০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লৌহজংয়ে রাতের আঁধারে মাটি কাটার অভিযোগ, বিপাকে জমির মালিকরা

ফৌজি হাসান খান রিকু লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৮:২১:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৫৪ Time View

ভোররাত হলেই শুরু হয় মাটি কাটার কাজ। পরে ট্রলি ও মাহিন্দ্রায় করে সেই মাটি চলে যায় বিভিন্ন এলাকায়। এমন অভিযোগ উঠেছে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির পাশাপাশি সরকারি খালের পাড় থেকেও মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খাল, পরিবেশ ও স্থানীয় সড়ক।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সাতঘড়িয়া এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে ভোররাতে মাটি কাটার ঘটনা ঘটছে। মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহনের চলাচলে সম্প্রতি নির্মিত স্থানীয় সড়কটিরও ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
সাতঘড়িয়া মৃধাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শিপু মৃধার বিরুদ্ধে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জমির মালিক লাইজু আক্তার বলেন, ২০২২ সালে সাতঘড়িয়া মৌজায় তিনি ১১ শতাংশ ৩০ পয়েন্ট জমি কেনেন। জমিটি ভোগদখলে রেখে সেখানে বিভিন্ন ফলদ ও কাঠজাতীয় গাছ লাগান। তাঁর অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে ওই জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। একইভাবে পাশের সরকারি হলদিয়া-গোয়ালীমান্দ্রা খালের সাতঘড়িয়া অংশ থেকেও মাটি কাটার অভিযোগ করেন তিনি।

লাইজু আক্তারের স্বামী কাওছার অভিযোগ করে বলেন, জমি থেকে মাটি কাটতে বাধা দেওয়ার পর তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, তাঁরা নিয়মিত গ্রামে বসবাস না করায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

সরেজমিনে সাতঘড়িয়া মুরগির খামারসংলগ্ন এলাকায় মাটি কাটার চিহ্ন দেখা গেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাটি কাটার কাজ চলে। পরে বিভিন্ন যানবাহনে করে মাটি অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিপু মৃধা। তিনি বলেন, সরকারি খাল থেকে তিনি কোনো মাটি কাটছেন না, নিজের জমির মাটি বিক্রি করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, সরকারি খাল থেকে মাটি কাটার বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে মাটি কাটার ক্ষেত্রেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি খালের বিষয়টিও খোঁজ নিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি খাল ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগটি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হবে এবং অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

লৌহজংয়ে রাতের আঁধারে মাটি কাটার অভিযোগ, বিপাকে জমির মালিকরা

Update Time : ০৮:২১:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

ভোররাত হলেই শুরু হয় মাটি কাটার কাজ। পরে ট্রলি ও মাহিন্দ্রায় করে সেই মাটি চলে যায় বিভিন্ন এলাকায়। এমন অভিযোগ উঠেছে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির পাশাপাশি সরকারি খালের পাড় থেকেও মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খাল, পরিবেশ ও স্থানীয় সড়ক।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সাতঘড়িয়া এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে ভোররাতে মাটি কাটার ঘটনা ঘটছে। মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহনের চলাচলে সম্প্রতি নির্মিত স্থানীয় সড়কটিরও ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
সাতঘড়িয়া মৃধাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শিপু মৃধার বিরুদ্ধে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জমির মালিক লাইজু আক্তার বলেন, ২০২২ সালে সাতঘড়িয়া মৌজায় তিনি ১১ শতাংশ ৩০ পয়েন্ট জমি কেনেন। জমিটি ভোগদখলে রেখে সেখানে বিভিন্ন ফলদ ও কাঠজাতীয় গাছ লাগান। তাঁর অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে ওই জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। একইভাবে পাশের সরকারি হলদিয়া-গোয়ালীমান্দ্রা খালের সাতঘড়িয়া অংশ থেকেও মাটি কাটার অভিযোগ করেন তিনি।

লাইজু আক্তারের স্বামী কাওছার অভিযোগ করে বলেন, জমি থেকে মাটি কাটতে বাধা দেওয়ার পর তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, তাঁরা নিয়মিত গ্রামে বসবাস না করায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

সরেজমিনে সাতঘড়িয়া মুরগির খামারসংলগ্ন এলাকায় মাটি কাটার চিহ্ন দেখা গেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাটি কাটার কাজ চলে। পরে বিভিন্ন যানবাহনে করে মাটি অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিপু মৃধা। তিনি বলেন, সরকারি খাল থেকে তিনি কোনো মাটি কাটছেন না, নিজের জমির মাটি বিক্রি করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, সরকারি খাল থেকে মাটি কাটার বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে মাটি কাটার ক্ষেত্রেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি খালের বিষয়টিও খোঁজ নিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি খাল ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগটি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হবে এবং অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।