অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক আপসহীন কণ্ঠস্বর: নির্ভীক সাংবাদিক এম আনোয়ার হোসেন
- প্রকাশের সময় : ০৭:০২:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 10

দৈনিক ‘জনবাণী’-র স্টাফ রিপোর্টার এম আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকতা জগতে সততা ও সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ক্ষমতার লোভ কিংবা অন্ধকারের চোখ রাঙানি—কোনো কিছুই তাঁর সত্য প্রকাশের অদম্য ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তাঁকে প্রতিনিয়ত পাড়ি দিতে হচ্ছে এক বিপদসংকুল পথ। তাঁর পেশাগত অবদান, লড়াকু জীবন এবং ত্যাগের গল্প নিয়ে আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদন।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও সাহসিকতার লড়াই
এম আনোয়ার হোসেন তাঁর পেশাগত জীবনের শুরু থেকেই জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা অসংগতি, দুর্নীতি এবং সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ মানুষের বঞ্চনার চিত্র তিনি চরম সাহসিকতার সাথে জাতির সামনে উন্মোচন করেছেন। হলুদ সাংবাদিকতার এই যুগে তথ্যের শতভাগ বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে তিনি এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
হামলা-মামলার মুখেও সোজা মেরুদণ্ড
সত্যের পক্ষে কলম ধরা মানেই সুপ্ত আগ্নেয়গিরির ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া। প্রভাবশালী মহল কিংবা দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের অনিয়ম ফাঁস করতে গিয়ে এম আনোয়ার হোসেনকে বহুবার বর্বরোচিত শারীরিক হামলা ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তাঁর কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে স্বার্থান্বেষী মহল বারবার হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তিনি অত্যন্ত বীরত্বের সাথে প্রতিটি প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেছেন; কিন্তু কখনো পরাভব মানেননি।
জীবনের অন্তহীন সংগ্রাম ও না-বলা আত্মত্যাগ
বাইরে থেকে একজন সাংবাদিকের জীবনকে যতটা গ্ল্যামারাস মনে হয়, ভেতরের বাস্তব চিত্রটা ততটাই কণ্টকাকীর্ণ। দিনরাত এক করে দেশ ও দশের সেবায় কাজ করতে গিয়ে নিজের পরিবার ও প্রিয়জনদের সময় দেওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সামাজিক নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও কেবল সাংবাদিকতার প্রতি অগাধ, পবিত্র ভালোবাসা থেকেই তিনি এই মহান পেশাকে পরম যত্নে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন।
সাংবাদিক এম আনোয়ার হোসেনের জবানবন্দি
নিজের আদর্শ ও পেশা নিয়ে সাংবাদিক এম আনোয়ার হোসেনের কিছু হৃদয়স্পর্শী ও নাড়া দেওয়ার মতো বক্তব্য:
“সাংবাদিকতা কেবলই কোনো জীবিকা নয়, এটি একটি পবিত্র সামাজিক দায়িত্ব। দুর্নীতি আর অনিয়মের বিরুদ্ধে যখন আপনি কলম ধরবেন, তখন চারপাশ থেকে বাধা আসবেই। হামলা বা মামলার ভয় দেখিয়ে যদি সাংবাদিকদের থামিয়ে রাখা যেত, তবে এই সমাজ কবেই অন্ধকারে তলিয়ে যেত। আমি ভয়কে জয় করেই মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে এসেছি, এবং জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বলে যাবো।”
উপসংহার
এম আনোয়ার হোসেনের সংগ্রামী জীবন ও কর্ম আমাদের দেখিয়ে দেয় যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বাধীন ও সৎ সাংবাদিকতা রক্ষা করা কতটা গৌরবের। কোনো প্রকার প্রলোভন, হামলা, মামলা কিংবা ভয়ের সংস্কৃতি তাঁর সততাকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারেনি। তাঁর এই আপসহীন মনোভাব এবং সাহসী কলম বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনন্তকাল ধরে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

























