জন। সেই সূত্রে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে আজিজুর রহমানের স্ত্রী রোমানা বেগম ও তাঁর সন্তানেরা পুরোনো বাড়ি ভেঙে এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে নতুন বাড়ি নির্মাণ করেন। এতে প্রতিবেশীদের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। এ নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পর্যাপ্ত জায়গা না ছেড়ে বাড়ি নির্মাণের জন্য মনোরঞ্জন রায়কে দায়ী করে কয়েকজন প্রতিবেশী তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এ ছাড়া নতুন বাড়ি নির্মাণের কাঠ, টিনসহ বিভিন্ন মালামাল কেনা এবং নির্মাণশ্রমিক ঠিক করা নিয়েও বিরোধের কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ক্ষেত্রে রোমানা বেগমের ধর্মপিতা ফরতাজ হোসেন ও শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়ের প্রস্তাবিত দামের মধ্যে পার্থক্য ছিল। শেষ পর্যন্ত মনোরঞ্জনের প্রস্তাব অনুযায়ী মালামাল কেনা ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ায় ফরতাজ ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে ফরতাজ হোসেন রোমানা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। পরে রোমানা মুঠোফোনে মনোরঞ্জন রায়কে বিষয়টি জানিয়ে বাড়িতে আসতে বলেন। বেলা ১১টার দিকে মনোরঞ্জন আজিজুর রহমানের বড় ভাইকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছালে ফরতাজের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মনোরঞ্জন ফরতাজকে চড় মারেন বলে জানা গেছে।
এরপর ফরতাজ কয়েকজন প্রতিবেশীকে ডেকে আনেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা বাঁশের খুঁটি, কাঠের বাতা ও লাঠিসহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে মনোরঞ্জনকে মারধর করেন। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আজিজুরের পরিবারের সদস্যরাও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে মনোরঞ্জন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে কয়েকজন তাঁকে ধাওয়া করেন। পরে তাঁকে মারতে মারতে প্রায় ১৫০ মিটার দূরে একটি ধানক্ষেতে ফেলে রেখে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। দুপুর আড়াইটার দিকে এক ব্যক্তি ধান কাটার জন্য ঘাস সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁকে সেখানে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আসাদুজ্জামানকে আটক করা হয়। অন্য অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
নিহত মনোরঞ্জন রায় চিরিরবন্দর উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের চকসুকদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি চকসুকদেবপুর গ্রামের মালিপাড়ার অসীম চন্দ্র রায়ের ছেলে।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, নিহতের বড় ছেলে চন্দন কুমার রায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



















